সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : সোমবার পহেলা ফাল্গুন। পরের দিন ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। ফাগুন এবং ভালোবাসা দিবস নিয়ে আগে থেকেই থাকে নানা প্রস্তুতি।

তবে এ বছর ফাগুন আর ভালোবাসা দিবস পরপর হওয়ায় উৎসবের আমেজটা একটু বেশিই হবে। বিশেষ করে তরণ-তরুণীদের।

এই দিনটা পালনে আরো বেশি উৎসবে পরিণত হবে বইমেলা। ফাল্গুনের ডাকে, বসন্তের আবাহনে সাড়া দিয়ে হাজারো বইপ্রেমী মানুষ সারাদিন যে যেখানেই থাকুক, শেষ বেলায় ছুটে আসবেন বইমেলায়। শুধু ফাগুনের দিন নয়, ভালোবাসা দিবসেও থাকবে একই চিত্র।

কেউ সোমবারই আসবেন পছন্দের বই কিনে পছন্দের মানুষকে উপহার দিতে। আবার কেউ কেউ প্রিয় বইটি রেখে দেবেন ভালোবাসা দিবসের উপহার হিসেবে। বই তুলে দেবেন প্রিয় মানুষটির হাতে। সাথে থাকবে ভালোবাসার গোলাপ। তা হোক যে রঙয়েরই। শুধু গোলাপ নয় গোলাপের সাথে মিশবে আরো নানা রঙের ফুল। নারীদের মাথায় শোভা পাবে ফুলের বেনি।

আহা ‘আজি এ বসন্তে কত ফুল ফোঁটে কত বাঁশি বাজে কত পাখি গায়..’। কিংবা ‘ফুল ফুটুক আর নাই ফুটুক আজ বসন্ত’। কিংবা ‘ফুলের বনে যার পাশে যাই তারেই লাগে ভালো..।’ কিংবা শাহ আবদুল করিমের ‘বসন্ত বাতাসে.. সই গো বসন্ত বাতাসে, বন্ধুর বাড়ির ফুলের গন্ধ আমার বাড়ি আসে।’

সোমবার এসব অমর পংক্তিমালা আমাদের দেহে-মনে-মননে তরঙ্গায়িত হবে বারবার। দুলে উঠবে মনে মায়ার ও ভালোবাসার খেলা।

ভারত থেকে বইমেলায় আসা কমল কান্তি বনিক বলেন, ‘বসন্ত এলে আমাদের মন আনচান করতে থাকে। পুলকে, শিহরণে কেঁপে উঠে বুক। শিমুল গাছে রক্তিম ফুলেরা গন্ধ  বিলাতে থাকে। চারিদিকে নয়নাভিরাম অপরূপ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বসন্ত রঙে রঙিন হয়ে উঠে মানুষের মন। এ বছর পহেলা ফাল্গুন বাংলাদেশে কাটাচ্ছি। আশা করছি দিনটি খুব ভালোভাবেই কাটবে।’

বসন্তের প্রথমদিনে সকাল থেকে চারুকলার বকুলতলায় মানুষ মিলিত হবে। রঙের আলপনায় ভরে যাবে শাহবাগ থেকে চারুকলা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্বর। বাদ যাবে না বইমেলাও। বিকেলে বসন্তের রঙ আঁচড়ে পড়বে মেলাতেও। পাঠক ও দর্শনার্থীরা সাজবেন বাসন্তি সাজে। পুরো মেলা প্রাঙ্গণও সেজে উঠবে হলুদ, কমলা, লালসহ নানা রঙে। ফাগুনের আগেই শাহবাগে ফুলের দোকানগুলোও রয়েছে খুব ব্যস্ত। রোববার সন্ধ্যা থেকেই শুরু হয়েছে তাদের নানা প্রস্তুতি।

বসন্তের প্রথমদিনে সোমবার বিকেল ৩টা থেকেই খুলে যাবে বইমেলার প্রবেশদ্বার।

প্রকাশকরা জানিয়েছেন, ‘সোমবার যেমন দর্শনার্থী আসবেন তেমনি আসবেন বইপাগল মানুষও। মেলাকেন্দ্রিক ঘোরাঘুরি শেষে সবাই নিজের জন্য নিয়ে নেবেন প্রিয় লেখকের পছন্দের বই। এ ছাড়া মঙ্গলবার হচ্ছে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। তাই শুধু নিজের জন্যই নয়, অনেকেই প্রিয় লেখকের বইটি কিনে দেবেন একান্ত প্রিয়জন, প্রিয় বন্ধু কিংবা পরিবারের কোনো সদস্যের হাতে।
book-fair-BG120170212202543
বসন্তের প্রথমদিন উপলক্ষে দর্শনার্থীর সঙ্গে পাঠকের সংখ্যা বাড়বে এমন প্রত্যাশায় রয়েছেন প্রকাশকরা। তাই পাঠক প্রচুর হলে বিক্রিও হবে ব্যাপক।

এ প্রসঙ্গে ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশের স্বত্বাধিকারী জহিরুল আবেদীন জুয়েল বলেন, বইমেলার এবারের আয়োজন অসাধারণ। অন্যান্য যে কোনো বারের চেয়ে আলাদা। আশা করছি মেলার সামনের দিনগুলোতে বই বিক্রি কয়েকগুণ বেড়ে যাবে।

তিনি বলেন, গত শুক্রবার থেকেই বইমেলা পরিপূর্ণতা পেয়েছে। ভালোবাসা দিবসে মেলায় মানুষের ঢল নামবে।

শুধু ছুটির দিন কেন, বইমেলা শুরুর পর থেকে প্রতিদিনই অসংখ্য দর্শনার্থী ও পাঠক মেলায় আসছেন। বিশেষ করে তরুণদের আগমনে বইমেলা মুখরিত হয়ে উঠছে। এ প্রসঙ্গে অনুপম প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী মিলন কান্তি নাথ বলেন, পয়লা ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবসে সব সময়ই ভালো বেচাকেনা হয়। আশা করি এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটবে না। এই দুই দিনে মেলাটি আরো জমবে বলে আশা করছি।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম