সংবাদ শিরোনাম

 

জামালপুর প্রতিনিধি : প্রায় ছয় দশক আগে জামালপুরে চালু হওয়া চিনিকল জিলবাংলার দশা এখন বোঝার ওপর শাকের আঁটির মত। দেনায় ডুবে থাকা প্রতিষ্ঠানটির লোকসান বাড়ছে বছর বছর। গত দুই বছরেই চিনিকলটি লোকসান গুনেছে ৭৩ কোটি টাকা। আর পুঞ্জিভূত লোকসানের পরিমাণ আড়াইশ কোটি টাকা। এ থেকে বের হয়ে আসার উপায় জানে না কর্তৃপক্ষ।

এই অবস্থায় জেলার একমাত্র কৃষিভিত্তিক ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠানটির ভবিষৎ নিয়ে শঙ্কিত চিনিকলের শ্রমিক- কর্মচারীরা।

১৯৫৮ সালে পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের যৌথ কারিগরী সহায়তায় জেলার দেওয়ানগঞ্জে স্থাপিত হয় জিল পাক সুগার মিল। দেশ স্বাধীনের পর চিনিকলটির নাম পাল্টে হয় জিল বাংলা সুগার মিল। কৃষিভিত্তিক ভারী এই শিল্প প্রতিষ্ঠানটি স্থাপনের পর পাল্টে যায় এঅঞ্চলের কৃষকদের আর্থসামজিক অবস্থার।

কিন্তু দিন পাল্টেছে। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কারখানার আধুনিকায়ন হয়নি, সেই সঙ্গে ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নানা ত্রুটি আর সুশাসনের অভাব, অনিয়ম, দুর্নীতি, হয়রানি আর আখের ন্যায্য মুল্য না পাওয়ার অভিযোগ আছে। এসব কারণে চিনিকলে আখ সরবরাহে উৎসাহ হারাচ্ছে চাষিরা।

চাষিরা জানান, চিনিকলে আখ দেয়ার চেয়ে গুড় তৈরি করলে লাভ হয় বেশি। এ কারণে অবৈধ হলেও সে দিকে ঝুঁকছেন তারা। আর এর ফলে আখের যোগান না পেয়ে উৎপাদন কমছে চিনিকলের। আর এটি আবার লোকসান বাড়াচ্ছে আরও।

জিলবাংলা সুগার মিলের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, যেখানে ২০১৩-১৪ মাড়াই মৌসুমে এক লাখ ৪৭ হাজার ৫৯৫ মেট্রিক টন আখ মাড়াই করা হয়েছিল। কিন্তুদুই বছরের ব্যবধানে তা অর্ধেকে নেমে আসে।

আখের মুল্য বৃদ্ধি, কৃষকদের আখ চাষে উদ্বুদ্ধ করা ও মিলের আখ সরবরাহে কৃষকদের হয়রানি বন্ধসহ মিলে বহুমুখী প্রকল্প গ্রহণ করা হলেই কেবল ভারী এই শিল্প প্রতিষ্ঠানটি টিকে থাকবে বলে মনে করছেন মিল সংশ্লিষ্টরা। এসব সিদ্ধান্তের জন্য মন্ত্রণালয়ের দিকে তাকিয়ে তারা।

মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আল আমিন বলেন, ‘মিলের লোকসান কমিয়ে আনার জন্য চেষ্টা চলছে।’


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম