সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : পদ্মাসেতু প্রকল্পে দুর্নীতির ‘গালগপ্পের’ অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন বাতিলের সিদ্ধান্তে ইন্ধন যোগানোর অভিযোগ এনে এ জন্য গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মুহম্মদ ইউনুসকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে আওয়ামী লীগ।

সোমবার দলীয় সভাপতির ধানমন্ডি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ।

পদ্মাসেতু প্রকল্পে পরামর্শকের কাজ পেতে ঘুষ লেনদেনের চক্রান্ত হয়েছিল বলে ২০১০ সালে অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক। তারা যে সময়ের যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানায়। সরকার এই দাবি অগ্রাহ্য করার পর অর্থায়ন স্থগিত করে দাতা সংস্থাটি। পরে নানা ঘটনাপ্রবাহের পর ২০১৩ সালে অর্থায়ন বাতিল করে বিশ্বব্যাংক।

এই ঘটনায় কানাডার আদালতে একটি মামলা হয় ঘুষ লেনদের চক্রান্তে জড়িত থাকার সন্দেহভাজন প্রতিষ্ঠান এসএনসি লাভালিনের দুই কর্মকর্তাসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে। পরে বিচার চলে তিন জনের বিরুদ্ধে। আর স্থানীয় সময় শুক্রবার প্রকাশ হওয়া রায়ে বিচারক মামলার সব আসামিকে খালাস দিয়ে বিচারক বলেন, এই প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ ছিল গালগপ্প।

কানাডার আদালতের এই রায় প্রকাশের পর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতারা এই অভিযোগ আনায় বিশ্বব্যাংকের তীব্র সমালোচনা করছেন। রবিবার জাতীয় সংসদে এক আলোচনায় সে সময়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি বলেন, ২০০৯ সালে গ্রামীণ ব্যাংকের টাকা ব্যক্তিগত ৫৪ প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরের অভিযোগে এমডি ড. ইউনুসের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরুর পরই বিশ্বব্যাংক তা বন্ধ করতে বলেছিল। নইলে পদ্মাসেতুতে অর্থায়ন বন্ধ হয়ে যাবে বলে হুমকি দেয়া হয়েছিল। সরকার সে কথা না শোনায় যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী, দেশটির রাষ্ট্রদূতসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা সরকারকে সরাসরি এই হুমকি দেয় এবং পরে অর্থায়ন বন্ধ করে দেয়া হয়।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানিয়েছেন কানাডা আদালতের রায়ের পর বিশ্বব্যাংকসহ যারা এই ঘটনায় দায়ী তাদের বিরুদ্ধে দেশে এবং দেশের বাইরে মামলার সুযোগ রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করলে টাকা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।

হাছান মাহমুদ বলেন, বিশ্বব্যাংক যেন পদ্মাসেতুতে অর্থায়ন না করে সে জন্য সংস্থাটির উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছে ই মেইল পাঠিয়েছিলেন ড. ইউনুস। সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে তা প্রকাশ পেয়েছে।

হাছান বলেন, ‘বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে পদ্মাসেতুতে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলার পর সাফাই গেয়ে কথা বলেছেন ড. ইউনুস, টিআইবিসহ দেশের বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ।  কানাডার আদালতে প্রমাণ হয়েছে পদ্মসেতুতে দুর্নীতির কোন ষড়যন্ত্র হয় নাই । তাই এদের সবাইকে দেশবাসীর সামনে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে।’

যারা বাংলাদেশকে বিরুদ্ধে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে ষড়যন্ত্র করছেন তাদের আইনের আওতায় আনা প্রযোজন বলে মনে করেন হাছান মাহমুদ। তবে সরকার তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিবে কি না সেটা জানেন না তিনি। এ বিষয়ে একটি প্রশ্নের জবাবে ক্ষমতাসীন দলের এই নেতা বলেন, ‘তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবে কি না- তা সরকার জানে। ’

কানাডার আদালতের রায়ের পর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম ও সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর প্রতিক্রিয়ার সমালোচনা করেন হাছান।

মির্জা ফখরুল বলেছেন, কানাডার আদালনে কী রায় দিয়েছে তা তাদের বিবেচনা নয়, এই সেতুতে দুর্নীতি চেষ্টার অভিযোগ উঠেছিল এবং তারা সেটা নিয়েই কথা বলেছেন। আর রিজভী বলেছেন, কানাডার আদালতের রায়ে কিছুই প্রমাণ হয় না। তার দাবি, এই প্রকল্পে দুর্নীতি হয়নি-এমন কোনো কথা বলেনি বিশ্বব্যাংক। কাজেই সংস্থাটি আগের অবস্থানেই আছে।

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘তাদেরবক্তব্য হচ্ছে গ্রাম্য মোড়লদের মতো। মোড়লরা যেমন বিচারে হেরে গেলে বলেন, যা বলেছিতো বলেছি, তাদের কথাও সেই রকম।’

আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক বলেন, ‘বাংলাদেশের কোন আদালত এ রায় দিলে বিএনপিসহ অন্যন্যরা বলতেন সরকারের প্রভাবে আদালত এ রায় দিয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ নেতা ফরিদুন্নাহার লাইলি, সুজিত রায় নন্দী, আবদুস সোবাহান গোলাপ, আবদুস সবুর, হারুনুর রশীদ, হাবিবুর রহমান সিরাজ, আমিনুল ইসলাম, বিপ্লব বড়ুয়া, এস এম কামাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম