সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : গণতান্ত্রিক অধিকারকে ‘হরণ করে’ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সঙ্গে ‘বেঈমানি করেছে’ বলে দাবি করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সোমবার বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন তিনি। মহান ‘শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ উপলক্ষে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করে বিএনপি।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কিছু কিছু বুদ্ধিজীবী আছেন যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ভাষা আন্দোলনের চেতনা- এই কথাগুলো খুব ব্যবহার করেন। কিন্তু একবারের জন্যও বলেন না যে, ভাষা আন্দোলনের চেতনা ছিল মূলত গণতান্ত্রিক চেতনা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাও ছিল গণতন্ত্র।’

‘এখনকার শাসকগোষ্ঠী বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর আশা-আকাঙ্ক্ষা সম্পূর্ণরূপে পদদলিত করে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায়। বর্তমান শাসকগোষ্ঠী ভাষা আন্দোলনের চেতনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করেছে। একইসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করেছে,’ বলেন বিএনপি মহাসচিব।

তিনি বলেন, ‘রাজনীতি যদি ভুল হয় এবং শাসকদল যদি জনগণের ভাষা না বোঝে তাহলে যতই জনপ্রিয় হোক না কেন তারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।’ এ সময় এক সময়ের জনপ্রিয় দল মুসলীম লীগ কীভাবে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে তা তুলে ধরেন মির্জা ফখরুল।

রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে সরকার জনগণের ন্যায্য দাবিকে দাবিয়ে রেখেছে মন্তব্য করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘ইতিহাস বলছে, কখনো জোর করে, অস্ত্র দিয়ে জনগণের ন্যায়সঙ্গত দাবিকে দাবিয়ে রাখা যায় না এবং যাবে না।’

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিচ্ছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘মিথ্যা কথা বলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির একটি কল্পকাহিনী তৈরি করে দেশ ও বিশ্ববাসীকে বোঝানো হচ্ছে যে, বাংলাদেশ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে এবং এত প্রবৃদ্ধি আর কখনো হয়নি। কিন্তু ২০০২ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি যে প্রবৃদ্ধির হার রেখেছিল, সেখান থেকে একটুও বাড়াতে পারেনি তারা (আওয়ামী লীগ সরকার)।’

বিএনপি আমলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সবচেয়ে বেশি মাত্রা পেয়েছিল বলেও এ সময় দাবি করে তিনি।

সরকার ছলচাতুরি করে জনগণকে ভোটাধিকার বঞ্চিত করতে চায় মন্তব্য করে এর বিরুদ্ধে শপথ নিতে নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান দলটির মহাসচিব।

সরকার আবারো একদলীয় নির্বাচন করতে চায় অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘পরিষ্কার করে বলতে চাই, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন এই দেশের মানুষ বর্জন করেছে, বিশ্বাবাসীও তা গ্রহণ করেনি। আজকে যদি আবার চাতুরি করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে একদলীয় নির্বাচন করতে চায়, এদেশের মানুষ ও বিশ্ববাসী তা গ্রহণ করবে না।’

বিএনপি নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই একাদশতম জাতীয় নির্বাচন চায় জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা এই নির্বাচন দেখতে চাই একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে, সেটিকে যে নামেই চিহ্নিত করা হোক না কেন। সহায়ক সরকার বা অন্য যে নামেই বলি, তাকে সম্পূর্ণরূপে নিরপেক্ষ হতে হবে। সেই নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন পরিচালনা করবে, যাতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও সকল দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন হয় এবং লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকে। অন্যথায় এদেশের মানুষ তা গ্রহণ করবে না।’

বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনই স্বতন্ত্র জাতি গোষ্ঠী সূচনা করেছিল মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘সেই আন্দোলন থেকে আমাদের স্বাধিকার আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের আন্দোলন শুরু হয়েছিল। ভাষা আন্দোলন ছিল মূলত গণতান্ত্রিক আন্দোলন।’

আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেন, ‘এই সরকার ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে চেতনা ভূলুণ্ঠিত করেছে। একদলীয় শাসনে দেশ পরিচালনার জন্য সকল কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। এজন্য ভাষা আন্দোলন-মুক্তিযুদ্ধে শহীদরা রক্ত দেয়নি, এত ত্যাগ স্বীকার করেনি। তাদের মনের স্বপ্ন ভেঙে দেওয়া হয়েছে গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়ে।’

ভাষা আন্দোলনের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে আন্দোলন করে গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে আনতে নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান বিএনপির এই নীতি নির্ধারক।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অন্যান্যর মধ্যে বক্তব্য রাখেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য এমাজউদ্দিন আহমেদ, অর্থনীতিবিদ মাহবুব উল্লাহ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোস্তাহিদুর রহমান প্রমুখ।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম