সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : চলতি বছরের জানুয়ারিতে সুইজারল্যান্ডের ডাভোসে অনুষ্ঠিত ৪৭তম ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) সম্মেলনের নানাদিক তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিগত একদশক ধরে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জিডিপি প্রবৃদ্ধি এবং বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ বজায় থাকায় বিশ্ব সম্প্রদায় বাংলাদেশকে নিয়ে আশাবাদী। বাংলাদেশকে যথাযথভাবে ব্র্যান্ডিং করার সময় এসেছে।

বুধবার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তরে টেবিলে উত্থাপিত নুরুল ইসলাম মিলনের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হয়।

প্রধানমন্ত্রী জানান, এজন্য আমি বাংলাদেশে বিদ্যমান বিনিয়োগ সুবিধা ও পরিবেশের কথা তুলে ধরে বিদেশি বিনিয়োকারীদের বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে বিনিয়োগে উৎসাহী করতে ডব্লিউইএফ চেয়ারম্যানকে অনুরোধ করেছি। ডব্লিউইএফ-এর সম্মেলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিশ্বের শীর্ষ বহুজাতিক কোম্পানি, ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগে যথেষ্ট আগ্রহী করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমান অর্থনীতিকেন্দ্রিক রাজনৈতিক প্রেক্ষিত বিবেচনায় ডব্লিউইএফ ফোরামে অংশগ্রহণ বাংলাদেশের জন্য সুদূরপ্রসারী সুফল বয়ে আনবে। সম্মেলনে আমাদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিশ্বের শীর্ষ বহুজাতিক কোম্পানি, ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগে যথেষ্ট আগ্রহী করা সম্ভব হয়েছে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। সার্বিক বিবেচনায় এ সম্মেলনটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল এবং ফলপ্রসূ হয়েছে।

শেখ হাসিনা জানান, বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক ইস্যুতে, বিশেষ করে অর্থনীতি ও বাণিজ্য, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং অভিবাসনসহ নানা ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে বাংলাদেশের একটি স্বতন্ত্র এবং বলিষ্ট অবস্থান তৈরি হয়েছে। বিশ্ব শান্তি, নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও অগ্রগতি নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে ভবিষ্যতে নীতি নির্ধারণী এ সম্মেলনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে উচ্চতর সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছে।

তিনি বলেন, ডব্লিউইএফ-এর এবারের সম্মেলনে বিশ্বের ৬০টি দেশের রাষ্ট্র/সরকার প্রধানসহ জাতিসংঘের নবনিযুক্ত মহাসচিব ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা প্রধানসহ অংশগ্রহণ করেন। রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানগণের অংশগ্রহণের পরিসংখ্যান বিবেচনা করলে এ সম্মেলনের গুরুত্ব অপরিসীম। বাংলাদেশের অর্থনীতি ও বাণিজ্য ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থ আরও সৃদৃঢ় করার লক্ষ্যে ডব্লিউইএফ বার্ষিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর ফলে বিশ্ব পরিমণ্ডলে বাংলাদেশকে একটি উদার গণতান্ত্রিক ও দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে আরও একবার তুলে ধরার সুযোগ হয়েছে।

সরকার দলীয় সংসদ এম আবদুল লতিফের প্রশ্নোত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের রফতানি বান্ধব নীতি ও সফল বাণিজ্যিক অর্থনীতির কারণে বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশকে শুল্কমুক্ত, কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার দিচ্ছে এবং এই সুবিধা বিস্তৃত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। বিশ্বব্যাপী তৈরি পোশাকের বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সম্ভাবনাময় দেশসমূহে বিপণন মিশন প্রেরণ এবং দেশে-বিদেশে আন্তর্জাতিক মেলার আয়োজনের অংশগ্রহণ অব্যাহত রাখা হচ্ছে।

বিমানবন্দরগুলোর উন্নয়নে নানামুখী ব্যবস্থা

গোলাম দস্তগীর গাজীর (নারায়ণগঞ্জ-১) এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দেশের বিদ্যমান বিমানবন্দরগুলোর উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে সরকার নানামুখী ব্যবস্থা নিয়েছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উন্নয়নে মাস্টার প্লান প্রণয়ন করা হয়েছে। বিমানবন্দরে নিরাপদে বিমান চলাচলের জন্য বিদ্যমান রানওয়ের ওপর এসফল্ট ওভারলের মাধ্যমে রানওয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিদ্যমান টেক্সিওয়ে রি-কনস্ট্রাকশনের মাধ্যমে টেকশিওয়ের ক্যাটাগরি উন্নয়নসহ লাইটিং সিস্টেম উন্নীত করা হয়েছে। এরফলে সুপরিসর বিমানের নিরাপদ চলাচল ব্যবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, জাইকার অর্থায়নে বিমানবন্দরগুলোর সেফটি ও সিকিউরিটি ব্যবস্থার উন্নয়নকল্পে গৃহিত প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে হযরত শাহ-আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সিকিউরিটি সংক্রান্ত ৭টি ইটিডি, ১টি এন্টি-এক্সপ্লসিভ কন্টেইনার, ১৯টি এক্সেস কন্ট্রোল সিস্টেম ও ১টি ডুয়েল ভিউ স্ক্যানিং মেশিন সংস্থাপন করা হয়েছে। শাহ আমানত বিমানবন্দরের প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি রাডার স্থাপন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যশোর ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ভিডিওআর ও ডিএমই সংস্থাপন করা হয়েছে। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অবশিষ্ট ৪টি ডুয়েল ভিউ হোল্ড ব্যাগেজ স্ক্যানিং সিস্টেম স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। বিমানবন্দরে অগ্নিনির্বাপক সংক্রান্ত নিরাপত্তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৩টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং বরিশাল বিমানবন্দর ও কক্সবাজার বিমানবন্দরের জন্য ফায়ার ভেহিক্যাল ক্রয় করা হয়েছে।

তিনি বলেন, কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করে সুপরিসর বিমান চলাচলের লক্ষ্যে বিদ্যমান রানওয়ে সম্প্রসারণ ও এর সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ লাইটিং সিস্টেম উন্নয়নের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। হযরত শাহ-আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আমদানি ও রফতানি কার্গো এলাকায় ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কার্গো গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কাজ দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করার উদ্দেশ্যে কার্গো হ্যান্ডলিং সেমি-অটোমেশন করা হয়েছে। এই বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নকারী বিমানে বহনকারী কার্গো মালামাল স্ক্যানিং করার জন্য রফতানি কার্গো ভিলেজে ৪টি মেশিন স্থাপন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি বিমানে ফুয়েল নেয়ার জন্য রি-ফুয়েলিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জন্য রানওয়ে সুইপার কেনা হয়েছে। শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কার্গো শেড নির্মাণের মাধ্যমে কার্গো ফ্যাসিলিটি বৃদ্ধি করা হয়েছে। শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো বিমানের পার্কিং এরিয়া বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ চলছে।

বিমানকে দুর্নীতিমুক্ত করার লক্ষ্যে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিমানের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারের নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিমানের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা/কর্মচারীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক/বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। সর্বোপরি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে দুর্নীতিমুক্ত একটি আধুনিক ও সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা এবং বিমানের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করার সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম