সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : পরিবহন ধর্মঘটে নাকাল মানুষ। বাস নেই, মাঝেমধ্যে অটোরিকশা আসলেই হুমড়ি খেয়ে পড়ছে মানুষ। চালক যত চাইছেন তত ভাড়া দিতেই বাধ্য হচ্ছে মানুষ। রিকশা আর ভ্যানের ভাড়াও বেশি। এই বাহনও চাহিদার তুলনায় কম। অগত্যা বেশিরভাগ মানুষ চলতে বাধ্য হচ্ছে হেঁটে।

মানুষ হাঁটছে সাভার থেকে ঢাকা পর্যন্ত, হাঁটছে যাত্রাবাড়ী থেকে ধানমন্ডি পর্যন্ত, হাঁটছে মিরপুর থেকে ধানমন্ডি পর্যন্ত।

মিরপুরের কল্যাণপুর এলাকায় কথা হলো জামাল হোসেনের সঙ্গে। তার বাসা সাভারের গেন্ডা এলাকায়। জরুরি প্রয়োজনে ঢাকায় আসতেই হবে। সকালে বের হয়ে কোনো গাড়ি পাননি। এরপর হেঁটেই রওয়ানা দিয়েছেন। এতদূর হাঁটতে অনভ্যস্থ জামালকে ক্লান্তি পেয়ে বসেছে। পা ব্যাথা হয়ে যাচ্ছে।

জামাল বলেন, ‘এই ভোগান্তির কোনো মানে হয় না। পরিবহন চালকরা শক্তি দেখাচ্ছে। আমার মতো লাখ লাখ মানুষ ভুগছে।’

কেউ কেউ দীর্ঘ সময় ধরে সড়কের ধারে দাঁড়িয়ে আছে যানবাহন পাওয়ার আশায়। এদের একজন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকুরে কাজী রকিব। তার বাসা মিরপুরের কালসী, অফিস ধানমন্ডিতে। এক ঘণ্টারও বেশি সময় দাঁড়িয়ে থেকে যানবাহন না পাচ্ছেন না।  বলেস, ‘আজকে সম্ভবত অফিস করা হবে না।’

পরিবহন শ্রমিকদের কর্মসূচি নিয়ে ভীষণ ক্ষুব্ধ কাজী রকিব। তিনি বলেন, ‘এই ধর্মঘটের মানে নয় না। তারা অবৈধ ও অন্যায় কাজ করছে। এখানে সরকারের ভূমিকাও সন্তোষজনক নয়। তারা আদালতের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে।’

জোয়ারসাহারা মোড়ে দাঁড়িয়েছিলেন আফসানা মিলি। যাবেন মগবাজার। কোনো যানবাহন না পেয়ে বিরক্ত মিলি বলেন, ‘পৌনে এক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে আছি। এটা কোনো দেশ হলো? শ্রমিকরা পুরো দেশকে জিম্মি করে ফেলেছে। সরকার কিছু করে না কেন?’।

কল্যাণপুরের টেকনিক্যাল মোড়ে দাড়িয়েছিলেন এ কে হাবিব। যাবেন গুলশান। তিনিও কোনো যানবাহন না পেয়ে ক্ষুব্ধ। বলেন, ‘সাধারণ জনগণের ভোগান্তি বেড়েই চলেছে। সরকারের বিকল্প ব্যবস্থা নেয়া উচিত।’

যারা ঢাকার বাইরে যাবেন তাদের ভোগান্তি আরও বেশি। চাকরি ছেড়েছেন টাঙ্গাইল রফিকুল ইসলাম। ঢাকায় থাকার জায়গা নেই। পরিবহন ধর্মঘট চলছে জানতেন না তিনি। একটি বস্তা ও দুটি ব্যাগ নিয়ে শ্যামলীর বাসা থেকে বের হয়েই পেয়ে যান বিআরটিসির বাস। গাবতলী যাবেন দলে উঠে যান তাতে। কিন্তু সেখানে সংঘর্ষ চলছে বলে তাকে টেকনিক্যাল মোড়ে নামিয়ে দেয়া হলো।

সেখানেই রফিকুলের সঙ্গে কথা হয় ঢাকাটাইমসের। তিনি বুঝতে পারছেন না এখন কী করবেন। বলেন, ‘থাকার জায়গা তো ছাইরা দিছি। এখন বাড়ি যাইতেই অউবো। জানলে বাসারতে বাইর হতাম না। এখন বিপদে পড়ছি।’

বাসা পাল্টে নারায়ণগঞ্জ থেকে সাভার যাচ্ছিলেন শরিফ ও তার পরিবার। বাবার চাকরি হয়েছে ওই এলাকায়। সকালে পিকআপ ভ্যান ভাড়া করে রওয়ানা দেন। কিন্তু আটকা পড়েন কল্যাণপুরের টেকনিক্যাল মোড়ে। পরে তাদের গাড়িটি রাখা হয় খালেক পেট্রল পাম্পে।

গাড়ির মালামালের ওপর বসেছিলেন শরিফ। তার মা ও ভাবি গাড়ির ভেতরে চালকের আসনের পাশে বসেছিলেন। তাদের নিরাপত্তা নিয়েই বেশি চিন্তিত শরিফ। বলেন, ‘নারীদেরকে নিয়ে এভাবে বসে থাকা অস্বস্তিকর। বিপজ্জনকও বটে। নানা সমস্যা হতে পারে।’

পাবনা থেকে ঢাকায় এসে আটকা পড়েছেন সোলায়মান মিয়া। বাড়ি যাওয়া জরুরি। ধর্মঘট জেনেও তিনি বের হয়েছেন। হেঁটে গাবতলী এসে দেখছেন গাড়ি চলে কি না। সেখানে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আবার আসেন শ্যামলীতে বন্ধুর বাসায়। বলেন ‘এভাবে কেমনে চলবে। জোর যার মুল্লুক তার-এভাবেই যেন চলছে। সরকার কিছু করে না কেন।’

গাবতলী ও আশেপাশের বিভিন্ন সড়কে শ্রমিকদেরকে অবস্থান নিয়ে যান চলাচলে বাঁধা দিতে দেখা গেলো। তারা প্রাইভেট কার চলাচলেও বাধা দেয়ার চেষ্টা করছে।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম