সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : কানাডার আদালতে পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতি ষড়যন্ত্রের বিষয়টি মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় এই অভিযোগে সমর্থন জানানো বুদ্ধিজীবীদের করজোরে দেশবাসীর কাছে কাছে ক্ষমা চওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

সচিবালয়ে রবিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) শ্রীলঙ্কার হাইকমিশনার ইয়াসোজা গুনাসেকারার সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।

পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের কোনো প্রমাণ পাননি কানাডার অন্টারিওর আদালত। ষড়যন্ত্রের তথ্যপ্রমাণ হিসেবে ফোনে আড়ি পেতে ধারণ করা যেসব তথ্য আদালতে উপস্থাপন করতে আবেদন করা হয়, তা নিছক গুজব বলে ১০ ফেব্রুয়ারি প্রত্যাখ্যান করেছেন অন্টারিওর আদালত। তিনজনকে মামলা থেকে অব্যাহতিও দেওয়া হয়েছে। এ দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে পদ্মা সেতু প্রকল্পের ঋণ বাতিল করেছিল বিশ্বব্যাংক।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘২০১৫ সালে পদ্মা সেতুর কাজ শেষ হওয়ার কথা। আজকে ২০১৭ চলছে। দক্ষিণাঞ্চলে কত অর্থনৈতিক উন্নতি হত, কত শত শত কোটি টাকা আমাদের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমাদের জিডিপি গ্রোথ আরও কমপক্ষে ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেত। তারা অভিযোগ করেছিল দুর্নীতির ষড়যন্ত্র, দুর্নীতির ষড়যন্ত্র তো প্রমাণিত হয়নি, বরং তারা ষড়যন্ত্র করেছিল।’

তিনি বলেন, ‘ষড়যন্ত্র করেছিল ড. ইউনূস। সকলের জানা তিনি (ড. ইউনূস) হিলারি ক্লিনটনের সাথে সংযোগ স্থাপন করে আমাদের উন্নয়নমূলক এ কাজটা যাতে না হতে পারে সেই ব্যবস্থা করেছিলেন। তাদের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়েছিল আমাদের বুদ্ধিজীবীদের একটি অংশ। তারা টকশো, বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে একইভাবে তারা কণ্ঠ মিলিয়েছিল।’

তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় সঠিকভাবে বলেছেন, তাদের (ষড়যন্ত্রকারী) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার। বিদ্যান লোক যারা টকশোতে যায়, যারা সমালোচনা করেছিলেন তাদের কি হবে? এদের ক্রেডিবিলিটি নাই, ক্রেডিবিলিটি নষ্ট হয়ে গেছে। এদের এখন জাতির কাছে করজোরে ক্ষমা চাওয়া উচিত।’

হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শ্রীলঙ্কার সঙ্গে আমরা এফটিএ (ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট-মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি) করতে চলেছি। ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট হলে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আরও বৃদ্ধি পাবে। আমরা এক দেশ অন্য দেশকে সুবিধা দিতে ইতোমধ্যে ঐক্যমতে পৌঁছেছি।’

‘আমরা শীলঙ্কায় ওষুধ, কাগজ, সিমেন্টসহ অনেক কিছু রফতানি করতে পারি কিন্তু ডিউটির উচ্চতার কারণে সেটা আমাদের সম্ভব হয়ে উঠে না। এ ব্যাপারে আরও নমনীয় হতে আমরা একমত হয়েছি’ বলেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তোফায়েল।

কবে নাগাদ এফটিএ সই হতে পারে- এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘সচিব পর্যায়ে আলোচনা চলছে, এছাড়া টেকনিক্যাল কমিটি কাজ করছে। আশা করি খুব তাড়াতাড়ি এটা করতে সক্ষম হব।’

এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন উপস্থিত ছিলেন।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম