সংবাদ শিরোনাম

 

মোঃ রাসেল হোসেন, ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম : পুরুষের চেয়ে নারীর মেধা শক্তি বেশী থাকার পরও নারীদের পেশী শক্তির কারণে নারীর মেধা শক্তির ক্ষমতায়ন ও কর্মে বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকী এমপি। তিনি বলেন, নারী আর পুরুষ নয় জনগনই দেশের সম্পদ। তাই দেশের প্রতিটি মানুষকেই যোগ্যতা সম্পন্ন করে গড়ে তুলতে হবে। আর সে লক্ষ্য নিয়ে জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাজ করছেন। বাল্যবিয়ে বন্ধ সম্পর্কে তিনি বলেন, নারীরা শিক্ষাক্ষেত্রে আজ ছেলেদের চেয়ে অনেক এগিয়ে। বাল্য বিয়ে সহ নানা প্রতিকুলতার কারণে তা উচ্চ শিক্ষায় সফল হচ্ছেনা। বাল্যবিয়ে বন্ধ নয় যে কোন মূল্যে দেশ থেকে চিরতরে বাল্যবিয়ে বন্ধ করতে হবে। এটা অনুরোধ নয় এটা নির্দেশ। নারী বান্ধব সকল প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশকে একদিন দক্ষিন এশিয়ার সর্বোচ্চ উন্নত দেশে পরিনত করতে সকলকে মিলেমিসে কাজ করার আহবান জানান। ময়মনসিংহে প্রথমবারের মত বিভাগীয় পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ জয়িতাদের মাঝে সনদ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যকালে আজ বুধবার দুপুরে প্রতিমন্ত্রী উপরোক্ত কথা বলেন।

বিভাগীয় কমিশনার জিএম সালেহ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতুর মত একটি বৃহৎ প্রকল্প শুরু করলে বাংলাদেশ ও প্রধানমন্ত্রীসহ তাঁর পরিবারকে দুর্নীতিবাজ বলে হেয় করতে একটি মহল উঠে পড়ে লাগেন। অবশেষে আন্তর্জাতিক আদালতেই পদ্মা সেতুতে কোন দুর্নীতি হয়নি বরং সম্পূন্ন পরিকল্পিত ভাবে প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবারকে হেয় করার চেষ্টা করা হয়েছিল সেই প্রমান হয়েছে।

তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্পর্কে বলেন, তিনি একজন নারী বলেই দেশ প্রেম ও সততার সাথে কাজ করেছেন যা বিগত সময়ে আর কোন নজির কেউ দেখাতে পারবেনা। প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনা জাতির জনক হত্যা ও ৭১এর যুদ্ধাপরাধী রাজাকার আল বদর ও স্বাধীনতা বিরোধীদের বিচার করেছেন। একাধিক রায় কার্যকরও করেছেন। যা কেউ করার সাহস পর্যন্ত পায়নি। সবশেষে প্রতিমন্ত্রী জয়িতাদের সম্মান জানাতে সকল ধরণের কর্মসূচীতে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য প্রশাসনসহ সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের প্রতি আহবান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন ফাতেমা জহুরা রাণী এমপি, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড.আলী আকবর, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সচিব নাসিমা বেগম, অধিদপ্তরের ডিজি সাহিন আহমেদ চৌধুরী, রেঞ্জ ডিআইজি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠান, জেলা প্রশাসক মোঃ খলিলুর রহমান ও পৌরসভার মেয়র মোঃ ইকরামূল হক টিটু প্রমুখ।

Mymensingh Minister-PIC-04
অনুষ্ঠানে নবগঠিত দেশের অষ্টম বিভাগের ৩৫ উপজেলার ১৪৭ জন মহিলার অংশ গ্রহনে পাচঁটি ক্যাটাগরিতে সফল মহিলা পাচঁজন প্রথম ও পাচঁজন দ্বিতীয় জয়িতা হিসেবে ১০জনকে ক্রেষ্ট সনদ প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী জামালপুরের বকুলতলার জয়ন্তি কৈরী, শিক্ষা ও চাকুরী ক্ষেত্রে জামালপুরের পুর্ব মুকুন্দবাড়ীর (বর্তমানে ময়মনসিংহ শহরে মাধ্যমিক পর্যায়ে নারী শিক্ষার সরকারী একমাত্র বিদ্যাপীঠ বিদ্যাময়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা) নাছিমা আক্তার, সফল জননী হিসাবে ১০ সন্তানের প্রত্যেককেই উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিক এবং প্রতিষ্ঠিত করার মত গর্ব অর্জন করায় ময়মনসিংহের কেওয়াটখালী পাওয়ার হাউজ রোডের মল্লিকা আক্তার, নির্যাতনের বিভিষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করায় উদ্দমী নারী মাহমুদা ফেরদৌসি, সমাজ উন্নয়নে অবদান বাল্য বিয়ে রোধ ও য়ৌতুক বিহীন বিবাহের একাধিক আয়োজন করায় জামালপুরের ফুলবাড়ীয়া মুন্সিপাড়ার রাশিদা ফারুকীকে বিভাগীয় পর্যায়ে প্রথম নির্বাচিত করে জয়িতা সনদ ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। এছাড়াও অপর পাচজনকে দ্বিতীয় নির্বাচিত করে ক্রেস্ট ও সনদ প্রদান করা হয়।

Mymensingh Minister-PIC-02

এর মধ্যে অর্থনৈতিকভাব সাফল্য অর্জনকারী নারী কাচিঝুলি হামিদ উদ্দিন রোডের সূচীস্মীতা নাসরিন, শিক্ষা ও চাকুরী ক্ষেত্রে ময়মনসিংহ শহরের ডিবি রোডের সেলিমা বেগম, সফল জননী হিসাবে শেরপুরের নুর ই ফেরদৌস, নির্যাতনের বিভিষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করায় শেরপুরের রাশেদা বেগম ও সমাজ উন্নয়নে অবদান রাখায় ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার লাইলী আনজুমানআরা বেগম। সবশেষে জেলা মহিলা ও শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা মছিরন নেছা জয়িতা অনুষ্ঠানকে সফল করতে বিভাগের সকল জেলা প্রশাসক, উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদসহ সর্বস্তরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের ধন্যবাদ জানান।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম