সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : অধঃস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধিমালা গেজেট পুনর্বিবেচনার জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়েছে। নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

রাষ্ট্রের আইন কর্মকর্তা বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট ও আইন মন্ত্রণালয়ের আলোচনার প্রেক্ষিতে বিধিমালার কিছু সংশোধন করে তা রাষ্টপতির কাছে পাঠানো হয়েছে। আমরা আদালতের কাছে দুই সপ্তাহ সময় চেয়েছি। আশা করি এই সময়ের মধ্যে গেজেট হবে। গেজেট হলে অচলাবস্থার অবসান হবে।’

অধঃস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশ করে তা আদালতে উপস্থাপনের জন্য ১২ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য ছিল। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ আরো দুই সপ্তাহ সময় আবেদন করেন। এ সময় বার বার সময়ের আবেদন করার কারণ লিখিত আকারে সোমবার জানাতে নির্দেশ দেয় প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাসহ আট বিচারপতির বেঞ্চ।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘রুলস প্রণয়ন করবেন রাষ্ট্রপতি। মন্ত্রণালয় থেকে আমাকে জানানো হয়েছে এখন আর কোন সমস্যা নেই। বিধিমালা জারি করা হবে। রুলস না থাকলে বিশৃঙ্খলার বিষয়টি থেকে যায়। আইন মন্ত্রণালয় ও বিচার বিভাগের এমন সম্পর্ক থাকা উচিত যাতে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়।’

অধঃস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশ করতে বার সময় নিচ্ছে সরকার। গেজেট প্রকাশ না করায় ইতিমধ্যে আইন মন্ত্রণালয়য়ের দুই সচিবকে তবল করে আপিল বিভাগ। এছাড়া রাষ্ট্রপতি একটি পরিপত্র জারির মধ্যে শৃঙ্খলাবিধি গেজেট আকারে প্রকাশের প্রয়োজন নেই উল্লেখ করে পরিপত্র জারি করলে আপিল বিভাগ বলে, রাষ্ট্রপতিকে ভুল বুঝানো হয়েছে। এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করতে হবেই বলেই আদেশ দেন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ।

১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর মাসদার হোসেন মামলায় ১২ দফা নির্দেশনা দিয়ে রায় দেয়া হয়। ওই রায়ের আলোকে নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা ছিল। আপিল বিভাগের নির্দেশনার পর গত বছরের ৭ মে আইন মন্ত্রণালয় একটি খসড়া শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধি প্রস্তুত করে সুপ্রিম কোর্টে পাঠায়।

গত ২৮ আগস্ট এই মামলার শুনানিতে আপিল বিভাগ জানান, শৃঙ্খলা বিধিমালা সংক্রান্ত সরকারের খসড়াটি ছিল ১৯৮৫ সালের সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার হুবহু অনুরূপ। যা মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পরিপন্থী। এরপরই সুপ্রিম কোর্ট একটি খসড়া বিধিমালা করে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। একইসঙ্গে ৬ নভেম্বরের মধ্যে তা প্রণয়ন করে প্রতিবেদন আকারে আদালতকে অবহিত করতে আইন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেয়।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতার নয় বছরপূর্তি উপলক্ষে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা গত ৩১ অক্টোবর এক বাণীতে বিচার বিভাগে দ্বৈত শাসন চলছে বলে উল্লেখ করেছেন। বাণীতে তিনি বলেন, সংবিধানের ১০৯ অনুচ্ছেদে অধস্তন সকল আদালত ও ট্রাইব্যুনালের ওপর হাইকোর্টের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ থাকবে বলা হয়েছে। কিন্তু ১১৬ অনুচ্ছেদে যে বিধান দেওয়া হয়েছে তা বিচার বিভাগের ধীরগতির অন্যতম কারণ। এই অনুচ্ছেদ অনুসারে অধঃস্তন আদালতের বিচারকদের পদোন্নতি, বদলি এবং শৃঙ্খলামূলক কার্যক্রম সুপ্রিম কোর্টের পক্ষে এককভাবে গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না। দ্বৈত শাসনের ফলে বহু জেলায় শূন্য পদে সময়মত বিচারক নিয়োগ প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে বিচার কাজে বিঘ্ন ঘটে এবং বিচারপ্রার্থী জনগণের ভোগান্তি বেড়ে যায়। ১১৬ অনুচ্ছেদ পুনঃ প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি বানীতে উল্লেখ করেন।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম