সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি) নিয়ে ঘোর আপত্তি জানালেও আগামী নির্বাচন নিয়ে ভাবছে বিএনপি। ইতোমধ্যে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশনা দিয়েছেন। নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের প্রস্তাব নিয়ে শিগগির গণমাধ্যমের সামনে হাজির হবেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

শনিবার রাতে বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যানদের সঙ্গে বৈঠক সূত্রে এসব খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। সাংগঠনিক কার্যক্রম তরান্বিত করতে বিএনপি প্রধান ধারাবাহিকভাবে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শুরু করেছেন। ভাইস চেয়ারম্যানদের পর আজ বসছেন উপদেষ্টাদের সঙ্গে।

তত্ত্বাবধায়কের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে অনড় অবস্থান নিয়ে দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি। শুরু থেকে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে আপত্তি জানিয়ে এলেও আগামী নির্বাচনে দলটির অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো পথ খোলা নেই। কারণ পরপর দুবার নির্বাচন বর্জন করলে নিবন্ধন বাতিল হয়ে যাবে। এই বিষয়টি নিয়ে দুঃচিন্তায় বিএনপির হাইকমান্ড। এজন্য নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দাবি করলেও শেষ পর্যন্ত দলীয় সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে হতে পারে। সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে-এ ব্যাপারে শক্ত অবস্থানে রয়েছে আওয়ামী লীগ।

নির্বাচন কমিশন নিয়ে আপত্তি করা বিএনপি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবিতে সক্রিয় থাকবে বলে জানা গেছে। তবে এবার তারা তত্ত্বাবধায়ক নয়, ‘সহায়ক সরকার’ নামে নির্বাচনকালীন সরকার চায়। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শিগগিরই বিএনপি চেয়ারপারসন সংবাদ সম্মেলনে আসবেন। সেখানে সহায়ক সরকারের রূপরেখা তুলে ধরবেন। গত নভেম্বরে নির্বাচন কমিশন গঠনে ১৩ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেছিলেন খালেদা জিয়া। সেই আলোকে সহায়ক সরকারের বিষয়ে বেশ কিছু নির্দেশনা সম্বলিত সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিতে পারেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

ভাইস চেয়ারম্যানদের সঙ্গে খালেদা জিয়ার বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে এ সম্পর্কে জানতে কথা বললে একাধিক নেতা জানান, নতুন নির্বাচন কমিশন, সহায়ক সরকার, আগামী নির্বাচন, সাংগঠনিক পরিস্থিতি, আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা, চেয়ারপারসনের মামলার কার্যক্রমসহ সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরা চলা বৈঠকে ৩৫জন ভাইস চেয়ারম্যানের মধ্যে ১৯ জন ছিলেন উপস্থিত। বেগম খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, আগামী দিনের সাংগঠনিক কর্মপরিকল্পনা নিয়ে সবার বক্তব্য শুনেন বেগম খালেদা জিয়া। মহাসচিব এসব বক্তব্য নোট করেন। সবশেষ চেয়ারপারসন নেতাদের নিজেদের মধ্যে ভেদাভেদ ভুলে সবাইকে নিজ নিজ এলাকায় যাওয়ার জন্য বলেন। মূলদল ও সংগঠনকে শক্তিশালী করতে কাজ করার নির্দেশ দেন।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান বলেন,  ‘চেয়ারপারসন প্রত্যেককেই যার যার এলাকায় যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সংগঠনকে শক্তিশালী করতে নিজেদের মধ্যে ভেদাভেদ ভুলে কাজ করার জন্য বলেছেন।’

নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন কি না এমন প্রশ্নে সরাসরি উত্তর না দিয়ে তিনি বলেন, ‘বিএনপি গণতান্ত্রিক ও নির্বাচনমুখী দল। নির্বাচনের মাধ্যমেই আমরা ক্ষমতায় আসতে চাই। অন্য কোনো উপায়ে নয়। সুতরাং দল হিসেবে অবশ্যই আমাদের নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। তবে আমরা নির্বাচনের জন্য সবসময় প্রস্তত।’

আরেক ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘বৈঠকে সিইসি একে এম নুরুল হুদার নিরপেক্ষতা, জনতার মঞ্চের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া নিজ এলাকায় রাজনৈতিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ, সিইসি হওয়ার পর ফুলেল শুভেচ্ছা গ্রহণ, গণমাধ্যমে দেয়া বক্তব্য সব বিষয়ই আলোচনায় উঠে এসেছে।

এছাড়া দুর্নীতি মামলায় প্রতি সপ্তাহে চেয়ারপারসনের আদালতে হাজিরা দেয়ার পেছনে সরকারের পক্ষ থেকে চাপ আছে এমন দাবি করে অনেকে বক্তব্য দিয়েছেন। কেউ কেউ বলেছেন, এই মামলায় সরকার তাকে দ্রুত রায় দিয়ে সাজা দিতে চায়। তবে চেয়ারপারসন তার মামলার বিষয় নিয়ে তেমন কিছু বলেননি বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বৈঠকে ছিলেন এমন একজন ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, ‘সরাসরি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে না বললেও আকারে ইঙ্গিতে নেতাদের এমনটাই বুঝিয়েছেন চেয়ারপারসন। ম্যাডাম বলেছেন, এলাকায় যান সবাই। সংগঠন গোছানোর জন্য কাজ করুন।’


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম