সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : খাদিজা আক্তার নার্গিস দেশের মানুষের কাছে পরিচিত ও আলোচিত মুখ। সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সে। গত ৩ অক্টোবর পরীক্ষা শেষে ফেরার পথে বখাটে ছাত্রলীগ নেতা বদরুলের উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে গুরুতর জখম হয় মেয়েটি। মাথায় গুরুতর আঘাতজনিত অবস্থায় তাকে ভর্তি করা হয় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে। সেখানে ৯২ ঘণ্টা লাইফ সাপোর্টে রাখা হয় তাকে। চিকিৎসাধীন থাকার প্রায় দুই মাসের মাথায় ২৮ নভেম্বর তাকে ফিজিওথেরাপির জন্য ভর্তি করা হয় সাভারের পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে (সিআরপি)। সেখানেই সিআরপির হেড অফ মেডিকেল সার্ভিস অ্যান্ড কনসালটেন্ট নিউরোসার্জেন বিশেষজ্ঞ ডা. সাঈদ উদ্দিন হেলালের অধীনে চলে খাদিজার চিকিৎসাসেবা।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় এক সংবাদ সম্মেলনের পর খাদিজাকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ করে দেয়া হবে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

সিআরপির চিকিৎসকদের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় রাত-দিন সেবার কারণেই খাদিজা আজ দ্রুত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। সেই অর্জনের কথা জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক এক চিকিৎসক জানান- এটা তাদের কর্তব্য। খাদিজাকে নিয়ে বাড়তি চাপ থাকলেও অন্য রোগীদের মতো তাকেও চিকিৎসা সেবা দিয়ে দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে দেয়াই ছিল চিকিৎসকদের লক্ষ্য।

‘খাদিজা এখন সম্পূর্ণ সুস্থ। চলার জন্য মৌলিক সব ধরনের কাজ সে একা একাই করতে পারে। বাড়ি ফিরে যেতে খাদিজার আর কোনো বাধা নেই’- দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানালেন খাদিজার সিআরপির সিনিয়র ফিজিওথেরাপিস্ট ও নিউরোলজি ডিপার্টমেন্টের ইনচার্জ ফারজানা শারমিন রুমানা।

তিনি বলেন, ‘খাদিজাকে যখন সিআরপিতে ফিজিওথেরাপির জন্য আনা হয় তখন তার শরীরের বাম অংশ বিশেষ একেবারেই অবশ ছিল। হুইল চেয়ার ছাড়া সে চলাফেরা করতে পারত না। পাশাপাশি মানুষিক অবস্থাও দুর্বল ছিল। কিন্তু আমাদের একনিষ্ঠ প্রচেষ্টায় খাদিজা এখন পুরোপুরি সুস্থ। সে তার দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড একাই করতে পারেন। খাওয়া ও গোসলসহ অন্যান্য মৌলিক কাজগুলোর জন্য এখন আর তাকে কারো ওপর নির্ভর করে থাকতে হয় না।’

ফারজানা শারমিন রুমানা বলেন, ‘প্রথম অবস্থায় তার মানসিক অবস্থাও ভালো ছিল না। তার শারীরিক সুস্থতা ফিরে পাওয়ার ওপর আমাদের আস্থা থাকলেও মানসিক অবস্থাটা নিয়ে চিন্তিত ছিল সবাই। মানসিক সমস্যা নিয়ে একজন সাইকোলজিস্ট খাদিজার নিয়মিত কাউন্সিলিং করতেন। সে আগে পরিবারের সদস্যদের জন্য বিশেষ করে মা-বাবার কথা মনে করে একান্তে কাঁদতো। আর সে জন্যই কিছুদিন আগে তাকে সিলেটে নিজ বাড়িতে পাঠানো হয়েছিল। এছাড়াও খাদিজার সুস্থতা নিয়ে মাঝে মধ্যেই চিকিৎসকরা বোর্ড মিটিং করতেন। যার ফলে আজ খাদিজা তার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পেরেছে।’

সিআরপি থেকে চলে গেলে খাদিজার চিকিৎসার দরকার আছে কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘খাদিজা আট-দশটা মানুষের মতোই সুস্থ ও স্বাভাবিক আছে।’ তবে দরকার হলে টেলিকমিউনিকেশন যেমন ভিডিও কলের মাধ্যমে তাকে চিকিৎসা সেবা দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

যিনি সব সময় খাদিজার কাছাকাছি থেকে চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন তিনি সিআরপির ক্লিনিক্যাল ফিজিওথেরাপিস্ট সুলক্ষণা শ্যামা বিশ্বাস।  খাদিজার ফিজিওথেরাপির ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘প্রথমত আমরা তার বিভিন্ন শারীরিক ব্যায়ামের ওপর জোর দিয়েছি। বিশেষ করে কাঁধের ব্যথার কারণে নিয়মিত মুভিলাইজেশন ও জয়েন্ট রেঙ্গাল করানো হতো। পাশাপাশি দুই হাতের ব্যালেন্স ঠিক করার জন্য রাফ সারফেইস ও আনস্টেবল সারফেইস নামে ব্যায়াম ছিল নিয়মিত। এছাড়া সিঁড়ি দিয়ে ওঠা-নামা, রিকশায় ওঠা ও স্বাভাবিক খাওয়া-দাওয়ার জন্য বিশেষ ধরনের ব্যায়ামও করানো হতো। সবকিছুর পরও খাদিজা মানসিকভাবে অনেক শক্তিশালী ও মানুষের দোয়া তার সাথে ছিল তাই এত দ্রুত সে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারছে।’

তবে খাদিজা তার জীবনে ঘটে যাওয়া বিভীষিকাময় ঘটনা মনে হলে কী করে এমন প্রশ্নে সুলক্ষণা বলেন, সেভাবে কখনো তার ব্যক্তিগত ব্যাপার নিয়ে আমি কথা বলিনি। তবে বদরুল যদি কোনো সময় তার সামনে আসে তবে তাকে সম্মুখীন হওয়ার মতো যথেষ্ট সাহস আছে বলেও তাকে জানিয়েছে খাদিজা।

এর আগে সিআরপিতে ভর্তির সময় (২৮ নভেম্বর) সিআরপির হেড অফ মেডিকেল সার্ভিস অ্যান্ড কনসালটেন্ট নিউরোসার্জেন বিশেষজ্ঞ ডা. সাঈদ উদ্দিন হেলাল সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানিয়েছিলেন, ‘মেডিকেলের ভাষায় গ্লাসকোকম যে উপাদানটি সাধারণ মানুষের মধ্যে ১৫ পরিমাপের থাকার কথা বর্তমানে খাদিজার মধ্যেও তাই রয়েছে। সে বর্তমানে স্বাভাবিক হলেও মাথায় গুরুতর আঘাতজনিত কারণে বাম হাতে স্বাভাবিক হয়নি এখনো। তবে মস্তিকের ইনজুরির কথা বলা যাচ্ছে না কত দিনে তিনি সুস্থ হবেন। এ ব্যাপারে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা চেয়ে পারতপক্ষে খাদিজার সাথে কথা না বলার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম