সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে ভারতের সঙ্গে একের পর এক চুক্তি করছে, এ অভিযোগ করে বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘রাষ্ট্রবিরোধী প্রতিরক্ষা চুক্তি হলে সেটি জনগণ মানবে না।’

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর পল্টনে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। ‘ভূলুণ্ঠিত গণতন্ত্র, নিষ্পেষিত জনগণ, ভঙ্গুর অর্থনীতি’ শীর্ষক এ সভার আয়োজন করে ‘জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম’ নামের একটি সংগঠন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন ভারত সফরে এ ধরনের চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়ে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘এ ধরনের কোনো রাষ্ট্রবিরোধী প্রতিরক্ষা চুক্তি হলে এ দেশের জনগণ মানবে না, নিরাপত্তা বাহিনী মানবে না, কেউ মানবে না। তারা প্রতিরোধে এগিয়ে যাবে।’

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘যদি বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে ভারতের প্রতিরক্ষা স্বার্থকে আমরা যদি প্রতিষ্ঠিত করতে চাই, তাহলে সত্যিকার অর্থে আমরা আমাদের স্বাধীনতা হারাব। এর পরিণতি যে কি ভয়ঙ্করের দিকে যাবে সেটি এখন থেকেই অনেক মানুষ বুঝতে পারছেন, জনগণ উপলব্ধি করতে পারছে।’

তিনি বলেন, ‘একটি ভোটারবিহীন সরকার থাকলে যেভাবেই হোক সে ক্ষমতায় থাকতে চায়। দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব থাকল কি না সেটি সে পাত্তা দেয় না, তাচ্ছিল্য করে এবং প্রভুরা যেখানে সন্তুষ্ট হবে সে অনুযায়ী কাজ করে। কারণ, তার ক্ষমতার খুঁটি হচ্ছে সেই জায়গায়।’

‘সুতরাং তাদের সন্তুষ্ট করার জন্যই অনেক কিছুই করতে পারে সরকার। তাই আমাদের সতর্ক হতে হবে। এই ১৬-১৭ কোটি মানুষের দেশে এ ধরনের একটি চুক্তির মাধ্যমে আমাদেরকে চিরস্থায়ীভাবে গোলামে পরিণত করার প্রচেষ্টা এর ভেতরে থাকছে কি না, এটি আমাদের অনুসন্ধান করে প্রতিরোধ এবং প্রতিবাদে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে,’ বলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব।

তিনি আরো বলেন, ‘একের পর এক চুক্তি হচ্ছে, কিন্তু দেশের জনগণকে কিছুই জানানো হচ্ছে না। ২০১০ সালে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ৫০টি চুক্তি। কী চুক্তি করা হয়েছে, তা কিন্তু প্রকাশ করা হয়নি। এটি অত্যন্ত একটি বিপজ্জনক বিষয়। এখন যেটি আগে থেকেই আশঙ্কা করছিলাম, সেই প্রতিরক্ষা চুক্তির দিকে ধাবিত হচ্ছে।’

সরকার এসব চুক্তি করতেই জাতীয়তাবাদী শক্তির ধারাবাহিক নেতৃত্বকে বিপর্যস্ত করছে বলেও অভিযোগ করেন বিএনপির এই নেতা।

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের আন্দোলনের ফসল ১/১১ এর সরকার তারেক রহমানকে নির্যাতন করেছে। তাকে পঙ্গু বানানোর চেষ্টা করেছে। টার্গেট ছিল একটি চক্রান্তকারী মহলের। এখন খালেদা জিয়ার নামে একটি মামলায় চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। সুতরাং এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। সবগুলো একে অপরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।’

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত জোট সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে প্রচুর বিনিয়োগ হচ্ছিল, এ দাবি করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘তখন ট্রেডের মাধ্যমে যে পুঁজি আসছিল তা ইন্ডাস্ট্রিতে ব্যবহার হচ্ছিল। এখন স্বয়ং অর্থমন্ত্রী বলছেন, বিদেশি বিনিয়োগ থেমে গেছে, দেশি বিনিয়োগও নেই। সুতরাং এই যে ইন্ডাস্ট্রি হলে কর্মসংস্থান হবে, জাতীয় পুঁজির বিকাশ হবে, একটি দেশ নিজের পায়ে দাঁড়াবে, এটিকে আটকে দিতে গিয়েই মঈনুদ্দিন-ফখরুদ্দিনকে আনা হয়েছে আওয়ামী লীগের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। এই যে তাদেরকে নিয়ে আসা হলো, এর পুরস্কার হিসেবে ছয়টি ঘোড়া ভারত থেকে তাদেরকে দেওয়া হলো, এটি প্রতীকী অর্থে। সেদিনই আমরা বুঝতে পারছিলাম, এ দেশের সার্বভৌমত্ব ক্রমেই দুর্বল হয়ে আসছে।’

আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান বলেন, ‘বর্তমান সরকার জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন। সরকার বিএনপিকে ভয় পাচ্ছে। তাই তারা নিবন্ধন হারানোর ভয় দেখিয়ে তাদের অধীনে বিএনপিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের চেষ্টা চালাচ্ছে।’

বিএনপি নিবন্ধন হারানোর ভয়ে ভীত নয়, এ দাবি করে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক সরকার গঠনের আহ্বান জানান ড. মঈন খান।

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা নিপুণ রায়, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান প্রমুখ।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম