সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : “মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জমান নূর বলেছেন- বিলোনিয়া যুদ্ধ আমাদের মুক্তিযুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ।”

“এ যুদ্ধের মধ্য দিয়ে একদিকে আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা যেমন বিজয় অর্জন করেছিল। অন্যদিকে পাকিস্তান হানানাদার বাহিনীর মনোবল বহুলাংশে বিধ্বস্ত হয়ে গিয়েছিলো।”

রোবাবার (০৫ মার্চ) শেরে বাংলা নগরে নব নির্মিত মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে বিলোনিয়া যুদ্ধের মডেল হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

আসাদুজ্জামান নূর বলেন- আমাদের জনগণ যখন বিলোনিয়া যুদ্ধের সংবাদ পায়, তখন তারা উদ্দীপ্ত হয়; আমরা যারা বিভিন্ন সীমান্তে ছিলাম এই সংবাদ পেয়ে বিপুলভাবে অনুপ্রাণিত হই। সেই যুদ্ধের মডেল আমাদের জাদুঘরে আজ স্থাপন করা হলো, যেটি আমাদের নতুন প্রজন্ম দেখবে, মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানবে, মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পর্কে জানবে এবং আমাদের গৌরাজ্জ্ব্বোল মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তারা ধারণ করবে।

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বাঙালির গৌরব করার যথেষ্ট কারণ আছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমরা এমন একটা জাতি, যে জাতি মুক্তযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে। পৃথিবীর ইতিহাসে খুব কম জাতি আছে, যারা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে। সুতরাং আমরা এটা নিয়ে গর্ব অনুভব করতেই পারি।

নূর বলেন, এটি এমন একটি যুদ্ধ, যে যুদ্ধে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে সেনাবাহিনী, সীমান্তরক্ষী বাহিনী, ইপিআর, পুলিশ, আনসার, জনগণ- সমাজের সর্বস্তরের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। কারো মধ্যে কোনো দ্বিধা ছিলো না।

শুধু সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধা নয়, নিরস্ত্র বাঙালিরা মহান মুক্তিযুদ্ধে অপরিসীম অবদান রেখেছেন উল্লেখ করে আসাদুজ্জামান নূর বলেন- দেশের অভ্যন্তরে যারা প্রতি নিয়ত হুমকির মুখে জীবন যাপন করেছিলেন, মৃত্যুর ভয় প্রতিনিয়ত যাদের মাথার উপরে ঝুলছিলো সেই তারা যেভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দিয়েছেন সহযোগিতা করেছেন- সেটি আসলে একটি অনন্য ইতিহাস।

নূর বলেন, আমি সেই সৌভাগ্যবানদের একজন; যাদের ৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণ শোনার সুযোগ পেয়েছিলো। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ খুব স্পষ্ট ছিলো। তিনি পরিস্কার করে বলেছিলেন, প্রতিটা ঘরে দুর্গ গড়ে তোল। যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত হও।

আমরা সেই নির্দেশে বুঝে গিয়েছিলাম আমাদের কর্তব্য আর করণীয়।

নিজের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে দেশ বরেণ্য এই সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও বর্তমান সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, “আমার কথাটাই বলি। ৮ মার্চ আমি এলাকায় চলে যাই। ১৪ মার্চ আমরা থানা দখল করে অস্ত্র লুট করি। ওখানকার বাঙালি পুলিশ-আনসারদের কাছ থেকে অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ নিই। আমরা কিন্তু ২৫ মার্চের ক্রাকডাউনের জন্য অপেক্ষা করিনি। ১৪ মার্চ থেকে আমরা কর্মকাণ্ড শুরু করেছি, সেটা কার নির্দেশে? ওই বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের দেওয়া নির্দেশে। ওটিই আমাদের জন্য ছিলো যুদ্ধের ঘোষণা।”

মুক্তিযুদ্ধে সেনাবাহিনী, আনসার, পুলিশ, সাধারণ মানুষ যে বীরত্বের পরিচয় দিয়েছে তার প্রতিটি কাহিনী লিপিবদ্ধ হওয়া উচিত, সংরক্ষিত হওয়া উচিত এবং নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা উচিত, মত দেন আসাদুজ্জামান নূর।

তিনি বলেন, আমাদের গর্বের মুক্তিযু্দ্ধের এরাই উত্তরাধিকার। তাদের ইতিহাস জানতে হবে, লালন করতে হবে।

দেশ নিয়ে অনেক ষড়যন্ত্র হচ্ছে মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, আমরা জানি আমাদের সামনে বাঁধা আছে, অনেক ষড়যন্ত্র হচ্ছে। যে চেতনা নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল, বাঙালি জাতীয়তাবাদ, অসাম্প্রদায়িক চেতনা, গণতান্ত্রিক চিন্তা- সেটিকে বিঘ্নিত করার জন্য নানা রকম অপশক্তি মাথা চাড়া দেয়। আমরা জঙ্গিবাদ ও ধর্মান্ধ শক্তি উত্থান দেখি এই বাংলাদেশে। সেটি প্রতিহত করা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রতিটি বাঙালির কর্তব্য ও দায়িত্ব।

তিনি বলেন- মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর তার কর্মকাণ্ড দিয়ে অবদান রেখে চলেছে দেশের প্রতি। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর এ দেশের জনগণের জাদুঘর। আমরা ৮ জন ট্রাস্টি মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের কাজ শুরু করেছিলাম ঠিকই, কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় এটি জনগণের জাদুঘরে পরিণত হয়েছে। এর প্রতিটি ইটে বাংলাদেশের মানুষের অবদান আছে।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম