সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ‘জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্ট ‘২০১৬ অনুযায়ী বাংলাদেশ আর্থ-সামাজিক নানা ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের মধ্যে বিদ্যমান লিঙ্গ-বৈষম্য দূরীকরণে সাফল্য বিবেচনায় বাংলাদেশ বিশ্বের মধ্যে ৭২তম স্থানে অবস্থান করছে। ২০০৬ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৯১তম স্থানে।

সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডের ডাভোস শহরে অনুষ্ঠিত ইকোনমিক ফোরামের ৫৩তম সম্মেলনে উপস্থাপিত এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে জেন্ডার গ্যাপ দূরীকরণে সাফল্য বিবেচনায় ভারতের অবস্থান ৮৭তম, চীনের অবস্থান ৯৯ এবং জাপানের অবস্থান ১১১ তম।  অন্যদিকে পাকিস্তান অবস্থান করছে ১৪৩তম স্থানে।

সুইজারল্যান্ড এর ডাভোস এ সম্প্রতি অনুষ্ঠিত  ইকোনমিক ফোরামের ‘দি গোবাল জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্ট’ ২০১৬’ তে বলা হয়েছে, ২১৮৬ সালের আগে জেন্ডার-বৈষম্যমুক্ত পৃথিবী প্রতিষ্ঠা করা যাবেনা ! স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অর্থনীতি এবং রাজনীতি-এই চারটি ক্ষেত্রে বিশ্বের ১৪৪টি দেশের নারী ও পুরুষের মধ্যকার তুলনামূলক বৈষম্যমাত্রাকে কোয়ান্টিফাই করে একদশকেরও বেশী সময়ের ডাটা এনালাইসিস করে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেনওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের গবেষকরা।

ইকোনমিক ফোরামের ২০১৬ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেন্ডার গ্যাপ দূর করতে রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে যাবতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা ও কর্মকাণ্ডে আরও বেশী গতি আনতে হবে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুরো বিশ্বে মাত্র পাঁচটি দেশ রয়েছে যেগুলো জেন্ডার গ্যাপ ৮০ শতাংশ কিংবা সামান্য বেশী পর্যন্ত কমানো গেছে। এই দেশগুলো হল, আইসল্যান্ড, ফিনল্যান্ড, নরওয়ে, সুইডেন এবং বিস্ময়কর হলেও সত্য আফ্রিকার রুয়ান্ডা।

৬৪টি রাষ্ট্রকে চিহ্নিত করা হয়েছে যেগুলোতে জেন্ডার গ্যাপ কমানো গেছে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশের মধ্যে। আরও ৬৫টি রাষ্ট্র চিহ্নিত করা হয়েছে যারা ৬০ থেকে ৭০ শতাংশের  ভেতরে জেন্ডার গ্যাপ কমাতে পেরেছে।

অঞ্চলভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, একমাত্র পশ্চিম ইউরোপ এবং নর্থ আমেরিকা অঞ্চলে ৩০ শতাংশের নিচে জেন্ডার গ্যাপ রয়েছে। পশ্চিম ইউরোপে ২৫ শতাংশ আর নর্থ আমেরিকা অঞ্চলে ২৮ শতাংশ। ল্যাতিন আমেরিকা, ক্যারিবিয়ান, পূর্ব ইউরোপ আর সেন্ট্রাল এশিয়া অঞ্চলে জেন্ডার গ্যাপের হার ঠিক ৩০ শতাংশ। পূর্ব এশিয়া, প্যাসিফিক অঞ্চলে এই জেন্ডার গ্যাপের হার ৩১.৭ শতাংশ।সাব-সাহারান আফ্রিকা অঞ্চলে এর হার ৩২.১ শতাংশ। আমাদের দক্ষিণ এশিয় অঞ্চলে জেন্ডার গ্যাপের হার ৩৩ শতাংশ।

‘দৃঢ় হও, পরিবর্তনের লক্ষ্যে’, এই প্রতিপাদ্য নিয়ে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস’ ২০১৭। ঘরে-বাইরে নারীর কাজের যথাযথ স্বীকৃতি ও নানা ক্ষেত্রে নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে নারীর আর্থ-সামাজিক মুক্তি তথা একটি শান্তিময় বিশ্বসমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে ১৯০৯ সাল থেকে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। তবে প্রথম যেদিন পালন করা হয় সেদিন ছিল ২৮ ফেব্রুয়ারি ।

ইন্টারনেটে প্রাপ্ত তথ্য মতে, ১৯০৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে সোশ্যালিস্ট পার্টি অব এমেরিকা’র উদ্যোগে ২৮ ফেব্রুয়ারি তারিখে দিবসে দিবসটি পালন করে। ১৯১৭ সালের ৮ মার্চ তৎকালীন রাশিয়ান সাম্রাজ্যের রাজধানী পেত্রগ্রাদ এ টেক্সটাইল শিল্পে কর্মরত নারী শ্রমিকরা নিজেদের ভোটাধিকার চেয়ে আন্দোলনে নামে। পুরো শহরে নারী শ্রমিকরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। আসলে নারী শ্রমিকদের এই বিক্ষোভ প্রদর্শনই ছিল রাশিয়ান বিপ্লবের শুরু। নারী শ্রমিকদের অনুপ্রেরণায় রাস্তা ঘাটে বের হয়ে আসে অন্যান্য শ্রমিকরাও। সাতদিনের মাথায়, সম্রাট নিকোলাস (দ্বিতীয়) পদত্যাগ করলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নারীর ভোটাধিকার  প্রদান করে। ১৯১৭ সালেই গোটা সোভিয়েত রাশিয়ায় ৮ মার্চকে  নারী দিবস হিসেবে পালন করা শুরু হয়। প্রথমদিকে এ দিবসের নাম অবশ্য ছিল  ‘কর্মজীবী নারী দিবস’। সমাজতান্ত্রিক ও কম্যুনিস্ট রাজনৈতিক দল ও দেশগুলোই ১৯৭৫ সালে  জাতিসংঘ কর্তৃক ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস’ হিসেবে ঘোষিত হওয়ার আগ পর্যন্ত দিবসটি পালন করেছে।

প্রতিবছর ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস’ আসলে কয়েকদিন নারী, নারী মুক্তি, পুরুষতন্ত্র, নারী নির্যাতন জাতীয় প্রত্যয় ব্যপক আলোচিত হয়। লেখালেখি হয়, সেমিনার-সিম্পজিয়াম হয়। বিদ্যমান সমাজ ও রাষ্ট্রের কাঠামো, আইন, বিধি-বিধান নিয়ে আলোচনা হয়। যদিও নারীর ক্ষমতায়ন কিংবা নারীর বন্দিত্ববরণ কোনটাই এই দিনের জন্য অপেক্ষা করেনা। প্রক্রিয়াগুলো সময়ের স্রোতে এগুতে থাকে। কোথাও নারী মুক্ত হয়, কোথাও হয় অবরোধবাসিনী। বেশ জটিল প্রক্রিয়া। কিন্তু প্রক্রিয়া চলমান, উভয় দিক থেকেই।

নারী দিবসকে ‘পরিবর্তনের ভেলা’ হিসেবে পালন করা হচ্ছে। বছরের পর বছর। গত বছর ‘সমতা অর্জনের’ অঙ্গিকার নিয়ে দিবসটি পালন করা হয়। সচেতন মানুষ, প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্র অঙ্গীকার করেছিল সব বয়সের নারীর আর্থ-সামাজিক বিকাশ লাভে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে। সরকারি-বেসরকারি নানা প্রতিষ্ঠানের, রাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃত্বে লিঙ্গবৈষম্য দূর করা, আর্থ-সামাজিক কাজে নারী-পুরুষের অবদানকে সমানভাবে মূল্যায়ন করা ইত্যাদি দিক থেকে গুরুত্ব আরোপ করে দিবসটি পালন করা হয়। এখন প্রশ্ন হল, একটি শতভাগ লিঙ্গবৈষম্যমুক্ত সমাজ নির্মাণ করা কতখানি সম্ভব?

রিপোর্টে বলা হয়েছে, মানুষের মেধা, পরিশ্রম আর প্রযুক্তির শক্তিতে যে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের কথা বলা হচ্ছে, তার সুফল কতখানি পুরুষ পাবে আর কতখানি নারীসমাজ পাবে সেটিই এখন দেখার বিষয়। নারীসমাজকে পুরোপুরিভাবে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সাথে অঙ্গীভূত করতে না পারলে বৈষম্য বরং বাড়বে। পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। ফলে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্য ইত্যাদি ক্ষেত্রে যদি সমঅবস্থান নিশ্চিত করা না যায়, তাহলে লিঙ্গ-বৈষম্য মুক্ত পৃথিবী নির্মাণ সম্ভব হবেনা।  জেন্ডার গ্যাপ দূর করতে হবে সর্বতোভাবে।

 

সূত্র : ঢাকাটাইমস


মতামত জানান :

 
 
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম