সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, বর্তমান সরকার শিক্ষকদের জন্যে কি না করছে। শিক্ষকদের বেতনভাতা ১২৩ গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অথচ সরকারের উন্নয়নের গল্প বললে শিক্ষকরা চেঁচামেচি শুরু করেন। যা আজ অনেক কষ্ট পেলাম এবং অভিজ্ঞতা অর্জন করলাম।

শনিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতির জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেওয়ার সময় শিক্ষকদের প্রতি এভাবেই আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতি।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ শিক্ষকদের উদ্দেশে বলেন, সংসদে যখন শিক্ষকদের কোনো বিল পাস হয়, তখন আমি সেটা পাসের যৌক্তিকতা আছে কিনা উপস্থাপন করি। কেননা আমার বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও স্কুলের বিভিন্ন শিক্ষকদের বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে। তাই কোনো কিছু পাস করার আগে আমাকে যৌক্তিকতা খুঁজতে হয়। তখন সংসদে আমার বিভিন্ন সহকর্মী মন্ত্রীরা বলেন, আমি (শিক্ষামন্ত্রী) নাকি সংসদের বিরোধী দল। যাদের জন্যে এত কষ্ট করি আর তারাই সরকারের উন্নয়নের গল্প শুনতে চান না। কেননা আপনাদের যদি না বলি তাহলে শিক্ষার্থীদের আপনারা বর্তমান সরকারের উন্নয়নের কি গল্প শোনাবেন?

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষক বান্ধব সরকার এবং আমি মন্ত্রী আপনাদের শিক্ষকদের কর্মী। এরপরও আপনাদের সামনে সরকারের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরলে আপনারা হই-হুল্লোড় শুরু করেন। যা আমায় প্রতিনিয়ত নতুন নতুন শিক্ষা দেয়। আপনাদের দাবি থাকবে সেটা নেতাদের মাধ্যমে উপস্থাপন করবেন। কিন্তু হই-হুল্লোড় করে কখনো দাবি বাস্তবায়ন করা যায় না।

শিক্ষা নীতি বাস্তবায়নে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষা নীতি বাস্তবায়নে দলমত নির্বিশেষে সকলের মতামত প্রয়োজন। নতুবা কারো পক্ষেই শিক্ষা নীতি বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। কেননা আমরা একক সিদ্ধান্তে কোনো কিছুই করতে চাই না। অন্যদিকে শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি করাও এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

তাই শিক্ষকদেরকেও জ্ঞান দেওয়ার মান বাড়াতে হবে। শুধু দাবি দাওয়া উপস্থাপন করবেন আর বেতন নিবেন সেটা হবে না। কেননা শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। পড়ালেখার মানে সার্টিফিকেট অর্জন নয়, প্রকৃত জ্ঞান অর্জন সেটা শিক্ষার্থীদের বোঝাতে হবে।

তিনি আরও বলেন, এবার আমরা ৩৬ কোটি ২১ লাখ নতুন বই দিয়েছি। অন্যদিকে প্রথম যখন শিক্ষার্থীদের নতুন বই দেওয়া হয়। তখন শিক্ষার্থী সংখ্যা ছিলো দেড় কোটি আর এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি। এছাড়া বর্তমানে কারিগরি শিক্ষায় ১৪ শতাংশ শিক্ষার্থী পড়ালেখা করছে। আগামী ২০২০ সালের মধ্যে যা দাঁড়াবে প্রায় ৬৫ শতাংশ। কেননা ডিজিটাল যুগে কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব রয়েছে।

সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যক্ষ কাজী ফারুক আহমদ বলেন, শিক্ষার মান বাড়াতে শিক্ষকদের কাজ করতে হবে। অন্যদিকে শিক্ষা নীতি বাস্তবায়নে রাজনৈতিক নীতিমালা শিক্ষকরা চান না। কেননা শিক্ষকরা কোনো রাজনৈতিক দলের হয়ে ব্যবহৃত হবেন না। শিক্ষকরা শুধুমাত্র তাদের অধিকার আদায়ের জন্যে সংগ্রাম করে যাবেন। তাই শিক্ষকদের অধিকার আদায়ে নীতির প্রশ্নে কোনো আপস নয়, মর্যাদার প্রশ্নে কোনো আপস নয়। ফলে শিক্ষকদের দাবি দাওয়া সরকারকে বাস্তবায়ন করতে হবে।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি অধ্যক্ষ আছাদুল হকের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ করিগরি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী চৌধুরী প্রমুখ।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম