সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে পাঠোনো হলে এ দেশে কোনো নির্বাচন হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি সাগর-রুনী মিলানয়তনে বুধবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এক আলোচনাসভায় তিনি এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার লক্ষ্যে সহায়ক সরকারের দাবি’ শীর্ষক এ আলোচনার আয়োজন করে বাংলাদেশ পিপলস পার্টি (এনপিপি)।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলা দিয়ে যদি জেলে পাঠানো হয়, তাহলে এ দেশে কোনো নির্বাচন হবে না। জনগণ এ নির্বাচন মেনে নেবে না এবং দেশপ্রেমিক কোনো দল এ নির্বাচনে অংশ নেবে না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচন করতে চাই। কিন্তু সেই নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হতে হবে। সব দলের অংশগ্রহণ এবং সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন হতে হবে।’

এই জন্য জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল।

নতুন নির্বাচন কমিশনের শপথ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের একটা আশা ও আস্তা ছিল। রাষ্ট্রপতি আওয়ামী লীগের জায়গা থেকে উঠে এসে তিনি দেশে ও মানুষের জন্য একটি ভূমিকা রাখবেন। দুর্ভাগ্য আমাদের তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব ও ভূমিকা রাখতে পারেননি। তিনি যে সার্চ কমিটি গঠন করছেন এটা নিয়ে আমরা ইতোমধ্যে বলেছি তা প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। তারা যে নির্বাচন কমিশন আমাদের সামনে দিয়েছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার সম্পর্কে আমরা বলেছি যে, এই নির্বাচন কমিশনার একজন দলীয় ব্যক্তি। এটা পরিষ্কার করে বলেছি। এতে কোনো রাগঢাকের কিছু নেই। ছাত্রজীবনে তিনি এই দলের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, নেতা ছিলেন। পরবর্তীকালে তার দলীয় সম্পর্কের কারণে তিনি চাকরিও হারিয়েছেন। চিহ্নিত একজন আওয়ামী লীগার হিসেবে তার নিজের পরিচয় আছে। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নির্বাচনী প্রচারণার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এসবের প্রমাণ আছে। এটা প্রমাণিত হয়ে গেছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার আওয়ামী লীগের দলীয় সদস্য। সেই মানুষটিই প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে আজকে শপথ নিয়েছে।’

নতুন নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়া প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা স্থানীয় সরকারে নির্বাচন বরাবরই অংশ নিয়েছি। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাব কী যাব না, সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করবে সেই সময় কোন ধরনের সরকার থাকছে, নির্বাচন কমিশনের কী ভূমিকা থাকে, তার উপর।’

তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচনকালীন সরকারের সময় নিরপেক্ষ সরকার চাই। যে সরকার নিরপেক্ষ নির্বাচন করবে, নির্বাচন কমিশন সহায়তা করবে।’

আওয়ামী লীগ জেনেশুনে জনগণের অধিকারকে হরণ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জনগণের অধিকারকে তারা পুরোপুরি লুট করে নিয়ে গেছে। কারণ তারা জনগণ যে মতামত দিবে সেই মতামত কোনোদিনই তাদের পক্ষে যাবে না। তারা অতীতে যা করেছিল এখনো তাই করছে; জনগণের সঙ্গে বিশ্বাস ঘাতকতা করে। আমরা গণতন্ত্র ও নির্বাচন চাই। নির্বাচনের মধ্য নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে চাই। আওয়ামী লীগ যে ফাঁদ পেতেছে ও নীলনকশা তৈরি করেছে সেই নীলনকশার মধ্য দিয়ে কী নির্বাচন হবে? সেই নির্বাচন কখনও সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে না। সেই নির্বাচনে জনগণের আশা আকাঙ্খাকার প্রতিফলন ঘটবে না।’

ড. ইউনূস আমাদের গর্ব
মির্জা ফখরুল বলেন,ড. ইউনূস আমাদের গর্ব। সারা পৃথিবী তাকে সন্মান জানাচ্ছে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও তাকে বিশেষভাবে সম্মাননা জানিয়েছে। জনগণের মৌলিক কিছু বিষয় নিয়ে তিনি কাজ করছেন। এই জন্য সবাই তাকে বাহবা দিচ্ছেন। আর আপনি ব্যক্তিগতভাবে তাকে শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। কারণ লোকে বলে নোবেল পুরস্কারটি নাকি আপনার (শেখ হাসিনা) প্রাপ্য ছিল। উনি মনে করেন তাই।’

তিনি বলেন, ‘পাবত্য চট্টগামে তথাকথিত শান্তিচুক্তির কারণে প্রধানমন্ত্রীর প্রাপ্য ছিল। কিন্তু ড. ইউনূস বাড়া ভাতে ছাই দিয়েছেন।

এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন-জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান প্রমুখ।


মতামত জানান :

 
 
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম