সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, শিক্ষা হবে দক্ষতামুখী। দক্ষতাবিহীন সনদভিত্তিক শিক্ষা ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও জাতির জন্য বোঝা তৈরি করে। যুগোপযোগী কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা-প্রশিক্ষণই জাতির অর্থনৈতিক মুক্তির পথ। কারিগরিই হবে শিক্ষার মূলধারা। সরকার পর্যায়ক্রমে শিক্ষাকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেবে।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ শনিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) আইডিইবি মিলনায়তনে স্কিলস এ্যান্ড ট্রেনিং এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্ট (স্টেপ)” আয়োজিত ‘জাতীয় স্কিলস্ কম্পিটিশন- ২০১৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষা বাংলাদেশের অগ্রাধিকার খাত, কারিগরি শিক্ষা হলো অগ্রাধিকারের অগ্রাধিকার। সরকার ইতোমধ্যে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষার্থী ভর্তির হার ১শতাংশ থেকে ১৪ শতাংশের উপরে উন্নীত করেছে। এই হার আগামী ২০২০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে জোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। চূড়ান্ত পর্যায়ে এ হারকে ৬৫ শতাংশের ঊর্ধ্বে তুলতে হবে। এখাতের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে সরকার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ করেছে। কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধি করা, কোর্স-কারিকুলাম যুগোপযোগী করা, যন্ত্রপাতি-ল্যাব-ওয়ার্কশপ বাড়ানো, নতুন নতুন প্রকল্প গ্রহণ করাসহ নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’

নাহিদ আরও বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ট সুবিধার মধ্যে আছে। এক শ’ বছরের অধিক সময় পর পর কোন দেশ এ সুবিধা পায়। বর্তমানে বাংলাদেশে ১৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা ১০ কোটি ৫৬ লক্ষ। শতকরা হারে তা ৬৬ শতাংশ। ২০৩০ সালে এই হার ৭০ শতাংশে উন্নীত হবে। এ এক বিশাল সুযোগ। এ সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে। নতুন প্রজন্মকে আধুনিক কারিগরি প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তুলতে হবে। তা না হলে এরাই হয়ে উঠবে দেশের জন্য বড় বোঝা। তিনি কারিগরি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরকে অনতিবিলম্বে প্রয়োজনীয় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য অর্জনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

অনুষ্ঠানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও কারিগরি শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অশোক কুমার বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা সচিব মোঃ সোহরাব হোসাইন, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা সচিব মোঃ আলমগীর, স্কিলস এ্যান্ড ট্রেনিং এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্ট-এর প্রকল্প পরিচালক এ বি এম আজাদ, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ ঊক্তৃতা করেন।

প্রসঙ্গত, দেশে তৃতীয় বারের মতো স্কিলস্ কম্পিটিশন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গতবছর অক্টোবর মাসে দেশের ১৬২টি সরকারি-বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের প্রায় দেড় লক্ষ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে এ প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছিল। সেখান থেকে উঠে এসেছিল নতুন ৮০০ প্রকল্প। ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হয় আঞ্চলিক পর্যায়ের প্রতিযোগিতা। সেখান থেকে জাতীয় পর্যায়ে এসেছে ৫১টি প্রদর্শনী প্রকল্প। আজ নির্বাচিত হবে টপ তিন প্রকল্প। এই সর্বোত্তম তিন প্রকল্প জাতীয় প্রযুক্তিতে অবদান রাখবে।

‘জাতীয় স্কিলস কম্পিটিশন ২০১৬’-এর উদ্বোধন উপলক্ষে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের নেতৃত্বে শনিবার সকালে জাতীয় যাদুঘর হতে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি কাকরাইলস্থ আইডিইবি-তে গিয়ে শেষ হয়। র‌্যালিতে ঢাকাস্থ কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে।

মন্ত্রী আইডিইবি’র ৫ম তলায় স্কিলস কম্পিটিশনের স্টলগুলো পরিদর্শন করেন।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম