সংবাদ শিরোনাম

 

মোশারফ হোসাইন শেরপুর, ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম : শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ে বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকটে হাহাকার শুরু হয়েছে। ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর অস্বাভাবিক ভাবে নিচে নেমে যাওয়ায় এমন সংকট দেখা দিয়েছে। এতে সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাসকারী প্রায় লক্ষাধিক মানুষকে বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকটে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এদিকে নদী-নালা, খাল-বিল, পুকুর, ঝরণাসহ জলাশয়ের পানি পান করে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে পাহাড়ী জনপদের লোকজন। গারো পাহাড়ে বসবাসরত প্রায় লক্ষাধিক মানুষের জন্য বিশুদ্ধ খাবার পানি খাওয়ার কোন উৎস নেই। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আবহাওয়ার পরিবর্তন, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে যাওয়া, সেচ কার্যে স্যালোমেশিনের মাধ্যমে অতিমাত্রায় ভূ-গর্ভস্থ পানি উত্তোলন, নদ-নদী, পাহাড়ি ঝরনা, ঝোরাগুলোর নাব্যতা হারানো এবং প্রাকৃতিক জলাশয় ক্রমাগত ভরাট হওয়ার ফলে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর এমন অস্বাভাবিক ভাবে নিচে নেমে যাচ্ছে বলে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই সীমাস্তবর্তী পাহাড়ি গ্রামগুলোতে প্রতিবছরই বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দেয়। গত বছরের ন্যায় এবছরও ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর আরও নিচে নেমে গেছে। এতে ঝিনাইগাতী উপজেলার সীমান্তবর্তী তাওয়াকুচা, পানবর, বাকাকুড়া, গুরুচরণ দুধনই, ছোট গজনী, বড় গজনী, গান্ধিগাঁও, হালচাটি, সন্ধ্যাকুড়া, ফাকরাবাদ, হলদীগ্রাম, নওকুচি, নকশী, ধানশাইল, নলকুড়া, গৌরীপুর সহ বিভিন্ন এলাকায় ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর প্রায় ১৩০-১৪০ ফুট নিচে নেমে গেছে। ফলে ওইসব এলাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মাজেদুর রহমান বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, শুষ্ক মৌসুমে এ উপজেলার প্রায় ৫টি ইউনিয়নে বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দেয়। ফলে বিশুদ্ধ পানির জন্য প্রতিবছরই কষ্ট করে জনসাধারণ। তবে রিংওয়েল টিউবওয়েল বসানো হলে পানির সংকট কমে যাবে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বিশুদ্ধ খাবার পানি না পেয়ে মানুষ মাটির কূপ, পাহাড়ি ঝরনাসহ বিভিন্ন জলাশয় থেকে পানি সংগ্রহ করছে। আবার অনেকেই দূর-দূরান্ত থেকে পানি সংগ্রহ করে গৃহস্থালীর কাজ ও খাবার পানির ব্যবস্থা করছে। নানা রোগজীবাণুযুক্ত পানি ব্যবহারের ফলে লোকজন ডায়রিয়া, আমাশয়সহ বিভিন্ন পানিবাহিত সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। ঝিনাইগাতী উপজেলা ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মিঃ নবেশ খক্সী বলেন, মূলত সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোর লোকজনদের বছরের ছয় মাস তাদের দূর দূরান্ত থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয়। কারণ ডিসেম্বর মাস থেকে মে/জুন মাস পর্যন্ত পানির লেয়ার গভীরে চলে যায়। যার দরুণ পুরো ছয় মাস তাদের পানির তীব্র সংকটে ভুগতে হয়। তিনি এসব পানি সংকট এলাকায় পানির নতুন উৎস উদ্ভাবন করে পানির হাহাকার দূরীকরণের জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ.জেড.এম. শরীফ হোসেন এ প্রতিনিধিকে জানান, ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় পাহাড়ী এলাকায় খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এসব গ্রামে মাটির নিচে পাথর থাকায় নলকূপ স্থাপন করা সম্ভব হয় না। তবে রিংওয়েল নলকূপ স্থাপন করে খাবার পানির সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেছি। সরকারী অথবা বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থার পক্ষ থেকে বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নলকূপ স্থাপন করা হলে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট সমাধান করা সম্ভব। আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম