সংবাদ শিরোনাম

 

কক্সবাজার প্রতিনিধি : মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য (আরাকান) থেকে বাংলাদেশে নতুন করে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের প্রকৃত সংখ্যা জানতে কক্সবাজারসহ চট্টগ্রাম ও বান্দরবানে একযোগে মঙ্গলবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হচ্ছে রোহিঙ্গা শুমারি। পরিসংখ্যান ব্যুরোর উদ্যোগে এ শুমারি চলবে আগামী ১০ মার্চ পর্যন্ত।

সোমবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) জেলা পরিসংখ্যান ব্যুরো কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. ওয়াহিদুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সকাল থেকে কক্সবাজার সদর, রামু, চকরিয়া, উখিয়া ও টেকনাফে এ শুমারি শুরু হবে। এ ছাড়া একই দিন থেকে চট্টগ্রামের লোহাগড়া, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ, পটিয়া ও বোয়ালখালী এবং বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি, লামা ও আলীকদমেও এ শুমারি শুরু হবে।

ওয়াহিদুর রহমান বলেছেন, ‘গত বছরের ৯ অক্টোবর মিয়ানামারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার ঘটনার পর দেশটির সেনাবাহিনী ব্যাপক অভিযান শুরু করলে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণ করে। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা নিয়ে আন্তর্জাতিকসহ বিভিন্ন সংস্থা একেক রকম পরিসংখ্যানের কথা বলছে। সরকার নতুন করে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের প্রকৃত সংখ্যা জানতে মঙ্গলবার থেকে কক্সবাজারসহ চট্টগ্রাম ও বান্দরবানে একযোগে রোহিঙ্গা শুমারির কাজ শুরু করবে। পাশাপাশি কক্সবাজারের নিবন্ধিত শরণার্থী শিবিরগুলোর (উখিয়ার কুতুপালংয়ে ১টি ও টেকনাফের নয়াপাড়ায় ১টি) বাইরে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে বসবাসকারী অনিবন্ধিত রোহিঙ্গাদেরও এ শুমারিতে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হবে। শুমারি চলবে আগামী ১০ মার্চ পর্যন্ত। তবে কাজের ওপর নির্ভর করে সময় আরো ২/১ দিন বাড়ানো হতে পারে।’

তিনি আরো বলেছেন, ‘মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা সীমান্তবর্তী উখিয়া ও টেকনাফের শরণার্থী শিবিরসহ বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকার পাশাপাশি জেলার রামু, চকরিয়া ও কক্সবাজার সদরে আশ্রয় নিয়েছে বলে নানা সূত্রে খবর পাওয়া গেছে। জেলার অন্য ৩ উপজেলায় নতুন করে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় নেওয়ার খবর এখনো পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তাই রোহিঙ্গাদের আশ্রয়প্রবণ ৫ উপজেলায় মঙ্গলবার থেকে শুমারি শুরু করা হবে।’

ওয়াহিদুর জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হবে শুমারির কাজ। শুমারির কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে ইতোমধ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মনিটরিং কমিটি গঠিত হয়েছে। জেলা কমিটিতে জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা কমিটিতে স্থানীয় ইউএনওদের কমিটি প্রধান করা হয়েছে। এ ছাড়া কক্সবাজারে শুমারিতে অংশ নেওয়া প্রতি দলে ২ জন করে মোট ১৭০টি দল কাজ করবে।

তবে মাঠ পর্যায়ে শুমারির কাজ শেষে কখন চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেছেন, ‘তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ওপর নির্ভর করছে।’

উল্লেখ্য, এর আগে গত বছর মার্চে মাসব্যাপী কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা অনিবন্ধিত রোহিঙ্গাদের সংখ্যা জানতে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এর সহযোগিতায় আরো একটি শুমারি করা হয়েছিল।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম