সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর বাংলা একাডেমিতে একুশে গ্রন্থমেলার শনিবারের চিত্র। ছবি: যুগান্তর
বাংলা একাডেমির বহেড়াতলায় লিটল ম্যাগাজিন বা ছোট কাগজের চত্বর। অনেকের কাছেই এই জায়গাটি মেলার সবচেয়ে প্রিয়। বিশেষ করে তরুণ কবি সাহিত্যিক লেখক পাঠকদের কাছে। এই চত্বরটিতে যাদের আনাগোনা তাদের চিন্তার জায়গাটিও কিছুটা ভিন্ন। যারা আপসকামিতায় বিশ্বাস করেন না, প্রথা ভাঙতে চান, বড় কাগজে লেখেন না বা সুযোগ পান না তারাই লিটল ম্যাগ বা ছোট কাগজে লেখেন। নিজেরাই নিজেদের কাগজটি বের করে জানান দিতে চান একান্তই ব্যক্তিগত কিংবা ক্ষুুদ্র গোষ্ঠীর স্বতন্ত্র চিন্তাধারা। তবে বহেড়াতলার লিটল ম্যাগ বা ছোট কাগজের জায়গাটিতে পরিবর্তন এসেছে। সেটি হচ্ছে ছোট কাগজ প্রকাশের পাশাপাশি লিটল ম্যাগ প্রকাশকরা বইও প্রকাশ করছেন। বেশির ভাগই তরুণ ও নতুন লেখকদের বই। এই পরিবর্তন ইতিবাচক না নেতিবাচক তা এখনই বলা কঠিন। তবে তরুণ লেখকদের অবস্থান যে দিনে দিনে শক্ত হচ্ছে এটা বোঝা যায়।

এ বছর বহেড়াতলায় বসেছে ১১০টি লিটল ম্যাগাজিন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য খড়িমাটি, শালুক, কবিতাপত্র, প্রান্তস্বর, শব্দগুচ্ছ, লোক, শাহবাগ, নিসর্গ, সাম্প্রতিক, অর্বাক, মেঘফুল, দ্রষ্টব্য, ধমনি, বেহুলা বাংলা, চর্যাপদ, উতঙ্ক, কবি, কালের ধ্বনি, চিহ্ন, মত ও পথ, চালচিত্র, গল্পকথা, খেয়া, চৈতন্য, করাতকল, প্রান্ত ৫০, চারবাক, মেঘ, দাঁড়কাক, কবিতা বাংলা, ম, তৃতীয় চোখ, প্রতিবুদ্ধিজীবী, নন্দন, জলছবি বাতায়ন, অনুরণন, কোরাস, প্রতিকথা, দাগ। খড়িমাটির সম্পাদক মনিরুল মনির বললেন, যাদের লেখা পত্রিকায় ছাপা হয় না তারাই লিটল ম্যাগাজিনে নিজের লেখা নিজেই লেখেন। কারো তোয়াক্কা করে এখানে লেখতে হয় না। ছোট কাগজের প্রকাশনাগুলো থেকে অনেকেই এখন পরিচিত নতুন লেখকদের বইও প্রকাশ করছেন। যেহেতু মেলা এখন দুই ভাগে বিভক্ত, তাই এখানে এসেও অনেকে বইয়ের খোঁজ করেন।

সব্যসাচীর সম্পাদক শতাব্দী সানজানা বললেন, নতুনদের চিন্তাধারা অন্যরকম। তারই ছাপ পড়ে লেখায়। সব্যসাচী থেকে নতুন লেখকদেরও বই প্রকাশ হয়েছে। সেগুলোর বিক্রি বেশ ভালো।

তরুণ কবি প্রান্ত পলাশ বললেন, বহেড়াতলার চেহারা পাল্টে যাচ্ছে। এখানে ছোট কাগজের পাশাপাশি অনেক লিটল ম্যাগ প্রতিষ্ঠানই এখন লেখকদের বই প্রকাশ করছে। এই পরিবর্তন কোন দিকে মোড় নেবে সেটা এখনই বলা মুশকিল। তবে যে আন্দোলন নিয়ে ছোট কাগজের শুরু তার ধারাবাহিকতায় কোনো ব্যাঘাত ঘটবে না মনে করি।

এদিকে শনিবারও মেলায় ছিল শিশুপ্রহর। মেলার দ্বার খুলে যায় সকাল ১১টায়। চলে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত। সকাল থেকে মেলা শেষ হওয়া পর্যন্ত ছিল বইপ্রেমীদের ভিড়। বইয়ের বিক্রিও এদিন বেশ ভালো ছিল। বিকেলে মেলায় এসেছিলেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা।

কবরীর ‘স্মৃতিটুকু থাক’র প্রকাশনা উৎসব : শনিবার মেলার মোড়ক উন্মোচন মঞ্চে চিত্রনায়িকা কবরীর আত্মজৈবনিকমূলক গ্রন্থ ‘স্মৃতিটুকু থাক’-এর প্রকাশনা উৎসব হয়। সেখানে কবরী নিজেই জানালেন, এ বইটিতে তার জীবনের খণ্ডিত অংশ তুলে ধরেছেন; আরও লেখার ইচ্ছা আছে। বইটি প্রকাশ করেছে বিডিনিউজ পাবলিশিং লিমিটেড (বিপিএল)। কবরীর ‘স্মৃতিটুকু থাক’ বইটির প্রকাশনা উৎসবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, চিত্রশিল্পী মনিরুল ইসলাম, চিত্রগ্রাহক মাহফুজুর রহমান, বিডিনিউজের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী প্রমুখ।
মোড়ক উন্মোচন শেষে কবরী বলেন, আজকে অনেক মানুষ সামনে দাঁড়িয়ে, সারা জীবন এমনই ভালোবাসা পেয়েছি দর্শকদের কাছ থেকে।

নতুন বই : বাংলা একাডেমির তথ্যকেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, শনিবার মেলায় ২৫তম দিনে নতুন বই এসেছে ১৬৩টি এবং ৪১টি নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন হয়েছে। এগুলোর মধ্যে জাতীয় সাহিত্য প্রকাশ থেকে প্রকাশ হয়েছে রাশিদা আখতার খানমের ‘মনোদর্শন’, চৈতন্য থেকে এসেছে মামুন মিজানুর রহমানের গল্পগ্রন্থ ‘হেসে হেসে ডুবেছিল চাঁদ’, একই প্রকাশনা থেকে বিনয় দত্তের গল্পগ্রন্থ ‘চিলতে মেঘ ও কুহুকেকার গল্প’, লাবণী প্রকাশনী থেকে চন্দন রহমানের ‘খোঁচা’, অনুপম প্রকাশনী এনেছে সুভাষ সিংহ রায়ের ‘বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনা’, অন্যপ্রকাশ এনেছে সেলিনা হোসেনের ‘মুক্তিযুদ্ধের বাছাই গল্প’, সূচীপত্র এনেছে অধ্যাপক আবু স্য়াীদের ‘কোর্ট মার্শাল, আমি মৃত্যুকে পরোয়া করি না’, মূর্ধণ্য এনেছে মঞ্জুরে মওলার ‘পঁচিশ বছরের প্রেমের কবিতা’, অনিন্দ্য প্রকাশনী এনেছে ফাতেমা তুজ জোহরার ‘গীত ও সুরের ভিন্ন ঊর্মিমালায় নজরুল সঙ্গীত’, সৃষ্টি প্রকাশনী এনেছে আহসান হাবীবের ‘কাছে দূরে’।

শনিবারের আয়োজন : সকালে অমর একুশে উদ্যাপন উপলক্ষে ইতিমধ্যে অনুষ্ঠিত শিশু-কিশোর চিত্রাংকন, সঙ্গীত এবং সাধারণ জ্ঞান ও উপস্থিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিশু-কিশোরদের মাঝে পুরস্কার প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।

বিকালে গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘বাংলাদেশের শিশুসাহিত্য’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রফিকুর রশিদ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন আমীরুল ইসলাম এবং আসলাম সানী। সভাপতিত্ব করেন জাকির তালুকদার।

সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ছিল মুজতবা আহমেদ মুরশেদের পরিচালনায় ‘স্বভূমি লেখক শিল্পী কেন্দ্র’ এবং হাসান আবদল্লাহ্’র পরিচালনায় ঘাসফুল শিশুকিশোর সংগঠনের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।
আজকের আয়োজন : আজ রোববার মেলা শুরু হবে বিকাল ৩টায়। চলবে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত। বিকালে গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ‘আত্মজীবনীমূলক সাহিত্য’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম