সংবাদ শিরোনাম

 

ক্রীড়া ডেস্ক : চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট পর্বের ইতিহাসে প্রথম লেগের চার গোলের ঘাটতি পুষিয়ে পরের রাউন্ডে ওঠার নজির ছিল না। তবে সেটাই করে দেখিয়েছে কাতালান ক্লাব বার্সেলোনা। বুধবার রাতে ন্যু ক্যাম্পে স্বাগতিকরা অসাধ্য সাধন করল ৬-১ গোলের অসাধারণ এক জয়ে।

ম্যাচের শুরুতেই লুইস সুয়ারেজের হাত ধরে এগিয়ে যায় বার্সা। আর সমাপ্তি টানেন সার্জিও রবার্তো। এ মাঝে কিন্তু সক্রিয় ছিলেন মেসি-নেইমাররাও। দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৫ গোলের ব্যবধানে শেষ আটে লা লিগা চ্যাম্পিয়নরা।

গত চার বছরে নক আউট পর্বে দুবার কাতালান ক্লাবটির কাছে হেরেই ইউরোপ সেরার মঞ্চ থেকে ছিটকে পড়ে পিএসজি। এবার প্রথম লেগে দারুণ সুযোগ তৈরি করলেও দ্বিতীয় লেগে এসে পারলো না ফরাসি ক্লাবটি।

ঘরের মাঠে বার্সার শুরুটা হয়েছিল একেবারে যথার্থ। ম্যাচের তৃতীয় মিনিটে পিএসজির ডি-বক্সে ডিফেন্ডাররা বল বিপন্মুক্ত করতে ব্যর্থ হলে ছয় গজ বক্সের মধ্যে হেড করেন সুয়ারেজ। পা বাড়িয়ে বলটি ফেরান মুনিয়ে। কিন্তু গোললাইন প্রযুক্তিতে দেখা যায়, বল আগেই গোললাইন পেরিয়ে গিয়েছিল।

পিএসজিও ছিল বেশ আক্রমণাত্মক। তবে তারা প্রথমার্ধে গোলশূন্যই ছিল। এদিকে বেশ কয়েকটি সুযোগ নষ্ট হয় বার্সারও। এরপর ৪০তম মিনিটে রক্ষণভাগের ভুলে দ্বিতীয় গোল হজম করে পিএসজি। বাঁ-দিক থেকে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা ব্যাকহিল করে গোলমুখে বল বাড়ান। ঠেকাতে গিয়ে নিজেদের জালেই ঠেলে দেন ফরাসি ডিফেন্ডার লেইভিন।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে সফল স্পটকিকে দলকে স্বপ্ন ছোঁয়ার আরেক ধাপ কাছে নিয়ে যান মেসি। লেইভিন নিজেদের ডি-বক্সে নেইমারকে ফেলে দিলে পেনাল্টি পায় বার্সেলোনা।

এবারের আসরে পাঁচবারের বর্ষসেরা তারকার এটি একাদশ গোল। ইউরোপ সেরার প্রতিযোগিতায় তার মোট গোল হলো ৯৪টি।

ম্যাচের ৬২তম মিনিটে ন্যু ক্যাম্পকে স্তব্ধ করে দেন কাভানি। ডি-বক্সের মধ্যে ফাঁকায় বল পেয়ে জোরালো শটে টের স্টেগেনকে পরাস্ত করেন উরুগুয়ের এই স্ট্রাইকার। দুই লেগ মিলিয়ে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৫-৩।

এর ফলে বার্সার জয়ের লক্ষ্য কঠিনই হয়ে দাঁড়ায়। তখন কে ভেবেছিল, এই সমীকরণও মিলিয়ে ফেলবে স্বাগতিকরা! তবে এমনটাই হয়েছে। শেষ আধা ঘন্টা ও অতিরিক্ত সময়ে বাকি তিন গোল করে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে বার্সা।

দুই মিনিটের ব্যবধ্যানে দুই গোল করে বার্সাকে জয়ের পথে টেনে নেন মূলত নেইমার। ৮৮তম মিনিটে বাঁ-দিক থেকে চমৎকার বাঁকানো ফ্রি-কিকে লক্ষ্যভেদের পর সফল স্পটকিকে স্কোরলাইন ৫-৫ করেন এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। এরপর ম্যাচ পাঁচ মিনিটের অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়। কেননা অ্যাওয়ে গোলে এগিয়ে থেকে এই স্কোরলাইনেও শেষ আটের পথেই ছিল পিএসজি।

আর ম্যাচের শেষ মুহূর্তে নেইমারের উঁচু করে বাড়ানো বল পা বাড়িয়ে জালে ঠেলে দেন বদলি হিসেবে নামা রবার্তো। আর এই গোলেই ইতিহাস গড়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ আটে পা রেখেছে লুইস এনরিকের শিষ্যরা।


মতামত জানান :

 
 
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম