সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : সেলিনা আক্তার। মিরপুর ৭ নম্বরের ডেকোনিট গার্মেন্টস এর শ্রমিক তিনি। বাস করেন মিরপুরের ১১ নম্বরের লালমাটিয়া বস্তিতে।  বস্তিটিতে না আছে স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটারি সুবিধা, না আছে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা।

ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই গ্যাসের চুলার লাইনে দাড়িয়ে রান্না করতে হয় সেলিনাকে। রোগ বালাই হলে নেই চিকিৎসা সুবিধাও। গার্মেন্টস এ কাজ করেন এমন নারী শ্রমিকদের ৭০ শতাংশই সেলিনার মতো এভাবেই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বাস করতে হয়।

গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরাম থেকে জানা যায়, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৪৫ লক্ষ গার্মেন্টস শ্রমিক রয়েছে যাদের ৮০ শতাংশই অর্থাৎ প্রায় ৩৬ লক্ষই নারী শ্রমিক। এসব নারী শ্রমিকের ৭০ শতাংশই অর্থাৎ প্রায় ২৫ লক্ষই বাস করেন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বস্তিতে। প্রতিনিয়ত এরা স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ভোগেন। সকালে টয়লেটে যেতে হলেও লম্বা লাইনে দাঁড়াতে হয়। রান্না করার এবং পর্যাপ্ত পানির সুবিধা পর্যন্ত নেই বস্তিগুলোতে।

এসব বিষয়ে গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মোশরেফা মিশু বাংলানিউজকে বলেন, ‘শ্রমিকদের পক্ষ থেকে বারবার নারী শ্রমিকদের জন্য ডরমেটরি করার দাবি তুলে ধরা হলেও তার কোনো ব্যবস্থা করা হচ্ছে না। এ বিষয়ে সরকার ও  মালিকপক্ষ কেউই কান দিচ্ছেন না। নারী শ্রমিকরা কিভাবে বাস করছেন, কি খাচ্ছেন সে খবরটাও তারা রাখেন না। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বাস করছেন আমাদের ৭০ শতাংশ নারী শ্রমিক। অন্যদিকে রাতে ওভারটাইম করার পর যানবাহন সুবিধাও দেওয়া হচ্ছে না নারীদের। যার কারণে ধর্ষণের শিকার হওয়াসহ নানা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন তারা। এসব বিষয়ে সরকার ও মালিকপক্ষের নজর দেয়া উচিত।‘

স্বাধীন বাংলা গার্মেন্টস শ্রমিক ও কর্মচারী ফেডারেশন-এর সভাপতি শামীমা নাসরিন বাংলানিউজকে বলেন, ‘পোশাক শিল্পের উন্নয়ন হলেও উন্নয়ন হয়নি আমাদের নারী শ্রমিকদের ভাগ্যের। নারী শ্রমিকদের শ্রমের ওপর এতো বড় শিল্প গড়ে উঠলেও তাদের বাসস্থানের সামান্য সুবিধা পর্যন্ত নেই। গার্মেন্টস-এর বেশিরভাগ নারী শ্রমিকই বস্তিতে বাস করেন। এসব বস্তিতে না আছে বিশুদ্ধ পানি, না আছে পর্যাপ্ত সংখ্যক স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট। মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। শিল্পের উন্নয়নের পাশাপাশি নারী শ্রমিকদের দিকেও নজর দেয়া উচিত মালিকপক্ষের। নারী শ্রমিকদের জন্য ডরমেটরি নির্মাণ বাধ্যতামূলক করা উচিত।‘

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের রফতানি আয়ের ৮০ শতাংশই আসে পোশাকশিল্প থেকে। পোশাকশিল্পে সরাসরি প্রায় ৪৫ লক্ষ শ্রমিক কাজ করেন যাদের ৮০ শতাংশই নারী শ্রমিক।

এ বিষয়ে তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) ভাইস প্রেসিডেন্ট মাহমুদ হাসান খান বাবু বাংলানিউজকে বলেন, ‘যেহেতু শ্রমিকরাই কারখানার কাছাকাছি থাকেন, তাই ওভারটাইম করার পরে ঘরে ফিরতে তাদের যানবাহন থাকার দরকার নেই। তবে রিমোট এলাকা বা দূর থেকে যারা কাজে আসেন তাদের জন্য বাস সার্ভিস আছে। তাছাড়া শ্রমিকদের যে মজুরি দেওয়া হয় তাতে যাতায়াত ভাড়া সংযুক্ত আছে।’

পাশাপাশি তিনি এ-ও বলেন, ‘আমরা শ্রমিকদের জন্য ডর্মিটরি করার কথা ভাবছি। এক্ষেত্রে জায়গা একটি বড় ইস্যু। তা অবশ্যই কারখানার কাছাকাছি হতে হবে। সেই ক্ষেত্রে মালিক ও সরকার উভয় পক্ষই চেষ্টা করছি।’


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম