সংবাদ শিরোনাম

 

বিশেষ প্রতিবেদক : আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার হুঙ্কার বিএনপির নতুন নয়। বরং ২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে তাদের আন্দোলনে ব্যাপক জ্বালাও-পোড়াও হয়। অনেকটা ‘গো’ ধরে সে নির্বাচন বয়কটও করে ফেলে দলটি।

ফলত তারপর থেকে তারা হারিয়েছে প্রধান বিরোধী দলের তকমা, সংসদের বাইরে থেকে হারিয়েছে কথা বলার সাংবিধানিক প্লাটফর্মও। এতে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অনেকটা কোণঠাসা অবস্থা বিএনপির। দলের নেতাকর্মীদের সমন্বয়হীনতা আর বিচ্ছিন্নতায় দৃশ্যমান অস্তিত্ব সংকটে তারা।

এ অবস্থার মধ্যেও ‘কেয়ামত পর্যন্ত অপেক্ষা, তবুও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে যাবো না’, ‘নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার ছাড়া বাংলাদেশে নির্বাচন হবে না’, ‘খালেদাবিহীন নির্বাচন প্রতিহত করবে জনগণ’ এমন সব বাক্যে ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশে হুঙ্কার ছেড়ে চলেছেন ২০০৬ সাল থেকে ক্ষমতার মসনদ বঞ্চিত বিএনপির নেতারা। আবারও নির্বাচন বর্জন করলে বিএনপি নিবন্ধন বাতিলের ঝুঁকিতে পড়ে যাবে বলে চলতি আলোচনার মধ্যেও সভা-সমাবেশে দলের শীর্ষ নেতারা সাফ সাফ বলছেন, ‘জনগণের জন্য কিছু করতে না পারলে নিবন্ধন নিয়ে কী হবে’। তাদের প্রকাশ্য এমন কথা-বার্তা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার হুঙ্কার হলেও ভেতরে ভেতরে ঠিকই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপির হাইকমান্ড।

দলের হাইপ্রোফাইল অন্তত ৮ জন নেতার সঙ্গে একান্ত আলাপে এ তথ্য জানা যায়। তবে কৌশলগত কারণে ওইসব নেতারা নাম প্রকাশ করতে চাননি।

মুখে যাই বলুক আগের অবস্থান থেকে অনেকটা সরে এসেছে বিএনপি। বাড়িয়েছে নেতাকর্মীদের মধ্যে যোগাযোগ, সাংগঠনিক তৎপরতা। নির্বাচনে কাদের প্রার্থী করা হবে, কোন এলাকায় জেতার জন্য কি ধরনের তৎপরতা, প্রার্থী প্রয়োজন সেসব নিয়েও নিয়মিত আলোচনার মধ্যে রয়েছেন দলের চেয়ারপারসনসহ শীর্ষ নেতারা।

দলীয় সূত্রমতে, এরইমধ্যে সংসদীয় ৩শ’ আসনের জন্য ‘যোগ্য’ প্রার্থী খোঁজা শুরু করেছে বিএনপি। বিশেষ করে ঢাকা ও আশপাশের জেলাগুলোতে যারা নির্বাচন করতে আগ্রহী তাদের সঙ্গে কথা বলেছে দলের হাইকমান্ড।
এরইমধ্যে ঢাকা মহানগর বিএনপির কয়েকজন হাইপ্রোফাইল নেতাকে নির্বাচনী এলাকা ঠিক করে দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নির্বাচনী এলাকায় যাতায়াত, গণসংযোগ, সাংগঠনিক সভা ও মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে নির্বাচনের আওয়াজ ছড়িয়ে দিতে।

সূত্রমতে, রাজধানীর মোহম্মদপুর-আদাবর সংসদীয় এলাকায় নির্বাচন করতে পারেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, ঢাকা মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব আবদুস সালাম। খালেদা জিয়া নিজেই আবদুস সালামকে ডেকে মোহম্মদপুর এলাকায় (ঢাকা-১৩) নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। দলীয় প্রধানের নির্দেশ পাওয়ার পর গত দুই/তিন মাস ধরে নিয়মিত ঢাকার শান্তিনগর থেকে মোহম্মদপুর গিয়ে কর্মীসংযোগের কাজ করছেন সালাম।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব যুবদলের সাবেক সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল আগে এ এলাকায় নির্বাচন করতেন। কিন্তু আধিপত্য বিস্তার, গ্রুপিং-লবিংয়ের রাজনীতি করতে গিয়ে মোহম্মদপুর এলাকায় নিজের অবস্থান নড়বড়ে করে ফেলেছেন তিনি। সে কারণেই ওই এলাকায় তাকে না দিয়ে আবদুস সালামকে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন খালেদা জিয়া।

সম্প্রতি মোহম্মদপুর এলাকার একজন প্রবীণ নেতার সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। সংসদ নির্বাচনে আগ্রহী এ নেতা বাংলানিউজকে বলেন- ভেবেছিলাম ম্যাডাম আমাকে মনোনয়ন দেবেন। কিন্তু সালাম ভাইয়ের আসা-যাওয়া দেখে বুঝতে পেরেছি, তিনিই এ এলাকায় নির্বাচন করবেন। তবে এটা ঠিক আলালের চেয়ে সালাম ভাই এ এলাকায় বেশি ভোট পাবেন।

এদিকে রাজধানীর উত্তরায় (ঢাকা-১৮) নির্বাচনের জন্য সবুজ সংকেত পেয়েছেন ২০ দলীয় জোটের এক শীর্ষ নেতা। এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন নির্বাচন করেন। তিনি এখন সিটিং এমপি। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাহারা খাতুনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আজিজুল বারী হেলাল।

সূত্রমতে, ঢাকার ডেমরায় নির্বাচনের জন্য সাবেক সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদকে প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। সদ্য কারামুক্ত এ নেতা সম্প্রতি খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে গুলশান কার্যালয়ে আসেন। ওই সময় তাকে মৌখিকভাবে নির্দেশ দেওয়া হয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে। বহুল আলোচিত এ নেতা ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন বলেও জানা যায়।

দলীয় সূত্রমতে, ঢাকার ২০টি আসনসহ পার্শ্ববর্তী মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুর ও টাঙ্গাইল জেলায় নির্বাচনে আগ্রহী নেতাদের সঙ্গে কথা বলছেন বিএনপির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। সাংগঠনিক কাজের ফাঁকে ফাঁকে নির্বাচনে আগ্রহী প্রার্থীদের সাক্ষাৎ গ্রহণের কাজও চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপি।

দলের মূল ধারার নেতারা মনে করছেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটে ভাঙন ধরেছে। শরিক দলগুলোর ভগ্নাংশ দিয়ে জোটের অখণ্ডতা রক্ষা করা হয়েছে। এবার নির্বাচনে না গেলে বিএনপির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা মুশকিল। সুতরাং, যেভাবেই হোক নির্বাচনে যেতে হবে বিএনপিকে। তাই আগে-ভাগেই প্রস্তুতি প্রয়োজন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা নির্বাচনমুখী একটি দল। নির্বাচনের মাধ্যমেই ক্ষমতার পরিবর্তন চাই। সে কারণে নির্বাচনের প্রস্তুতি আমাদের সবসময় থাকে।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম