সংবাদ শিরোনাম

 

মোঃ রাসেল হোসেন, ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম : ময়মনসিংহের কাচারীঘাট নদের পাড়ে মাসব্যাপী শিল্প ও বানিজ্য মেলায় নারী ও স্থানীয় উদ্যোক্তাদের দেশীয় পণ্যের প্রাধান্য বিস্তার করেছে। মেলায় ক্ষুদ্র, কুটির, কারু শিল্প, হস্তশিল্পের নতুন নতুন উদ্যোক্তাদের ব্যাপক সমাহার ঘটেছে। মেলায় দোকান নেওয়া স্টলের মধ্যে প্রায় ৭০ভাগ নারী উদ্যোক্তা, ক্ষুদ্র, কুটির, কারু ও হস্তশিল্পের দোকান রয়েছে। কেনা বেচাও বেশ জমে উঠেছে এ সকল দোকানে।
জেলা, পুলিশ ও পৌরসভার সহায়তায় দি চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রী ময়মনসিংহের আয়োজনে শুরু হওয়া মেলা ঘুরে গতকাল দেখা গেছে, ঢাকা চটপটি ও শুকনা খাবার দোকানেই বেশী ভীড়।
এছাড়া দেশীয় পণ্য জামদানী, ঢাকাইয়া জামদানী হাউজ, তাঁতের থ্রিপিচ সামগ্রী, খাদি, আড়ং, ব্লেজার নিয়ে সাজানো বেশ কয়েকটি দোকান থাকলেও তেমন ভীড় নেই বললেই চলে।
মেলায় মহিলারা স্বপরিবারে স্থানীয় ও নারী উদ্যোক্তাদের নিজ হাতে তৈরী দেশীয় পণ্য ব্যানেডি ব্যাগ, হস্তশিল্প, কুটির শিল্প, মৃৎ শিল্পের দোকানে ভীড় করছে। মহিলারা এ দোকান থেকে সেই দোকানে এভাবে সারা মেলা ঘুরে তাদের পছন্দশীল নিত্য প্রয়োজনীয় ও  সুকেজে সাজানো মাটির তৈরী ছোট খাট পণ্য কিনে বাড়ী ফিরছেন। এছাড়া ক্রোকারিজ সামগ্রী, ছোট শিশুদের খেলনা ও ফুলের দোকান থেকে ঘর সাজানোর সামান্য কিছু কিনতেই যেন তারা মেলায় গিয়েছেন। বিলবিস নামের এক ভদ্র মহিলা জানান, মূলত ছেলেমেয়েদের নিয়ে বেড়াতে এসেছি। এছাড়া বাচ্চাদের জন্য কিছু খেলনা আর ঘর সাজানোর জন্য ফুলের সামান্য কিছু  আর মৃত শিল্পের কিছু সামগ্রী কিনে নিয়েই তিনি খুশী।
তবে দেশীয় তৈরী সাশ্রয়ী মুল্যে বেশ কয়েকটি ফুট ওয়ার, বা জুতার দোকান সাজানো হলেও তেমন বেচাকেনা নেই। মেলায় অনৈতিক বা স্বপিরবারে ঘুরে দেখতে কোন সমস্যা হচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নে ঐ ভদ্র মহিলা বলেন, এখানে কোন সমস্যা বা অনৈতিক কিছু নেই। মেলায় কোন ধরণের অনৈতিকতা না থাকায় স্বামী, সন্তান, ভাইবোনদের নিয়ে স্বপরিবারে ঘুরে ফিরে আমার মত অনেকেই সানন্দে আনন্দ উপভোগ করছেন। মেলায় পণ্যের দাম নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি জানান, বাইরের মতই। তবে কেন মেলা থেকে কিনছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, একটু ঘুরে ফিরে আনন্দ উপভোগ করা আর সামান্য কিছু কিনা দুটোর জন্যই মেলায় আসা। পুরোহিত পাড়ার নারী উদ্যোক্তা কামরুন্নাহার বলেন, তাদের ৪টি দোকান রয়েছে। সবই হস্তশিল্প। তাদের নিজের হাতের তৈরী পণ্য বিক্রি সহ প্রচার করতেই মেলায় স্টল নেওয়া। বেচাকেনাও মন্দ নয়। আকুয়া হাজী বাড়ী মোড়ের আরেক নারী উদ্যোক্তা লাইজু বলেন, তাদের নিয়ন্ত্রণে প্রায় ২০টি দোকান রয়েছে। এর সবই হস্তশিল্প, কুটির শিল্প, মৃত শিল্প। এছাড়াও পুতি ব্যবহার ঘর সাজানোর নানা পণ্য রয়েছে এ সব দোকানে। তাদের বেচাকেনা সম্পর্কে লাইজু জানান, মোটামুটি। তবে আশানুরূপ নয়। আরেক নারী উদ্যোক্তা সাংবাদিক পতিœ মাকসুদা আক্তার। মেলায় স্টল নিয়েছেন। তার স্টল বা দোকানের নাম মারিয়া হ্স্তশিল্প বিলাশ। তার দোকানে পুতির তৈরী নানা কারুপণ্য। শহরের অলকা বাংলা মার্কেটের প্রথমতলায় তার দোকান রয়েছে। মূলত তার দোকানের প্রচার করতেই মেলায় স্টল নেওয়া। তবে বেচাকেনা খারাপ নয়। এ নারী উদ্যোক্তা একটি কলেজে চাকুরীর পাশাপাশি অবসর সময়ে স্বামীসহ অন্যান্যদের নিয়ে নিজেই এ সব পণ্য তৈরী থাকেন। মেলায় শিশু নারীসহ সকল শ্রেণীপেশার মানুষের বিনোদনের জন্য রয়েছে, ম্যাগাজিন ও বিচিত্রানুষ্ঠান, কৌতুক শিল্পী, যাদুশিল্পী। এছাড়াও হেলিকপ্টার, মোটরসাইকেল, নাগিনী যাদু, ভুতের বাড়ী, ডরিমন, থ্রিডি মুভি, রেল গাড়ী, নাগরদোলা ও নৌকা দুল। অপরদিকে জাগ্রত মডার্ণ ড্যান্স মাল্টিমিডিয়ার পরিচালক পিএম আজাদ হোসেন রানার পরিচালনায় বাংলাদেশ চলচিত্র, আরটিভি, চ্যানেল আই এর মডেল, তারকা শিল্পী ও নৃত্য শিল্পীদের অংশ গ্রহণে কৌতুক, বাউলসহ নানা গান ও নৃত্য। যা স্বপরিবারে উপভোগ করছে সকল শ্রণীপেশার মানুষজন। মেলায় সকল ধরণের নিরাপত্তায় নিজস্ব সিকিউরিটি ও সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। আইন শৃংখলা নিয়ন্ত্রণে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে রয়েছে পুলিশ ক্যাম্প ।
কাচারীঘাটের এ মেলায় ট্যাক্স, ভ্যাট ফাঁকি আর অনৈতিকতা চলছে এমন প্রশ্নে মেলার আয়োজকদের অন্যতম মজিবুর রহমান বেলাল বলেন, স¤পূর্ণ ফেয়ার এ মেলা। এছাড়া অনৈতিক ও খারাপ কিছুই নেই। এ মেলা স্বপরিবারে স্বাচ্ছ্যন্দে উপভোগ করছে মানুষজন। ট্যাক্স, ভ্যাট ফাঁকি সম্পর্কে তিনি বলেন, ঢাকার বাইরে কোন মেলায় ট্যাক্স, ভ্যাট নেওয়া হয়েছে তা আমার জানা নেই। এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, ঢাকার বাইরে চট্ট্রগ্রাম, হবিগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, দিনাজপুর, কুমিল্লাসহ একাধিক মেলায় খোজ নিয়ে দেখেছি এ সব মেলায় কোন ট্যাক্স,ভ্যাট নেওয়া হয়নি। এছাড়া ক্ষুদ্র, কুটির, হস্তশিল্প, কারু, মৃতশিল্পসহ বেশীরভাগ দেশীয় পণ্য, নারী উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন পণ্যের কোন ভ্যাট নেই। এ মেলায় প্রায় ৭০ ভাগ নারী উদ্যোক্তা, ক্ষুদ, কুটির, হস্তশিল্প, কারু ও মৃতশিল্পের স্টল রয়েছে। এছাড়া মেলায় নানা প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পণ্যের সমাহার বা একাধিক স্টল হলেও ও কোন শিল্প প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়নি। সকলেই ছোট ছোট ব্যবসায়ী। এরপরও নিয়মে থাকলে আমরা ট্যাক্স, ভ্যাট অবশ্যই দিব। এ জন্য ট্যাক্স,ভ্যাট কর্তৃপক্ষের সাথে মেলার আয়োজকদের অন্যতম এবং ময়মনসিংহ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আমিনুল হক শামীম কথা বলেছেন। তিনি দেশের বাইরে আছেন।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম