সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ মানুষের ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। প্রায় ৬৭ কোটি মানুষ স্থূল, যা জীবন সংহারী বহু রোগের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। বাংলাদেশের জনসংখ্যার প্রায় এক-চতুর্থাংশ মানুষ স্থূল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, পুষ্টিহীনতার চেয়েও বেশি মৃত্যু হয় অতিভোজন ও অতি ওজনের জন্য। স্থূলতার সঙ্গে কিডনি রোগের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশে প্রায় দুই কোটি মানুষ কোনো না কোনোভাবে কিডনি রোগে আক্রান্ত।

শুক্রবার (৩ মার্চ) জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে বিশ্ব কিডনি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক গোল টেবিল বৈঠকে এ তথ্য জানান ল্যাবএইড স্পেশালাইজড হাসপাতালের কিডনি বিভাগের প্রধান এবং কিডনি অ্যাওয়ারনেস মনিটরিং অ্যান্ড প্রিভেনশন সোসাইটির (ক্যাম্পস) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম এ সামাদ।

আগামী ৯ মার্চ বিশ্ব কিডনি দিবস উপলক্ষে ‘স্থূলতা কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ায় : সুস্থ কিডনির জন্য সুস্থ জীবনধারা’ শীর্ষক শিরোনামে ক্যাম্পস এ গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে।

মূল প্রবন্ধে অধ্যাপক ডা. এম এ সামাদ জানান, বিশ্ব কিডনি দিবসের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে-কিডনি রোগের ব্যাপকতা ও ভয়াবহতা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা ও কিডনি বিকল প্রতিরোধ প্রাথমিক অবস্থায় রোগ শনাক্ত করে চিকিৎসা করা ও সুস্থ জীবনধারায় সবাইকে অভ্যস্ত করা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক সমীক্ষার বরাত দিয়ে তিনি আরও জানান, প্রথম ১০ মৃত্যুঝুঁকির মধ্যে স্থূলতা একটি। একসময় বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর প্রধান কারণ ছিল সংক্রামক ব্যাধি। এখন বাংলাদেশে ৬৫ ভাগের বেশি ক্ষেত্রে মৃত্যুর জন্য দায়ী অসংক্রামক ব্যাধি। আর স্থূলতা জীবন সংহারী এসব অসংখ্য ব্যাধির জন্ম দেয়। এর মধ্যে প্রধান রোগগুলো হলো-উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, হাড়জোড়া ক্ষয় ও ব্যথা, স্লিপ অ্যাপনিয়া বা ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হওয়া ও নাকডাকা, টোবোলিক সিড্রোম, মানসিক অবসাদ ও নিরানন্দভাব, কোলন ও মেয়েদের ব্রেস্ট ক্যানসারের মতো মারাত্মক ব্যাধি।

স্থূলতার সঙ্গে কিডনি রোগের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে জানিয়ে এ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক জানান, বাড়তি ওজন সরাসরি কিডনির ছাকনি নষ্ট করে দেয়। আবার পরোক্ষভাবে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগের মাধ্যমে কিডনির ক্ষতি হয়। পৃথিবীব্যাপী কিডনি রোগের হার অত্যন্ত ব্যাপক। বাংলাদেশে প্রায় দুই কোটি লোক কোনো না কোনোভাবে কিডনি রোগে আক্রান্ত। কিডনি বিকলের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল, বিধায় এ দেশের শতকরা ১০ জন রোগী এ চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারে না। অর্থাভাবে অকালে প্রাণ হারান সিংহভাগ রোগী। পক্ষান্তরে, একটু সচেতন হলে ৫০ থেকে ৬০ ভাগ ক্ষেত্রে কিডনি বিকল প্রতিরোধ করা সম্ভব। এ জন্য প্রয়োজন প্রাথমিক অবস্থায় কিডনি রোগের উপস্থিতি ও এর কারণ শনাক্ত করে তার চিকিৎসা করা।

কিডনি ফাউন্ডেশনের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. মুহিবুর রহমান জানান, স্থূলতা পরিহার করতে হবে। শুধু লাইফ স্টাইফ বা খাদ্যভ্যাস পরিবর্তন করে ৬৮ শতাংশ মৃত্যু ঝুঁকি কমানো সম্ভব। এসব অভ্যাসগুলো হলো ভাত বা চর্বিযুক্ত খাবার পরিহার করতে হবে। পর্যাপ্ত ফলমূল ও শাকসবজি খাওয়া, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা ও ধূমপান মুক্ত থাকা উচিত। কায়িক পরিশ্রম করা সম্ভব না হলে দিনে কমপক্ষে আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা হাঁটা উচিত। ২-৪ তলা পর্যন্ত লিফট ব্যবহার না করে হেটেই ওঠানামা করা ভালো বলে পরামর্শ দেন তিনি ।

কিডনি ফাউন্ডেশনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন অর রশিদ বলেন, ১৯৮২ সালে দেশে প্রথম কিডনি ট্রান্সফার শুরু হয়।এ পর্যন্ত দুই হাজারেরও বেশি কিডনি ট্রান্সফার করা হয়েছে।

তিনি মনে করেন, জীবন্ত মানুষের কাছ থেকে কিডনি না নিয়ে মানুষের মৃত্যুর পর কিডনি দান করতে পারেন। এ নিয়ে ধর্মীয় যে বাধার কথা বলা হয় তা মনে হয়ে আমাদের ইসলাম ধর্মে নেই। কারণ কোনো মানুষ মারা যাওয়ার পর তার একটি অঙ্গ দিয়ে যদি আরেকজন মানুষের জীবন বাঁচে এর চেয়ে আর বড় ধর্ম বা উপকার আর কি হতে পারে।

গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা বলেন, চিকিৎসা করে নয়, বরং প্রতিরোধ করেই কিডনি রোগের প্রাদুর্ভাব প্রশমন করতে হবে। আর এ ব্যাপারে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা উচিত মত দেন সবাই।

গোলটেবিল বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. রণজিত রায়, বেলার নির্বাহী পরিচালক সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান, সাবেক ক্রিকেটার গাজী আশরাফ হাসেন লিপুসহ চিকিসক, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশার বিশেষজ্ঞরা এতে মতামত ব্যক্ত করেন।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম