সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর : রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ অর্জিত জ্ঞান, দক্ষতা ও নিজেদের সামর্থ্য কাজে লাগিয়ে টেকসই কৃষি উন্নয়ন নিশ্চিত করতে কৃষি বিজ্ঞানী, গবেষক ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি আজ সকালে এখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমআরএইউ) তৃতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানের ভাষনে এই আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘কৃষি ও এর উৎসকে ভুলে গেলে চলবে না … বরং দেশের কৃষি ক্ষেত্রে নতুন বিপ্লব নিশ্চিত করার জন্য টেকসই পদ্ধতি ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনে অঙ্গীকার রাখতে হবে।’
রাষ্ট্রপতি আলু, আম, টমেটো ও অন্যান্য মৌসুমী ফল উৎপাদনে কৃষকদের উৎসাহিত করতে তাদের পাশে থাকা এবং ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতেও সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ কৃষক-বান্ধব উদ্ভাবন ও নতুন প্রযুক্তির চাহিদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন যাতে তারা (কৃষকরা) সহজেই সে সব ব্যবহার করতে পারেন।
তিনি তাঁর বক্তব্যে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারকারী মুক্তিযোদ্ধা, ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যারা অবদান রেখেছেন তাদের কথা স্মরণ করেন।
দেশে উচ্চশিক্ষা সম্প্রসারণ হচ্ছে একথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, উচ্চশিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মানবতাবোধ বৃদ্ধি, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং দেশ ও জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা।
রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, কিন্তু কৃষি ভূমি ক্রমশ কমে যাচ্ছে। তাই আমাদের ভাবতে হবে কিভাবে এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করে আমরা সামনের দিকে অগ্রসর হব।
তিনি বলেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে এ ব্যাপারে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য দেশের সকল কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে উদ্যোগ নিতে হবে।
বিএসএমআরএইউ’র চলমান একাডেমিক কারিকুলাম উত্তর আমেরিকার কারিকুলাম অনুযায়ী তৈরি উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা পদ্ধতি ও গবেষণা কর্যক্রম দেশ ও বিদেশে সমাদৃত হচ্ছে।
তিনি সময়োপযোগী শিক্ষা পদ্ধতি এবং শস্য, পশুসম্পদ, মৎস্য ও বনায়নসহ কৃষিক্ষেত্রে পরিকল্পনামাফিক উন্নয়নের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের অগ্রণী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

বিশ্বজুড়ে তথ্য প্রযুক্তি সম্প্রসারণের বিষয়টি উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে আইসিটি সেক্টরে ব্যাপক অগ্রগতি ছাড়া জ্ঞানের বহুমুখী ব্যবহার ও উন্নয়ন সম্ভব নয়।’
কৃষি ক্ষেত্রে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলা করা বাংলাদেশের জন্য একটি বিরাট চ্যালেঞ্জ। তাই আমাদের প্রয়োজন জ্ঞানভিত্তিক টেকসই কৃষি-প্রযুক্তির উদ্ভাবন এবং তার যথাযথ ব্যবহার করা।
রাষ্ট্রপতি হামিদ বলেন, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আমাদের এখন প্রয়োজন স্বল্প খরচে গুণগতমানের উৎপাদনের বিভিন্ন উদ্ভাবনীর জন্য প্রচেষ্টা গ্রহণ করা।
কৃষিক্ষেত্রে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ব্যাপক অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু বুঝেছিলেন কৃষির উন্নয়ন ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই তিনি ১৯৭৩ সালে কৃষিতে স্নাতক ডিগ্রিধারীদের প্রথম শ্রণীর কর্মকর্তা হিসেবে উন্নীত করেছিলেন।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু সারাজীবন দেশকে অসাম্প্রদায়িক, ক্ষুধামুক্ত ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে স্বপ্ন দেখেছিলেন।
রাষ্ট্রপতি হামিদ এই বিশেষ দিনে কৃষিতে স্নাতকদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তাদের পিতামাতা ও শিক্ষকদের অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দেন।
তিনি বলেন, ‘তোমরা সব সময় মানবিক মূল্যবোধ, সচেতনতা ও দেশাত্মবোধকে জাগ্রত রাখবে। তোমরা তোমাদের মেধা, জ্ঞান ও কর্মের মাধ্যমে জাতির আশা-আকাক্সক্ষা বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখার জন্যও সচেষ্ট থাকবে।’
রাষ্ট্রপতি কোন অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করা এবং এই দেশকে ভুলে না যাওয়ার জন্যও শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিএসএমআরএইউ’র উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান এবং সমাবর্তন বক্তা ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান বক্তব্য রাখেন।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম