সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : নতুন নির্বাচন কমিশন নিয়ে সমালোচনা করলেও দলভিত্তিক উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে বিএনপি।

ইতোমধ্যে ১৮ উপজেলায় ভোটে প্রার্থী দিয়েছে দলটি। কে এম নূরুল হুদা নেতৃত্বাধীন নতুন কমিশনের অধীনে ৬ মার্চ ভোট হবে এসব উপজেলায়।

এ নির্বাচনে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও সংরক্ষিত নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীকে ভোট হবে।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী,  মনোনয়ন দাখিলের সময় শেষ হয়েছে ৯ ফেব্রুয়ারি। ১০ ফেব্রুয়ারি হয়েছে যাচাই-বাছাই। মনোনয়ন প্রত্যাহার করা যাবে ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

সিলেটের জ্যেষ্ঠ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মনির হোসেন বলেন, “দলীয় এ নির্বাচনে সিলেটে তিনটি পদেই আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি প্রার্থী দিয়েছে। বাছাইয়ে কয়েকজনের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে, আপিল ও প্রত্যাহার শেষে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী চূড়ান্ত হবে।”

তিনি জানান, স্থানীয় সরকারের এ নির্বাচনে তিনটি পদেই দলীয় প্রতীকে ভোট হবে বলে প্রতিদ্বন্দ্বিপূর্ণ নির্বাচন হবে তারা ধারণা করছেন। সুষ্ঠু ভোটের লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতিও চলছে।

সিলেটের ওসমানী নগর, খাগড়াছড়ির গুইমারা ও সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় তিন পদে ভোট হচ্ছে এবার।

এছাড়া কুড়িগ্রাম সদর, বরিশালের বানারীপাড়া, গৌরনদী, ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া, পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী, কুমিল্লার আদর্শ সদর, পাবনার সুজানগর, কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে চেয়ারম্যান পদে; কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম, নাটোরের বড়াইগ্রাম, নীলফামারীর জলঢাকা, সাতক্ষীরার কলারোয়া ও বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জে ভাইস চেয়ারম্যান পদে এবং পাবনার ঈশ্বরদী, কুমিল্লার সদর দক্ষিণে নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে ভোট হবে।

দলীয় প্রার্থীদের পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ারও সুযোগ ছিল এ নির্বাচনে। সেক্ষেত্রে প্রার্থীদের ২৫০ জন ভোটারের সমর্থনসূচক তালিকা জমা দিতে হয়েছে। অবশ‌্য যারা এর আগে চেয়ারম্যান বা ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন, তাদের স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার জন‌্য সমর্থকদের তালিকা দিতে হয়নি।

জেলা পরিষদের মতো এবার উপজেলাতেও অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

উপজেলার আগে ২২ ফেব্রুয়ারি রাঙামাটির বাঘাইছড়ি পৌরসভার ভোট রয়েছে। আর উপজেলার পর ২২ মার্চ গাইবান্ধা-১ আসনে হবে উপ নির্বাচন। এ নির্বাচনে মনোনয়ন দাখিলের শেষ সময় ১৯ ফেব্রুয়ারি।

কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ নেতৃত্বাধীন ইসির অধীনে দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করলেও স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচনে অংশ নিয়েছে বিএনপি। তবে উপ নির্বাচনে অংশ নেয়নি তারা।

কাজী বকিব কমিশনের সমালোচনায় মুখর থাকা দলটি নতুন সিইসি কে এম নূরুল হুদাকে নিয়েও সংশয় প্রকাশ করে আসছে।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী রোববার এক আলোচনা সভায় বলেন, “কাজী রকীবউদ্দিন মার্কার চাইতেও আরও খারাপ নির্বাচন করার জন্য সরকার নূরুল হুদাকে মনোনীত করেছেন, আর রাষ্ট্রপতি তার অনুমোদন দিলেন।

“এই ধরনের আজ্ঞাবাহী, এই ধরনের সেবাদাসমূলক ব্যক্তির অধীনে কখনোই দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না।”

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী (৯০ এইচ অনুচ্ছেদের ই উপধারা) পরপর দুই বার সংসদ নির্বাচনে অংশ না নিলে নিবন্ধন বাতিলের বিধান রয়েছে। দশম সংসদ নির্বাচন বর্জনের পর বিএনপিকে নিবন্ধন বাঁচাতে ২০১৯ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতেই হবে।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক সেনা প্রধান মাহবুবুর রহমান বলেন, “আমরা এখনও নতুন সিইসিকে রিজেক্ট করিনি। শুরুতেই নতুন সিইসির অধীনে উপজেলা, পৌরসভাসহ অনেক নির্বাচন রয়েছে। এতে ইসির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করব; নিরপেক্ষতা দেখাতে পারলে নতুন ইসির জন‌্য পয়েন্ট যোগ হবে।”

তিনি বলেন, সামনে দীর্ঘ পথে নিরপেক্ষতা প্রমাণের সুযোগ রয়েছে নতুন ইসির। সব দিক বিবেচনা করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে বিএনপি।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম