সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া : অবশেষে সুন্দরগঞ্জের সাংসদ লিটন হত্যা মামলায় জাতীয় পার্টির সাবেক সাংসদ ও বগুড়া থেকে প্রকাশিত উত্তরের খবর পত্রিকার প্রকাশক কর্নেল কাদের খানকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। বগুড়ায় তার বাসা এক সপ্তাহ ধরে সাদা এবং পোষাকধারী পুলিশ ঘিরে রেখেছিলো। সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে মঙ্গলবার বিকেল সারে চারটার দিকে গাইবান্ধার একদল পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। কিন্তু তাৎক্ষণিক জানা যায়নি কোন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পরে রংপুর বিভাগীয় পুলিশ কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক জানান, তাকে এমপি লিটন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে হঠাৎ করেই পোষাকধারী পুলিশের সংখ্যা বেড়ে যায় জাতীয় পার্টির নেতা গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) নির্বাচনী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কর্নেল (অব.) ডা. আবদুল কাদের খানের বগুড়ার বাড়িতে। তাকে গ্রেপ্তার করা হবে এমন খবর এক সপ্তাহ ধরেই বগুড়া শহরে ছড়িয়ে পড়লে মিডিয়াকর্মীরাও তার বাড়ির সামনে জড়ো হতে থাকেন।

এরপর শুক্রবার সকাল থেকে ওই ভবনের আশ পাশের মোড়ে মোড়ে অবস্থান নেয় সাদা পোশাকের পুলিশের পাশাপাশি পোশাকধারী পুলিশ সদস্যরা। মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশর উপস্থিতি আরো বেড়ে যায়। ভবনের ভিতরে এবং বাইরে সাদা পুলিশের পাশাপাশি পোশাকধারী পুলিশ সদস্যদেরও অবস্থান করতে দেখা গেছে।

বগুড়া শহরের রহমাননগর জিলাদারপাড়া এলাকায় অবস্থিত ডা. কাদের খানের মালিকানাধীন একটি ক্লিনিকের নাম ‘গরীব শাহ্্ ক্লিনিক’। ক্লিনিক এবং বাসস্থান একই ভবনে। ক্লিনিকের চারতলায় সপরিবারে বাস করেন জাতীয় পার্টি নেতা ডা. কাদের খান। তার স্ত্রী ডা. জে ইউ নাসিমাও একজন চিকিৎসক।

পুলিশের নজরবন্দি থাকাকালীন কাদের খান শনিবার সকালে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত জানানোর পর পরই ডা. কাদেরের বাসভবনের সামনে পুলিশ প্রত্যাহার কিংবা তাদের সংখ্যা কমানো হতে পারে, এমনটি ধারণা করা হলেও বাস্তবে তা হয়নি।

নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হলেও কৌশলগত কারণে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ১৯ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৫টা পর্যন্ত তাকে নজরবন্দি করে রাখা হতে পারে তাকে। কিন্তু সেটিও হয়নি। সোমবার এলাকায় রটে যায় এবার গ্রেপ্তার হচ্ছেন কর্নেল (অব.) কাদের। অবশেষে মঙ্গলবার বিকেল পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
বগুড়ায় তার গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিক কেউ কোনো কথা না বললেও পরে মুখ খুলেছেন রংপুর বিভাগীয় পুলিশ কমিশনার। কাদের খানকে এমপি লিটন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে ঢাকাটাইমসকে জানান তিনি।

জাতীয় পার্টির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ডা. আব্দুল কাদের খান ২০০৮ সালে গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে ওই দলের টিকিটে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির ‘নির্বাচনে’ আওয়ামী লীগ নেতা মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় গাইবান্ধা-১ আসনে নির্বাচিত হন। ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন নিজ বাড়িতে গুলিতে খুন হলে ওই আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। এরই মধ্যে ওই আসনের উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে এবং আগামী ২২ মার্চ ভোট গ্রহণের কথা রয়েছে।

দৈনিক উত্তরের খবর পত্রিকার সম্পাদক আব্দুস সালাম বাবু জানান, কাদের খানকে গ্রেপ্তারের সময় পুলিশের কাছে কারণ জানতে চাইলে তারা কিছুই বলেনি।

বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমদাদ হোসেন জানান, কাদের খানের গ্রেপ্তারের কারণ তাদের কাছে জানা নেই। গাইবান্ধার পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে আমরা সহযোগিতা করেছি মাত্র।

পরে রংপুর বিভাগীয় পুলিশ কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক মুঠোফোনে জানান, কাদের খানকে গাইবান্ধা-১ আসনের এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম