সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : উন্নতমানের জাতীয় পরিচয়পত্র বা স্মার্টকার্ড সংগ্রহের জন্য ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। ফলে বিতরণ কেন্দ্রে কার্ড গ্রহণ করার জন্য উপচে পড়ছে লোকসমাগম।

বৃহস্পতিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) রমনা থানাধীন একটি কেন্দ্রে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে মোহাম্মদপুরসহ অন্য এলাকাগুলোতেও প্রায় একই অবস্থা বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।

ডিএনসিসি’র শাহনূরী মডেল বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, কার্ড সংগ্রহের জন্য সাপের লেজের মতো আগতদের লাইন পেঁচিয়ে গেছে মাঠজুড়ে। সেখানে সকাল সাতটা থেকে নাগরিকরা লাইন ধরে কার্ড নিচ্ছেন।

কোনো বিশৃঙ্খলা না হলেও কেউ কেউ লাইন ব্রেক করতে চাচ্ছেন বলে মাঝেমাঝেই হইহুল্লোড় হচ্ছে। কিন্তু থানা নির্বাচন কর্মকর্তা মাহবুবা মমতা হেনার কঠোর তত্ত্বাবধায়নে নিয়মের কোনো ব্যত্যয় হচ্ছে না। এতো মানুষের ভিড় সামলে নিতে একা এ কর্মকর্তা রয়েছেন সদা তৎপর।

অপারেটরা ডেস্কে বসে সেবা দিলেও এ কর্মকর্তা দৌড়ঝাপ করে যার যেখানে প্রয়োজন সেখানেই ছুটে যাচ্ছেন। কারো সমস্যা হলে মনোযোগ দিয়ে শুনছেন ও সমাধান দিচ্ছেন।
কার্ড নিতে আসা নাগরিকরাও এ সেবা পেয়ে খুশি। তাদের মতে, কোনো ঝামেলা ছাড়াই কার্ড পাওয়া যাচ্ছে। তবে লোক বেশি হওয়ায় একটু সময় লাগছে।

নিউ ইস্কাটনের বাসিন্দা কবির হোসেন বলেন, কোনো অসুবিধা হয়নি তার কার্ড পেতে। দীর্ঘ লাইনের পেছনে থাকায় একটু সময় লেগেছে।

এদিকে কার্ড না পেয়ে ফেরত যাচ্ছেন বলে আগের মতো সে অভিযোগও কমে এসেছে। কেউ ভুল না করলে কার্ড নিয়েই ফিরছেন।

মাহবুবা মমতা হেনা বলেন, টার্ন আউট ভাল। আর এখন কেউ কার্ড না পেলে বা না নিলেও আগামী ১৪ মার্চ রিজার্ভ ডে রাখা হয়েছে। সেদিন নিতে পারবেন। আর থানা নির্বাচন কার্যালয় থেকেও পরবর্তীতে কার্ড সংগ্রহ করা যাবে।

বর্তমানে পঞ্চম ধাপের এ কার্যক্রমে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৫, ১৬, ১৭, ২৮, ২৯, ৩১, ৩২, ৩৫ ও ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের কার্ড বিতরণ চলছে। আর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৪৮, ৫০, ৫১, ৫২, ৫৩ ও ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটাররা কার্ড পাচ্ছেন।
উপরে উল্লেখিত ওয়ার্ডগুলোর ভোটাররা মোবাইল ফোনে মেসেজ দিয়ে জানতে পারবেন, কোন দিন কোন কেন্দ্রে স্মার্টকার্ড দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে SC স্পেস NID স্পেস ১৭ সংখ্যার এনআইডি নম্বর লিখতে হবে। এরপর তা ১০৫ নম্বরে পাঠিয়ে দিলেই ফিরতি এসএমএস দিয়ে স্মার্টকার্ড বিতরণের তারিখ ও কেন্দ্রের নাম জানিয়ে দেওয়া হবে। আর যাদের এনআইডি নম্বর ১৩ সংখ্যার, তারা একই নিয়ম অনুসরণ করে কেবল এনআইডি নম্বরের আগে জন্মসাল জুড়ে দিয়ে ১০৫ নম্বরে মেসেজ পাঠাবেন।

এছাড়া ১০৫ নম্বরে কল করেও স্মার্টকার্ড বিতরণ সংক্রান্ত তথ্য জানা যাবে।

আবার যারা ভোটার হয়েছেন কিন্তু এখনো জাতীয় পরিচয়পত্র পাননি তারা মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে SC লিখে স্পেস দিয়ে F লিখবেন। এরপর স্পেস দিয়ে লিখবেন নিবন্ধন স্লিপের ফরম নম্বর। এরপর আবারও স্পেস দিয়ে D লিখে yyyy-mm-dd ফরম্যাটে জন্ম তারিখ লিখে ১০৫ নম্বরে পাঠাবেন।

পুরনো এনআইডি হারালে যা করতে হবে:
যারা পুরনো এনআইডি হারিয়ে ফেলেছেন, তারা জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট থানায় জিডি করে যে কোনো সোনালী ব্যাংক বা ডাচ বাংলা ব্যাংকের ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে নির্ধারিত ফি (সাধারণ ক্ষেত্রে ২৫৩ টাকা) দিয়ে সংশ্লিষ্ট থানা বা উপজেলা নির্বাচন অফিস থেকে অথবা জরুরি হলে ৩৬৮ টাকা জমা দিয়ে ইসলামী ফাউন্ডেশন ভবনে স্থাপিত এনআইডি শাখা থেকে পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে হবে। এরপর তা নিয়ে নির্ধারিত কেন্দ্রে গিয়ে সংগ্রহ করতে হবে স্মার্টকার্ড।

নিবন্ধন স্লিপ হারালে যা করতে হবে:
ভোটার হওয়ার সময় দেওয়া ভোটার স্লিপ যারা হারিয়ে ফেলেছেন, তাদেরও সংশ্লিষ্ট থানায় জিডি করতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট থানা বা উপজেলা নির্বাচন অফিস থেকে অথবা নির্বাচন কমিশনের ওয়েব সাইট থেকে এনআইডি নম্বর সংগ্রহ করতে হবে। এরপর জিডির কপির সঙ্গে তা নিয়ে স্মার্টকার্ড বিতরণে কেন্দ্রে যেতে হবে।

যারা ভোটার হয়েছেন কিন্তু এনআইডি পাননি:
এমন ব্যক্তিরা ভোটার নিবন্ধন স্লিপ নিয়ে স্মার্টকার্ড বিতরণ কেন্দ্রে গেলেই পাবেন স্মার্টকার্ড।

কবে কোন এলাকার ভোটারদের কোন ওয়ার্ডে স্মার্টকার্ড দেওয়া হবে তা দেখতে ক্লিক করুন:

২০১৬ সালের ২ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রপতিকে স্মার্টকার্ড বিতরণের মাধ্যমে একার্যক্রমটি উদ্বোধন করেন। এরপরদিন ঢাকার রমনা ও উত্তর এবং কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে কার্ড বিতরণে যায় সংস্থাটি।

ইসির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঢাকায় স্মার্টকার্ড বিতরণ শেষে প্রথমে বিভাগীয় শহরে এরপর জেলায় এবং সবশেষে উপজেলা, ইউনিয়ন পর্যায়ে স্মার্টকার্ড দেওয়া হবে।

ফ্রান্সের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অবার্থার টেকনোলজিস নামে একটি কোম্পানিটির সঙ্গে ২০১৫ সালের ১৪ জানুয়ারি ১৮ মাসের মধ্যে ৯০ মিলিয়ন স্মার্টকার্ড প্রস্তুত করে দেওয়ার চুক্তি করে নির্বাচন কমিশন। ২০১৬ সালের জুনেই যার মেয়াদ শেষ হয়েছে। চার মাস কারিগরি কারণে উৎপাদন বন্ধ থাকায় স্মার্টকার্ড ছাপানোর কাজ শেষ করতে বিলম্ব হয়। ওই কোম্পানিটির ৯ কোটির ভোটারের স্মার্টকার্ড তৈরি করে দিলেও দেশের বর্তমানে ভোটার রয়েছে ১০ কোটি বেশি। তাদের ‌উন্নতমানের এ কার্ড সরবরাহে নতুন তহবিল সংগ্রহ করছে সংস্থাটি।

স্মার্টকার্ড বিতরণের পঞ্চম ধাপের সিডিউল দেখতে ক্লিক করুন:


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম