সংবাদ শিরোনাম

 

সুমন রায় দুর্গাপুর, ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম : জেলার দুর্গাপুর পৌরসভা ও দুর্গাপুর সদর ইউনিয়নে দেশীয় কুমড়ার বাম্পার ফলনে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে, বদলে যাচ্ছে অর্থনৈতিক অবস্থা।

শনিবার সরজমিনে ঘুরে দেখাগেছে, বুরুঙ্গা, চারিয়া মাসকান্দা, মাকড়াইল এলাকায় ব্যাপক ভাবে ফলন হয়েছে দেশীয় কুমড়ার। কৃষক মোঃ আব্দুল লতিফ ১৩ একর, মোঃ আবুল কাশেম ১০ একর, আঃ জলিল ২.৫ একর, মোঃ ফজল মিয়া ১.৫একর, মোঃ আব্দুল মোতালেব ১ একর সহ ৪০ জন কৃষক এ চাষে ব্যস্থ দিন কাটাচ্ছে। এর মধ্যে সর্বনিন্ম চাষী তিনিও ২কাটা জমি চাষ করেছে। কুমড়া চাষে দুর্গাপুর উপজেলায় মোট জমির পরিমান ৫৮ হেক্টর। কৃষক আঃ জলিল, ফজল মিয়া, মোঃ জালাল মিয়া, মন্তাজ মিয়া, সুমন রায়, শাবল মিয়া, আঃ হাসেম ও আঃ ছালাম এর সাথে কথা বলে জানাগেছে, প্রতি কাঠায় খরচ হয়েছে ১০হাজার টাকা, আর এগুলো স্থানীয় বাজাওে বিক্রি হয়ে থাকে ৪০থেকে ৫০ হাজার টাকা। কুমড়ার জন্য মাঠ তৈরী করতে হয় কার্ত্তিক মাসে, রোপন হয় পৌষ মাসে এবং ফলন ও বিক্রি শুরু হয় ফাল্গুন মাস থেকে বৈশাখ এর শেষ অবধি পর্যন্ত। বিগত বন্যায় আএাখালী নদীর বাধঁ ভেঙ্গে ফসলের জমির উপর আনুমানিক দেড় ফুট বালি পড়ায় ধান উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে কৃষকরা কুমড়া চাষের উপর গুরত্ব দিচ্ছেন স্থানীয় ক্ষুদ্র চাষীরা। বর্তমানে পাইকারী হারে কুমড়া বিক্রি হচ্ছে ১শত কুমড়া ১৪০০/= টাকা। এক পিক আপে কুমড়া ৩থেকে ৪হাজার টাকায়ও পাওয়া যাচ্ছে। দুর্গাপুরের কুমড়ার ঢাকার শ্যামবাজার, যাত্রবাড়ী ও কাওরান বাজারে এলাকাতে যথেষ্ট চাহিদা থাকায় স্থানীয় কৃষকদেও মধ্যে অনেকেই কুমড়া বিক্রি করেই সাবলম্বী হয়েছে উঠেছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ ওমর ফারুক বলেন, এ উপজেলায় বোরো চাষের বাইরে পতিত জমিতে সবজী চাষের মধ্যে কৃষকগন কুমড়া চাষ করেই লাভবান হচ্ছে।

কুমড়া চাষিরা জানান, আগে ঘরের চালে এবং পুকুরের আশপাশে কুমড়ার চাষ হতো। আর এখন লাভজনক হওয়ায় জমিতে মাচা করেই চাল কুমড়ার চাষ করছেন তারা। জানাগেছে, বিভিন্ন সবজির পাশাপাশি এ উপজেলায় চাল কুমড়া চাষ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে কৃষকরাও বেশ লাভবান হচ্ছেন। এবার এ উপজেলায় অন্তত ২০ হেক্টর জমিতে চাল কুমড়ার চাষ করা হয়েছে বলে ধারনা করা হচ্ছে। মিনকি গ্রামের বর্গাচাষি আজমত মিয়া জানান, বিগত কয়েক বছর ধরে তিনি কুমড়ার চাষ করছেন। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও এক বিঘা জমিতে কুমড়ার চাষ করেছেন। কুমড়া চাষে খরচ হয়েছে প্রায় ২৩ হাজার টাকা। এতে দেড় লাখ টাকার মতো বিক্রয় হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করছেন। বর্গাচাষি ফজলু মিয়া জানান, কুমড়া চাষের প্রধান শত্রু মাছি ও পোকা। আবাদকৃত কুমড়ার ফুলে ও ফলে এই পোকা বসলে কুমড়া লাল হয়ে নষ্ট হয়ে যায়। ফলে কুমড়া ঝড়ে পড়ে। এই পোকার আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য তিনি সেক্স ফেরোমন পদ্ধতি ব্যবহার করে পোকা নিধন করেন।

উল্লেখ্য: স্থানীয় কৃষকদের দাবী, দুর্গাপুরে বর্তমানে যে পরিমান কৃষিপন্য উৎপন্ন হয়, তা সংরক্ষনের জন্য অতিদ্রুত এই উপজেলায় সরকারীভাবে একটি হিমাগার তৈরী করা হউক।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম