সংবাদ শিরোনাম

 

নেত্রকোণা প্রতিনিধি : নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় কর্মী সমাবেশকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও ছাত্রদলের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশের ১৩ সদস্যসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। পুলিশের কাছ থেকে মৌখিক অনুমতি নেওয়ার পরও পুলিশ এতে বাধা দেয় এবং নেতা-কর্মীদের লাঠিপেটা করে বলে দাবি করেছে ছাত্রদল। অপরদিকে পুলিশ বলছে, অনুমতি ছাড়াই সমাবেশের আয়োজন করায় তাতে বাধা দেওয়া হয়

শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কেন্দুয়া পৌর শহরের আলীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

আহত লোকজনের মধ্যে পুলিশের পাঁচজন উপপরিদর্শক (এসআই), একজন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ও পুলিশের সাতজন সদস্য রয়েছেন। আহত পুলিশ সদস্যদের নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতাল ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ ও ছাত্রদল সূত্রে জানা গেছে, আজ কেন্দুয়া উপজেলা ছাত্রদলের উদ্যোগে পৌর শহরের আলীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মী সমাবেশের আয়োজন করে ছাত্রদল। সমাবেশ চলাকালে পুলিশ সেখানে গিয়ে বাধা দিলে নেতা-কর্মী ও পুলিশের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পুলিশ ছাত্রদলের কর্মীদের ধাওয়া দেয়। এতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল হাসান আরিফসহ কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হন। এ সময় ছাত্রদলের কর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়ে সংঘবদ্ধভাবে পুলিশের ওপর হামলা চালান। তাঁদের ছোড়া ইটের আঘাতে পুলিশের ১৩ সদস্য আহত হন। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে ও পুলিশের আহত সদস্যদের উদ্ধার করে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠায়।

পুলিশের আহত সদস্যরা হলেন- এসআই সঞ্জয় সরকার, আল আমীন, আবদুল কাদের, ছামেদুল হক, আবুল বাশার, এএসআই হেলাল আহমেদ, পুলিশের সদস্য সুমন মিয়া, মিজানুর রহমান, মো. জাকির হোসেন, সোহেল রানা, আবুল খায়ের, মো. রকিবুল ইসলাম ও আবদুল কুদ্দুস।

কেন্দুয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম হিলালী জানান, পুলিশের কাছ থেকে মৌখিকভাবে পূর্ব-অনুমতি নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে উপজেলা ছাত্রদল কর্মী সমাবেশ করছিল। তাতে পুলিশ এসে বাধা দেয় ও নেতা-কর্মীদের লাঠিপেটা শুরু করে। এতে অন্তত ১৫-২০ জন নেতা কর্মী আহত হন। আহত নেতা-কর্মীরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ছাত্রদল পূর্ব থেকে সভা করার জন্য কোনো রকম অনুমতি নেয়নি। অনেক লোকজন দেখে পুলিশ সেখানে গিয়ে বিষয়টি জানতে চেয়েছিল। তাতে ছাত্রদলের কর্মীরা পুলিশের ওপর হামলা চালান। এতে পুলিশের ১৩ জন সদস্য গুরুতর আহত হন। তাঁদের নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জেলা পুলিশ সুপার জয়দেব চৌধুরী বলেন, এলাকার পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত লোকজনকে আইনের আওতায় আনার জন্য থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম