সংবাদ শিরোনাম

 

শেরপুর প্রতিনিধি : বোরো মৌসুমের শুরুতেই শেরপুরে বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিং আর আসা-যাওয়ার খেলায় সেচ সংকটে পড়েছেন কৃষকরা। প্রয়োজনমতো পানি সেচ দিতে না পারায় বোরো ক্ষেত শুকিয়ে ফাটল ধরতে শুরু করেছে। এতে বোরো আবাদ নিয়ে শংকিত হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। তাছাড়া বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতের কারণে সেচ সংকট দেখা দেয়ায় শত শত একর জমি অনাবাদি পড়ে থাকছে।

শেরপুর সদরের চরাঞ্চল ও নালিতাবাড়ী উপজেলার উত্তরাংশের কয়েকটি ইউনিয়নে এ সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘসময় ধরে পল্লীবিদ্যুতের লোডশেডিং থাকছে। এক-দুই ঘণ্টা পর বিদ্যুৎ আসলেও ৫/১০ মিনিট পর আবার চলে যাচ্ছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ২/৩ ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিললেও বোরো রোপনের জমিতে চাহিদা অনুয়ায়ী সঠিকভাবে পানিসেচ দেয়া সম্ভব হচ্ছেনা। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান না হলে বোরো আবাদে তারা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।

অনেক কৃষক বলেন, বিদ্যুতের গোলযোগের কারণে তারা আবাদযোগ্য জমি পতিত রাখতে বাধ্য হচ্ছেন।

নালিতাবাড়ী উপজেলার নয়াবিল গ্রামের কৃষক শেখ ফরিদ বলেন, আড়াই কুর (আড়াই একর) জমি আবাদ করছি। কিন্তু অহন পানির অভাবে সারও দিবার দিবার পাইতাছিনা, নিড়ানিও দিবার পাইতাছিনা। মাডি (মাঠি) ফাইট্টা চৌচির অইয়া গেছে। মেশিন উলা কয় (মেশিন মালিক বলেন) কারেন নাই পানি দিমু কিবায়। হাজার হাজার ট্যাহা খরচ কইরা, আবাদ কইরা অহন আমরা দারুণ ক্ষতির সম্মুখীন।

নালিতাবাড়ী উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলায় এবারের বোরো মৌসুমে ১৯ হাজার ৮০০ হেক্টর জমি বোরো আবাদ হয়েছে। বৈদ্যুতিক সেচ নির্ভর জমি রয়েছে ৬ হাজার ৮০০ হেক্টর। তন্মধ্যে ৭০০/৮০০ হেক্টর জমিতে বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে সেচ সংকট দেখা দিয়েছে। দ্রুত বিদ্যুৎ সমস্যার বিষয়টি সমাধানের জন্য কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে উপজেলা সেচ কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগকে তাগাদা দেয়া হয়েছে।

নালিতাবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরিফ ইকবাল বলেন, বিদ্যুতের সমস্যার কারণে নালিতাবাড়ীর উত্তরাংশের প্রায় ৫০/৬০টি ডিপটিউবঅয়েল বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। সেচ কমিটির বৈঠকে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তরা জানিয়েছেন, উৎপাদন সমস্যার কারণে সরবরাহ ঘাটতিতে চাহিদার মাত্র অর্ধেক বিদ্যুৎ তারা পাচ্ছেন।


শেরপুর পল্লী বিদ্যুতের মহাব্যবস্থাপক মো. মাসরুল হক খান জানান, চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করতে হয়।

তিনি বলেন, লোডশেডিং থাকলেও তা বোরো আবাদের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা নেই। এছাড়া চাহিদা ৩৬ মেগাওয়াট থাকলেও বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে ২০ থেকে ২২ মেগাওয়াট। জামালপুরের ফুয়েল পাওয়ার প্যাকে তেল না থাকার কারণে কয়েকদিন সমস্যা ছিল, কিন্তু বর্তমানে সেখানে আর সে সমস্যা নেই।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এবার প্রায় ৯০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম