সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : গাছে গাছে কোকিলের কুহু কূজন কয়েক দিন ধরেই শোনা যাচ্ছে। বাতাসে ফাল্গুনী আমেজ বলে দিচ্ছিল- বসন্ত আসছে।

আজ সোমবার এসেই গেল কাঙ্ক্ষিত সেই পয়লা ফাল্গুন। মাঘের শীতকে বিদায় জানিয়ে বসন্তের আগমনে ফাগুনের ঝিরিঝিরি হাওয়ার সঙ্গে কোকিলের কুহুতানে যেন মন ভরে যায়। প্রায় দুই কোটি মানুষের কোলাহলপূর্ণ ঢাকা শহরে যানজটের বাড়তি কষ্ট যেন আজ ফাগুনের আগুনে মিশে গেছে। সবাই সেজেছে বাসন্তী সাজে।

বসন্তের প্রথম দিনের উৎসবে রঙিন হয়ে উঠেছে রাজধানী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট চত্বর ও আশপাশের এলাকায় সকাল থেকে দল বেঁধে আসতে থাকে তরুণ-তরুণীসহ নানা বয়সি মানুষ। বাসন্তী রঙে বাহারি সাজে ফাল্গুনকে বরণ করে নেয় তারা। যেদিকে চোখ যায়, হলুদ, সবুজ, লালে ছেয়ে গেছে চারপাশ।

ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে চারুকলার বকুলতলায় বসন্ত উৎসব-১৪২৩ উদযাপন করতে আসে শত শত মানুষ। এখানে বেশ কয়েকটি সাংস্কৃতিক সংগঠন গানে ও নৃত্যের তালে তালে বসন্তকে অভিবাদন জানায়। সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় মূল পর্ব। প্রথমে সংগীত পরিবেশন এরপর পরিবেশিত হয় দলীয় নৃত্য। এরপর বসন্ত কথনপর্ব, প্রীতিবন্ধনী বিনিময়, আবির বিনিময়, দলীয় সংগীত, আবৃত্তি, একক আবৃত্তি, একক সংগীত, পাঠ, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর পরিবেশনা ছাড়াও ছিল শিশু-কিশোরদের পরিবেশনা। সকাল ১০টায় বের করা হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা।
bosonto-320170213090916
তরুণীদের পরনে হলুদ শাড়ি। মাথায় এক গোছা ফুল বা ফুলের মুকুট। ছেলেদের পরনে রঙিন পাঞ্জাবি। অনেকে আবির মেখে বসন্তের সাজে আসে। শাহবাগের ফুলের দোকানগুলোতেও ফুলের মালার বিক্রি বাড়ছে কয়েক গুণ। বসন্ত উৎসব বকুলতলা ছাড়িয়ে চারুকলা চত্বরে ছড়িয়ে পড়ে।

সকালে বাসন্তী সাজে বকুলতলায় এসেছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থী রোমানা ও হিমেল। হিমেল বলেন, ‘এটি একটি সর্বজনীন উৎসব। আমি খুব ভোরেই বের হয়েছি। বসন্তের শাড়ি পরে ফুল দিয়ে সেজে বকুলতলায় গিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করেছি। সবাই মিলে গান শুনলাম, ছবি তুললাম।’

তিনি জানান, সবাইকে উৎসাহিত করতে তিনি আগেই ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন, বকুল তলায় যাওয়ার জন্য। অন্যদেরও আহ্বান জানিয়েছেন।
Pavel-Bosonto-2
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিশেষ করে মেয়েরা মনের আনন্দের সঙ্গে পোশাকেও জড়িয়েছে বসন্তের রঙ। বাসন্তী রঙের শাড়ির সঙ্গে কেউ খোঁপায় গুঁজেছেন হলুদ গাঁদা কিংবা লাল গোলাপ। কারো বা কপালে টিপের সঙ্গে মাথায় ছিল নানা রকমের ফুলে জড়ানো মুকুট। ছেলেদের পাঞ্জাবি বা ফতুয়ায়ও ছিল বসন্তের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ রঙের আবহ। যেন ‘হারিয়ে যেতে আজ নেইকো মানা’।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম