সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর শাহজাহানপুরে পাইপে পড়ে শিশু জিহাদের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় রেলওয়ের সহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামসহ ৪ জনের ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রায়ে দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ২ লাখ টাকা করে জরিমানাও করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরও ২ বছর করে কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।

রবিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার ৫নং বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামানের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

কারাদণ্ডপ্রাপ্ত অপর তিন আসামি হলেন-শাহজাহানপুর রেল কলোনিতে পানির পাম্প বসানোর কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জেএসআর এর মালিক প্রকৌশলী আব্দুস সালাম, কমলাপুর রেলওয়ের সহকারী প্রকৌশলী মো. নাসির উদ্দিন ও ইলেকট্রিক ইঞ্জিনিয়ার আবু জাফর আহমেদ শাকির।

এদিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ২ জনকে বেকসুর খালাস ঘোষণা করেন আদালত। এরা হলেন-রেলওয়ের সহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) দিপক কুমার ভৌমিক ও সাইফুল ইসলাম।

প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা ধরে পড়া রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, এই আসামিদের অবহেলার কারণে একটি তিন বছরের শিশুর অকাল মৃত‌্যু হয়েছে খেলতে গিয়ে।

এর আগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি এ মামলায় যুক্তি উপস্থাপন শেষ হওয়ার পর ২৬ ফেব্রুয়ারি মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছিলেন। সে অনুযায়ী আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

এই মামলায় বিভিন্ন সময়ে মোট ১৩ জন সাক্ষী আদালতে তাদের সাক্ষ্য প্রদান করেন। এর মধ্যে সাফাই সাক্ষ্য পেশ করেছেন ৩ জন। ২০১৬ সালের ৪ অক্টোবর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন একই আদালত।

২০১৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর শাহজাহানপুর কলোনির মাঠে খেলতে গিয়ে ওয়াসা ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের অরক্ষিত গভীর নলকূপের পাইপে পড়ে যায় শিশু জিহাদ। দীর্ঘ ২৩ ঘণ্টা অভিযান চালিয়েও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করতে ব্যর্থ হন। পরবর্তী সময়ে কয়েকজন যুবক নিজস্ব প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি খাঁচার সাহায্যে শিশু জিহাদের মৃতদেহ উদ্ধার করেন।

ওই ঘটনায় জিহাদের বাবা নাসির উদ্দিন ফকির ২০১৪ সালের ২৮ ডিসেম্বর ‘দায়িত্বে অবহেলায়’ জিহাদের মৃত্যুর অভিযোগ এনে শাহজাহানপুর থানায় মামলা করেন। ফৌজদারি আইনের ৩০৪/ক ধারায় মামলা দায়ের করেন তিনি।

মামলার অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, শাহজাহানপুরে রেলওয়ে কলোনির একটি পানির পাম্পে লোহার পাইপ দিয়ে কূপ খনন করা হয়। কূপে নিরাপদ ব্যবস্থা না করে মুখ খোলা অবস্থায় দীর্ঘদিন পরিত্যক্তভাবে ফেলে রাখা হয়। ২০১৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর জিহাদ কূপের পাশে খেলার সময় পাইপে পড়ে মারা যায়। ‘দায়িত্বে অবহেলায়’ জিহাদের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে।

২০১৬ সালের ৩১ মার্চ ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক মিজানুর রহমান রেলওয়ের সহকারী জ্যেষ্ঠ ইঞ্জিনিয়ার জাহাঙ্গীর আলমসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলার অপর আসামিরা হলেন- বাংলাদেশ রেলওয়ের সহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম, দীপন কুমার ভৌমিক, নাসির উদ্দিন ঠিকাদার, শফিকুল ইসলাম ও ইলেকট্রিশিয়ান জাফর অহম্মেদ শাকি।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম