সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিমান পরিচালনায় বাধা দিলে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা জরিমানার বিধান রেখে ‘বেসামরিক বিমান চলাচল আইন, ২০১৭’ খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

সচিবালয়ে সোমবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের এ অনুমোদনের কথা জানান।

‘সিভিল এভিয়েশন অর্ডিন্যান্স, ১৯৬০’ কে হালনাগাদ করে নতুন আইনের খসড়াটি আনা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘নতুন আইনে অপরাধের দণ্ড বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘যদি কোনো ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে বা বেপরোয়াভাবে এমন কোনো কাজ করেন যাতে নির্বিঘ্নভাবে বিমান পরিচালনায় অসুবিধার সৃষ্টি হয় এবং এর মাধ্যমে কোনো মানুষের জীবন ঝুঁকির সম্মুখীন হয় তবে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এজন্য মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও জানান, যদি কোনো ব্যাক্তি বিমানের নেভিগেশনের সঠিক আলো বা সংকেতের কার্যক্রম বা পরিচালনায় হস্তক্ষেপ, অপসারণ বা ধ্বংস করেন তাহলে সে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা ৫ কোটি টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।

এই আ্ইন, আইনের আওতায় বিধি ও এয়ার নেভিগেশন অর্ডার (এএনও) লঙ্ঘণ করলে সর্বোচ্চ ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড বা ১ কোটি টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে।

সার্টিফিকেট, লাইসেন্স বা পারমিট জাল করলেও সর্বোচ্চ ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড বা ১ কোটি টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

বিমানে বিপজ্জনক পণ্য পরিবহনে সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। বিপজ্জনক পণ্য বলতে এমন কোন দ্রব্য বা বস্তু যা স্বাস্থ্য, সম্পত্তি বা পরিবেশের ক্ষতি করতে পারে। যা আইসিএও’র (ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশন) টেকনিক্যাল নির্দেশনায় বিপজ্জনক তালিকার অন্তর্ভুক্ত।

বাংলাদেশের আকাশ সীমা কেউ লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ৭ বছর ও কমপক্ষে ৩ বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা জরিমানা গুণতে হবে।

এর আগে গত বছরের ২৯ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিসভা বৈঠকে আইনের খসড়াটি নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। তখন সেখানে সর্বোচ্চ শাস্তি ছিল ৭ বছরের জেল, জরিমানা ছিল সর্বোচ্চ ২ কোটি টাকা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে ‘পানি শীর্ষ সম্মেলন-২০১৬’ এ অংশ নিতে গত ২৭ নভেম্বর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে ঢাকা ত্যাগ করেন। হাঙ্গেরি পৌঁছার আগেই যান্ত্রিক ত্রুটিতে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান তুর্কেমেনিস্তানের আশখাবাদে জরুরি অবতরণ করে।

পরে তদন্ত কমিটি চিহ্নিত করে বিমানের তেল চলাচলের পাইপে একটি নাট ঢিলা হওয়ার কারণে জ্বালানির চাপ কমে যাওয়ার বিমান জরুরি অবতরণ করতে হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের গাফিলতিতে এটা হয়েছে।

এজন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কয়েকজন কর্মীকে বরখাস্ত করা করা ছাড়াও মামলা ও গ্রেফতার করা হয়।

এ প্রেক্ষাপটে প্রক্রিয়াধীন বেসামরিক বিমান চলাচল আইনের খসড়ায় শাস্তির পরিমাণ বাড়ানো হয় বলে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে।

ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট আইন চূড়ান্ত অনুমোদন

‘বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট আইন, ২০১৭’ এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এর আগে গত ১২ ডিসেম্বর মন্ত্রিসভা খসড়াটি নীতিগত অনুমোদন দিয়েছিল।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘১৯৭৩ সালের আইনটি একটু পরিমার্জন করে নতুন আইনটি করা হয়েছে।’


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম