সংবাদ শিরোনাম

 

ঝিনাইগাতী প্রতিনিধি : শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার সীমান্তবর্তী পাহাড়ি গ্রামগুলোতে বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গ্রামগুলো হচ্ছে- তাওয়াকুচা, পানবর, গুরুচরণ দুধনই, ছোট গজনী, বড় গজনী, গান্ধিগাঁও, ফুলহাড়ি, বাকাকুড়া, হালচাটী, নওকুচি ও রাংটিয়া।
এসব গ্রামগুলোতে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় খাল, বিল, নদী-নালা, পুকুর জলাশয়গুলো শুকিয়ে গেছে। অনেক নলকূপ হয়ে পড়েছে অকেজো। ফলে খাবার পানির জন্যে হাহাকার পড়ে গেছে।

খাবার পানি তো দূরের কথা, কৃষকরা তাদের গবাদিপশুর গোসলসহ গৃহস্থালির অন্যান্য কাজেও পানি ব্যবহার করতে পারছে না। কোনো কোনো গ্রামে একটি নলকূপে পানি উঠলে পুরো গ্রামবাসীরা ওই নলকূপ থেকে পানি সংগ্রহের জন্য ভীড় করছেন।

এসব গ্রামের বিভিন্ন বয়সের নারী ও পুরুষ দূরদুরান্ত থেকে পায়ে হেটে ২/৩ মাইল দূর থেকে ভ্যান গাড়ি যোগে খাবার পানি সংগ্রহ করছেন।

যদিও সরকার ও এনজিওর মাধ্যমে বিভিন্ন সময় বেশ কিছু রিংওয়েল নলকূপ স্থাপন করা হয়েছিল কিন্তু সেগুলো এখন অকেজো হয়ে পড়েছে।

ঝিনাইগাতী উপজেলার ছোট গজনি গ্রামের বাসিন্দা বৃদ্ধ সুমেন্দ্র সাংমা ও পরিমল সাংমা জানান, ডিসেম্বর থেকে মে মাস পযর্ন্ত এখানে খাবার পানির তীব্র সংকট থাকে। পাহাড়ী গ্রামগুলোর মাটির নিচে পাথর, তাই এখানে নলকূপ স্থাপন করা যায় না। তবে রিংওয়েল টিউবওয়েল স্থাপন করে পানি উত্তোলন করতে হয়। আর এতে ব্যয় হয় প্রায় তিন লাখ টাকা। দরিদ্রতার কারণে আদিবাসী অধ্যুষিত পাহাড়ি গ্রামবাসীদের পক্ষে তা সম্ভব হচ্ছে না।

কাংশা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হক বলেন, পাহাড়ি গ্রামবাসীরা অনেক দিন ধরেই বিশুদ্ধ পানির সংকটে ভুগছেন। খাবার পানির পাশাপাশি গৃহস্থলি সব ধরনের কাজকর্মসহ কৃষিতে সেচের পানিরও তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। কিন্তু সরকারি বরাদ্দ না থাকায় খাবার পানির সংকটে থাকা মানুষের জন্য কিছুই করতে পারছি না।

উপজেলা ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান নবেশ খকশি জানান, আদিবাসী অধ্যুষিত পাহাড়ি  গ্রামবাসীরা বিশুদ্ধ পানির সংকটে রয়েছেন। বিশেষ করে কাংশা ও নলকুড়া ইউনিয়নের গ্রামবাসীরা।

সরকারের কাছে এসব এলাকায় সেমি ডিফ টিউবওয়েল স্থাপনের দাবি জানান তিনি।

ঝিনাইগাতী উপজেলা জনস্বাস্থ্য উপসহকারী প্রকৌশলী মাজেদুর রহমান বিশুদ্ধ পানি সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, শুষ্ক মৌসুমে এ উপজেলার প্রায় ৫টি ইউনিয়নে বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দেয়। ফলে বিশুদ্ধ পানির জন্য প্রতিবছরই কষ্ট করে জনসাধারণ। তবে রিংওয়েল টিউবওয়েল বসানো হলে পানির সংকট কমেছে যাবে।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম