সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশের অর্থনীতি ধারণার চেয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বলেছেন, এখন গ্রামেগঞ্জের বাজারেও দেদারসে বিদেশি ফল বিক্রি হয়। এটি দেশের অর্থনীতির শক্তিশালী অবস্থানের পরিচয়।

যুক্তরাজ্য সফররত অর্থমন্ত্রীকে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের এক নাগরিক সংবর্ধনায় তিনি এ কথা বলেন। স্থানীয় সময় রবিবার এই সংবর্ধনায় মন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে দারিদ্র্য থাকবে না।

মুহিত বলেন, ‘এক সময় গ্রামে আঙ্গুর, আপেল সমাদর করে বিক্রি করা হতো। আঙ্গুরের একটা সুন্দর ফ্রেম থাকতো। কেউ কিনতে গেলে সেই ফ্রেম থেকে নামিয়ে দেওয়া হতো। এখন যে কোনও গ্রামে গেলে আপেল-আঙ্গুর সহজেই পাওয়া যায়। এটি অর্থনৈতিক উন্নয়নের আরেকটি দিক।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সব দেশেই বয়স্ক, বিধবা, যাদের সহায়সম্বল নেই বা একা, প্রতিবন্ধীরা সরকারের ওপর নির্ভরশীল থাকবে। বর্তমানে মালয়েশিয়াতে এ হার সাত শতাংশ, যুক্তরাষ্ট্রে ১৪ শতাংশ। উন্নত দেশগুলোর মতো বাংলাদেশেও সাত থেকে ১৪ শতাংশ জনগোষ্ঠী গরিব বা সরকারের ওপর নির্ভরশীল।’

অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে প্রবাসী বিনিয়োগের ওপর গুরুত্ব দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বৈদেশিক বিনিয়োগের জন্য সরকার সব সুবিধা দিয়েছে। বিনিয়োগকারীরা তার লভ্যাংশ ও মূলধন চাইলে ফেরত নিয়ে যেতে পারবেন।’

মুহিত বলেন, ‘দীর্ঘদিন প্রবাসীরা ওয়ান স্টপ সার্ভিসের কথা বলেছেন, সেই সুবিধাও চালু করা হয়েছে। এখন যে কোনও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ নয় মাসের মধ্যেই বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি সংযোগ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। আগামী ২০ বছর পর্যন্ত বাংলাদেশে গ্যাস সরবরাহ নিয়ে কোনো দুঃশ্চিন্তা নেই।’

প্রবাসীদের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা মিলে বাংলাদেশে ৭০ একর জমিতে ব্যক্তি মালিকানায় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করেছে। যুক্তরাজ্য প্রবাসীরাও উদ্যোগ নিলে সরকার সহযোগিতা করবে।’

সিলেট বিমানবন্দর থেকে কবে নাগাদ আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হবে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সিলেট বিমানবন্দরের রানওয়ে এখনেও বোয়িং এর মতো বড় বিচার চলার উপযুক্ত নয়। নতুন রানওয়ে নির্মাণ ও লাউঞ্জের উন্নয়ন হলেই সিলেট থেকে আন্তর্জাতিক রুটে বিমান চলাচল সম্ভব হবে। তবে এটা করতে এক বছরের বেশি সময় লাগবে না।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘দ্বৈত নাগরিকতার বিষয়টি আইনমন্ত্রী বিশেষভাবে দেখছেন। ভবিষ্যত প্রজন্ম যেন তাদের নাগরিকত্ব পায় সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সরকার আইনটির সংস্কার করবে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা কখনোই চাইবো না আমাদের প্রবাসী শক্তি হারিয়ে যাক। তবে প্রবাসীদের জন্ম কোনও দেশে হয়েছে সেটি বিবেচনা না করে তার নাগরিকত্ব পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে চাই। উত্তরাধিকারে সম্পত্তি থেকে কোনও প্রবাসীকে বঞ্চিত করা হবে না।’

অনুষ্ঠানে বক্তব্যের শুরুতে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, মহিলা লীগ, মহিলা যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিভিন্ন ইউনিটের নেতারা অর্থমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নেন।

এর আগে আওয়ামী লীগ নেতা, সাবেক মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মৃত্যুর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

অনুষ্ঠানে মানপত্র পাঠ করেন যুক্তরাজ্য ছাত্রলীগের সহ সভাপতি সারোয়ার কবির, সম্মাননা ক্রেস্ট উপহার তুলে দেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরিফ, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক ও যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমাদের মুহিত ভাই বাংলাদেশের অর্থনীতিকে যেভাবে সামাল দিয়েছেন, সেটা একটা রোল মডেল।’

জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন বিশ্ব  অর্থনীতির রোল মডেল। আমাদের জিডিপি সাত এর ঘরে। মিলেনিয়াম গোলের প্রায় সব কিছুতেই আমরা সফলতা অর্জন করেছি। সবই  রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমাদের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের স্বপ্ন, সাধনা আর নিরলস কাজের ফল।’

যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান শরীফ বলেন, ‘আমরা চাই মুহিত ভাই আবার সংসদে ও মন্ত্রিত্বে থাকুন এবং সেই সাথে আমরা চাই মোমেন ভাই মন্ত্রী হিসেবে যোগ দিন।’ তিনি বলেন, ‘দেশ নিয়ে ইউনুস গংরা যে ষড়যন্ত্র করছিলো, মোমেন ভাই তার দক্ষতা, যোগ্যতা আর কর্মগুণ দিয়ে তা সামাল দিয়ে বাংলাদেশকে দুষ্টু চক্রের হাত থেকে রক্ষা করেছেন।’


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম