সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : সংবাদপত্র কর্মীদের বেতন-ভাতার নবম ওয়েজ বোর্ড গঠনে কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমকে এই ওয়েজ বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত করতে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।

সচিবালয়ে বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) সংবাদপত্র কর্মচারীদের দুটি সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠকের শুরুতে তথ্যমন্ত্রী এ কথা জানান।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘নবম ওয়েজ বোর্ড গঠনের প্রস্তাবে আমরা নীতিগতভাবে স্বীকৃতি দিয়েছি। সরকার উদ্যোগ নিলেও এটা মূলত সাংবাদিক, কর্মচারী এবং মালিকপক্ষ-এই ত্রিপক্ষীয় একটা ব্যবস্থা।’

একজন বিচারপতি ওয়েজবোর্ডে নেতৃত্ব দেন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘তিনি (বিচারপতি) সুবিচার করার চেষ্টা করেন। সেখানে আমাদের তরফ থেকে বিচারপতিকে চেয়ারম্যান হিসাবে নিয়োগ দেয়া হয়। বাকিরা কিন্তু আমাদের হাতে নেই। বাকিটা সাংবাদিক, কর্মচারী, শ্রমিক, মালিকপক্ষ প্রতিনিধি দেবেন, সেটাকে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে আমরা একটা আইনগত রূপ দেবো যে, এরা ওয়েজ বোর্ডের সদস্য।’

তিনি বলেন, ‘এই সদস্যরা ধারাবাহিক আলোচনার মধ্য দিয়ে ওয়েজ বোর্ডের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাবেন। ওয়েজ বোর্ড গঠনের যে প্রস্তাব এসেছে। সেই প্রক্রিয়ায় আমরা অনেক দূর এগিয়েও গেছি। আমরা আশা করছি, অতিদ্রুত আনুষ্ঠানিকভাবে তারা (ওয়েজবার্ড) কাজ শুরু করতে পারবে।’

হাসানুল হক বলেন, ‘বাংলাদেশ সংবাদপত্র কর্মচারী ফেডারেশন, নিউজপেপার ওনার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব)-এই দুটি সংগঠনের প্রতিনিধি আমাদের দফতরে জমা হয়নি। এই প্রতিনিধি দেয়ার দায়িত্ব তাদেরই। বাকিদের মধ্যে ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, বাংলাদেশ ফেডারেল ইউনিয়ন অব নিউজ পেপার প্রেস ওয়ার্কার্স-তাদের প্রতিনিধি দিয়েছেন। কাজটা কিছুদূর এগিয়ে গেছে। বাকি থাকলো বিচারপতি নিয়োগ।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিচারপতির প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তারা এখনো চূড়ান্ত করে পাঠায়নি। প্রধানমন্ত্রী চূড়ান্ত করলে আমরা আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করবো।’

তিনি বলেন, ‘ওয়েজ বোর্ড গঠনের আইনগত বিধান অনুসারে আমরা যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করেছি। সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নাম দিতে অনুরোধ করেছি, নাম দিচ্ছেন। নাম দেবেন না বলে কেউ বলেননি। আনুষ্ঠানিকভাবে বিচারপতি নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সেইদিক থেকে আমি মনে করি, নবম ওয়েজ বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে। তার মানে কার্যক্রম শুরু করার দ্বারপ্রান্তে আছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘বিকাশমান ইলেকট্রনিক মিডিয়া, টেলিভিশন ও কমিউনিটি রেডিও এবং এফএম রেডিওতে যারা কাজ করছেন, তাদের বর্তমানে ওয়েজ বোর্ডের বিধানে আনতে পারছি না। সবার দাবি হচ্ছে, এবার যেন তাদের অন্তর্ভূক্ত করি।’

ইলেকট্রনিক মিডিয়াকে ওয়েজ বোর্ডের আওতায় আনতে অংশীজনদের নিয়ে একটি কমিটি করা হয়েছে জানিয়ে জাসদ সভাপতি ইনু বলেন, ‘কিভাবে ইলেকট্রনিক মিডিয়াকে আমরা ওয়েজ বোর্ডের আওতায় নিয়ে এসে একই ওয়েজ বোর্ডে পুরো বিষয়টি নিষ্পত্তি করা যায়; এটার কাজ চলছে।’

তিনি বলেন, ‘মনে রাখতে হবে, এটা করতে আইনে হাত দিতে হবে। সেটা বড় কথা নয়। মানুষের জন্য সব করা যায়। নীতিগতভাবে তাদেরকে (ইলেকট্রনিক মিডিয়া) ওয়েজ বোর্ডে আনতে আমরা নীতিগতভাবে সম্মত।’

সভায় বাংলাদেশ সংবাদপত্র কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো. মতিউর রহমান তালুকদার, মহাসচিব মো. খায়রুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ ফেডারেল ইউনিয়ন অব নিউজপেপার প্রেস ওয়ার্কার্সের সভাপতি মো. আলমগীর হোসেন ও মহাসচিব মো. কামাল উদ্দিনসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় দুটি সংগঠন যৌথভাবে দশটি দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি তথ্যমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন।

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- গণমাধ্যমের নবম ওয়েজবোর্ড দ্রুত বাস্তবায়ন, সাধারণ কর্মচারী প্রেস শ্রমিকদের জন্য দুঃস্থ কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন, ‘নিউজ পেপার অ্যাক্ট-১৯৭৪’ পুনর্বহাল, সংবাদপত্র শিল্পের নীতিমালা প্রণয়ন, ছাঁটাই করা কর্মচারী-শ্রমিক-সাংবাদিকদের বকেয়া পরিশোধ, ছাঁটাই বন্ধ, গণমাধ্যমে ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার ইত্যাদি।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম