সংবাদ শিরোনাম

 

স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম : ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার যেদিকে তাকানো যায়- শুধু ইরি-বোরো ধানের দিগন্ত বিস্মৃত সবুজ শ্যামলিমা। গত আমন ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় ও বাজার দর বেশ ভাল থাকায় এবারও কৃষকরা রাত-দিন সমান পরিশ্রম করে যাচ্ছেন বাম্পার ফলন ফলিয়ে ভাল দামের আশায়। পাশাপাশি চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ ভাল থাকায় এবং সার, ডিজেল, পানি ও কীটনাশকসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ সহজেই সরবরাহ পাওয়ায় কৃষকরা বাম্পার ফলনের আশা করছেন।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় চলতি মৌসুমে ইরি-বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ২১ হাজার ৪৫০ হেক্টর। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে চাষ হয়েছে ২৩ হাজার ১২০ হেক্টর জমিতে। এই পরিমাণ জমিতে সেচ সুবিধা দেয়ার জন্য মোট ৩ হাজার ২টি গভীর, অগভীর ও পাওয়ার পাম্প কাজ করছে। এর মধ্যে বিদ্যুৎচালিত গভীর নলকূপের সংখ্যা ২৬৭টি এবং ডিজেল চালিত ১১০টি। অগভীর নলকূপের সংখ্যা ২১৭৬টি। এর মধ্যে বিদ্যুৎচালিত ৪০৫টি এবং ডিজেল চালিত ১৭৭১টি। পাওয়ার পাম্প ৪৪৯টি। এর মধ্যে বিদ্যুৎচালিত ৭৯টি এবং ডিজেল চালিত ৩৭০টি।

গত আমন মৌসুমে বাম্পার ফলন এবং ধান-চালের ভাল দাম পাওয়ায় গফরগাঁওয়ের কৃষকরা এবারও নতুন আশা নিয়ে ইরি-বুরো ধান রোপন করেছেন। বর্তমানে কৃষকের এই প্রত্যাশার সবচেয়ে বড় বাধা বিদ্যুতের লাগামহীন লোডশেডিং থেকে রক্ষা পেয়েছে। অন্য বছরের তুলনায় এবার ভাল বিদ্যুৎ সরবরাহ ভাল থাকায় ও লো-ভোল্টেজ না থাকার কারণে কৃষকরা রাত-দিন সেচযন্ত্র চালাতে পারছেন।

অন্যদিকে সার, ডিজেল, পানি ও কীটনাশকসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ সহজেই সরবরাহ পাওয়ায় কৃষি বিভাগ ও কৃষকরা বাম্পার ফলনের আশা করছেন।

উপজেলার বাগবাড়ি গ্রামের কৃষক আনিছ উদ্দিন এবং পাঁচাহার গ্রামের আবুল কাশেম বলেন, প্রতিদিন গড়ে ১৯ থেকে ২২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে জমিতে সেচ দিতে কোন অসুবিধা হচ্ছে না। পাশাপাশি উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারাও নিয়মিত খোঁজ নিয়ে আমাদের বিভিন্ন রকম পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।

উপজেলার পাইথল গ্রামের আব্দুছ ছালাম, রাওনা গ্রামের ফজলুল হক ও আফাজ উদ্দিন, চাড়িপাড়া গ্রামের ফরিদ আহমেদসহ অনেক কৃষক জানান, টানা কয়েক বছর ধান আবাদ করে লোকশানের মুখে পড়ায় ধান চাষ বাদ দিয়ে অন্য ফসল করা চিন্তা করি। এরই মধ্যে আমন মৌসুমে বাম্পার ফলন ও ধানের বেশ ভাল বাজার দর থাকায় এবং স্থানীয় কৃষি বিভাগের অনুপ্রেরণায় এবার আমরা অধিকাংশ জমিতে ধানের আবাদ করেছি। ধান গাছের তেজদীপ্ত অবস্থা দেখে বাম্পার ফলনের আশা করছেন তারা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস এস ফারহানা হোসেন জানান, কৃষকদের মাঝে সার, বীজসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ শতভাগ নিশ্চিত করা হয়েছে। এখনো সারের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। এখন পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ অত্যন্ত ভাল। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে উপজেলায় বাম্পার ফলন হবে।

গফরগাঁও বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এ জেড এম আনোয়ারুজ্জামান বলেন, বর্তমানে বিদ্যুৎ সরবরাহ যথেষ্ট ভাল। কৃষকদের স্বার্থে এ অবস্থা অব্যাহত রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা করব।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম