সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর পিলখানায় ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বিডিআর বিদ্রোহে রথী-মহারথীরা জড়িত বলে দাবি করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম। বিডিআর বিদ্রোহের অষ্টমবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে তোপখানা রোডের শিশুকল্যাণ মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি করেছেন।

‘বিডিআর হত্যাকান্ড: বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (বাংলাদেশ ন্যাপ)।

হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘বিডিআর ট্রাজেডি স্মরণে অনেক আগে থেকেই ২৫ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক পালন করা উচিত ছিল। কিন্তু ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ তাদের আত্মীয়-স্বজনের বাইরে অন্য কোনো কিছুতে জাতীয় শোক পালনে রাজি নয়।’

তিনি আরও বলেছেন, ‘প্রত্যেকটি বিদ্রোহের ঘটনা সফলভাবে দমন করা গেলেও বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা দমন করা যায়নি। কারণ, ঘটনার পরিকল্পনাকারীরা আগেই আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়িতে গিয়ে দেখা করে আসে।’

দেশে বর্তমানে ‘স্বৈরতন্ত্র’ চলছে অভিযোগ করে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘বাংলাদেশে এখন আইনের শাসন, মানবাধিকার ও মৌলিক অধিকার বলে কিছু নেই। দেশ এখন একটি দলের পৈতৃক সম্পত্তিতে পরিণত হয়ে গেছে। কিন্তু দেশবাসী কখনো কোনো স্বৈরাচারকে সহ্য করেনি, তাই বর্তমান স্বৈরাচার সরকারকেও বেশি দিন সহ্য করবে না। জনগণের আন্দোলনের মুখেই তাদের পতন ঘটবে।’

বিডিআর ট্রাজেডি স্মরণে ২৫ ফেব্রুয়ারিকে ‘জাতীয় শোক ও শহীদ সেনাদিবস’ হিসেবে ঘোষণার দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে মেজর হাফিজ বলেছেন, ‘বিডিআর বিদ্রোহ ঘটনার পেছনে নেপথ্য শক্তি হিসেবে কারা কাজ করেছে, তা এখনো উদঘাটিত হয়নি। ফলে মূল পরিকল্পনাকারীরা এখনো ধরা-ছোঁয়ার বাইরেই রয়ে গেছে। তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।’

বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গনির সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া। এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন-এনডিপির চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা, বিএনপি যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, জাতীয় দলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা, কল্যাণ পার্টি মহাসচিব এম.এম আমিনুর রহমান, ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মামুন বিল্লাহ, এনডিপি প্রেসিডিয়াম সদস্য মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা, কল্যাণ পার্টি ভাইস চেয়ারম্যান সাহিদুর রহমান তামান্না প্রমূখ।

খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা বলেছেন, ‘জাতি জানতে চায়, পিলখানা ট্রাজেডির মূল পরিকল্পনাকারী তথা নেপথ্যের নায়ক এবং অর্থলগ্নিকারী কারা এবং তারা কোন উপগ্রহে থাকে? তাছাড়া এটি কি শুধু বিদ্রোহ, না পরিকল্পিত হত্যাকান্ড।’

খায়রুল কবির খোকন বলেছেন, ‘বিদ্রোহের ঘটনায় বিডিআর সদস্যদের বিচার হলেও আট বছরে আমরা ওই ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারীদের ধরতে এবং বিচারের আওতায় আনতে ব্যর্থ হয়েছি।’

সভাপতির বক্তব্যে জেবেল রহমান গনি বলেছেন, ‘২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের যে নাটক মঞ্চস্থ হয়েছিল, সেটি যে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর চরম আঘাত ছিল-তা আজ দিবালোকের মতো স্পষ্ট। স্বাধীনতার পরপরই বাংলাদেশকে অকার্যকর ও ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার যে চক্রান্ত, ২৫ ফেব্রুয়ারি সেই চক্রান্তেরই নগ্ন বহিঃপ্রকাশ ঘটে। আর ওইদিন ঢাকার পিলখানায় বিডিআর সদর দফতরে সেনাকর্মকর্তাদের হত্যার মাধ্যমে যে বিপুল ক্ষতি সাধিত হয়েছে, তা পূরণে বাংলাদেশের ২০ থেকে ২৫ বছর সময় লেগে যাবে।’


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম