সংবাদ শিরোনাম

 

স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম : নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ বাংলাদেশের (হুজিবি) প্রধান মুফতি হান্নানকে গাজীপুরের টঙ্গিতে প্রিজন ভ্যানে গ্রেনেড ও বোমা হামলা চালিয়ে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্ঠার ঘটনায় আটক জঙ্গি মোস্তফা কামালের পিতা ও দুই ভাইকে আটক করেছে ময়মনসিংহ পুলিশ। আটককৃতরা হলো জঙ্গি মোস্তফা কামালের পিতা মোঃ মোফাজ্জল হোসেন (৬০), বড় ভাই মোঃ আব্দুল মোতালেব ও ছোট ভাই কলেজ ছাত্র শরিফুল ইসলাম। তাদেরকে তারাকান্দা উপজেলার পুর্ব পাগুলি ( লেপসিয়া) গ্রামের বাড়ী থেকে আটক করে পুলিশ।
ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম জানান, হরকাতুল জিহাদ প্রধান মুফতি হান্নান ও তার সহযোগীদেরকে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে প্রিজনভ্যানে করে নেওয়ার সময় টঙ্গি এলাকায় আসামাত্র জঙ্গিদেরকে ছিনিয়ে নিতে গ্রেনেড ও বোমা নিক্ষেপ করে। এ সময় মোস্তফা কামাল নামের এক জঙ্গিকে পুলিশ গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত মোস্তফা কামালের বাড়ী ময়মনসিংহের তার্কাান্দা উপজেলার পুর্ব পাগুলি (লেপসিয়া) গ্রামে। এদিকে গ্রেফতারকৃত জঙ্গি মোস্তফা কামালের সাথে তার পরিবারের অন্য কোন সদস্যে সম্পর্ক আছে এবং পরিবারের অন্য সদস্যরাও জঙ্গি নেটওয়ার্কের সাথে জড়িত কিনা তা উদঘাটন করতে পুলিশ চেষ্ঠা করছে। এ লক্ষ্যে আজ মঙ্গলবার সকালে তার্কাান্দার পুর্ব পাগুলি গ্রাম থেকে মোস্তফা কামালের পিতা ও দুই ভাইকে আটক করা হয়। পরে তাদেরকে জেলা পুলিশের কার্যালয়ে দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশ সুপার আরো জানান, আটককৃত পিতা ও দুই ভাই ছাড়াও মোস্তফা কামালের পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের উপরও নজরদারী রাখা হচ্ছে।
এদিকে মোস্তফা কামালের পিতা আটককৃত মোফাজ্জল সাংবাদিকদের কাছে বলেন, তার ছেলেকে ধর্মীয় শিক্ষায় একজন আদর্শ মানুষ হিসাবে গড়ে তুলতে মাদ্রাসায় লেখাপড়া করান। প্রথমে নিজ এলাকা তারাকান্দা বড় মসজিদ মাদ্রাসায় কোরানে হাফেজ শিক্ষা দেন। পরে ময়মনসিংহের বড় মসজিদ মাদ্রাসায় এবং গত দেড় বছর আগে নরসিংদীর শেখের চর মাদ্রাসায় মাওলানা লাইনে লেখাপড়া করে আসছেন। এর পর কিভাবে তার ছেলে জঙ্গি হলো তা তার জানা নেই। তার ছেলেকে যারা জঙ্গি বানিয়েছে তাদের বিচার চেয়েছেন। আটককৃত মোস্তফার বড় ভাই মোতালেব বলেন, তার ছোট ভাই জঙ্গি কিনা তা তিনি জানেন না। তবে সে মাদ্রাসা থেকে ৩/৪ মাস পর পর বাড়ীতে আসত। বাড়ীতে এসে নামাজ পড়ত। এছাড়া বাড়ীর বাইরে তেমন একটা চলাফেরা করত না। তিনিও তার ভাই সম্পর্কে বলেন, দোষী হলে তার ভাই এবং যারা তাকে জঙ্গি বানিয়েছে তাদের বিচার হউক।
অপরদিকে তার্কাান্দা পুলিশের ওসি মাজহারুল ইসলাম জানান, জঙ্গি মোস্তফা কামালের পিতাসহ তার পরিবারের উপর পুলিশ নজরধারী করছে। সোমবার গ্রামের বাড়ী গিয়ে তার মা আছিয়া খাতুনসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এছাড়া পিতা ও দুই ভাইকে মঙ্গলবার ডেকে এনে জেলা পুলিশ কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে আবারো জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এছাড়া পুরো পরিবারের উপর পুলিশের নজরধারী রয়েছে।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম