সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রদিকেদক, রংপুর : রংপুরে জাপানি নাগরিক হোসি কুনিও হত্যা মামলায় ৫ জনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে রংপুরের বিশেষ জজ আদালতের বিচারক নরেশ চন্দ্র সরকার এ রায় ঘোষণা করেন।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন-মাসুদ রানা, লিটন মিয়া, সাখওয়াত হোসেন, এসাহাক আলী ও আবু আনসারী। পলাতক রয়েছেন রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আনসারী।

তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায়আবু সাঈদ নামে এক আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। রায় ঘোষণার আগে পলাতক আনসারী ছাড়া সবাইকে কড়া পাহারায় আদালতে উপস্থিত করে পুলিশ।

২০১৫ সালের ৩ অক্টোবর রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার কাচু আলুটারী গ্রামে জাপানি নাগরিক হোসি কুনিও রিকশাযোগে তার ঘাসের খামারে যাওয়ার পথে গুলিতে নিহত হয়েছিলেন।

আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কাউনিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়।

এ ঘটনায় করা মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয় ১৯ ফেব্রুয়ারি। যুক্তি তর্ক শেষে ২৮ ফেব্রুয়ারি মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছিলেন আদালত। সে অনুযায়ী বিচারক এ রায় ঘোষণা করেন।

মামলার রায়ের প্রতিক্রিয়ায় পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট রথীশ চন্দ্র ভৌমিক বাবুসোনা জানান, এ রায়ে আমরা খুশি।

এ মামলায় আদালত ৬০ কার্যদিবসে মামলার মোট ৫৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ৫৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। আসামি শনাক্তকরণ, সাফাই সাক্ষ্যগ্রহণ এবং যুক্তিতর্ক উপস্থাপনসহ মামলার সকল আনুষ্ঠানিকতা সমাপ্ত হয়। ক্লুলেস এ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত খুনিদের খুঁজে বের করে তদন্ত শেষে চার্জশিট দিতে ১১ মাস সময় নেয় পুলিশ। তবে মাত্র সাত মাসেই বিচার কার্যক্রম শেষ করে রায় ঘোষণা করেছে আদালত।

হোসি কুনিও হত্যাকাণ্ডে জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সম্পৃক্ততা পায় পুলিশ। তদন্তকালে পুলিশ জঙ্গি সদস্য মাসুদ রানাকে গ্রেফতার করে। তিনি হোসি কুনিওকে হত্যার কথা স্বীকার করে ম্যাজিস্ট্রেটকে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে মাসুদ তার অপর সহযোগীদের নামও প্রকাশ করেন। সেই মতে কাউনিয়া থানার পরিদর্শক মামুন-উর-রশিদ তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ১ জুলাই জেলার পীরগাছা উপজেলার মাসুদ রানা (আসামি ১), একই এলাকার এছাহাক আলী (আসামি ২), আবু সাঈদ (আসামি ৩), বগুড়া জেলার গাবতলী এলাকার লিটন মিয়া (আসামি ৪) এবং গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা হলদিয়ার চরের সাখাওয়াত হোসেনসহ (আসামি ৫) আট জঙ্গির নামে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। ওই বছর ৭ জুলাই আদালত তা গ্রহণ করে কার্যক্রম শুরু করে।

আসামিদের মধ্যে মাসুদ রানা, এসাহাক আলী, সাখাওয়াত হোসেন, লিটন ও আবু সাঈদকে গ্রেফতার করে পুলিশ। দুই আসামি সাজ্জাদ আলী রাজশাহীতে এবং সাদ্দাম হেসেন ঢাকায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন। আরেক আসামি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু আনসারী পলাতক রয়েছেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কাদের জিলানী ২০১৬ সালের ৭ আগস্ট এ মামলায় জেএমবির ৮ জঙ্গির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ওই বছরের ১৩ অক্টোবর কাউনিয়া আমলি আদালত-২ এর বিচারক আরিফুল ইসলাম শুনানি শেষে মামলাটি রংপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন। পরে ২৬ অক্টোবর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক হুমায়ুন কবীর বিচারের জন্য মামলাটি বিশেষ জজ আদালতে স্থানান্তর করেন। ১৫ নভেম্বর শুনানি শেষে বিশেষ জজ আদালত সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম