সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের প্রস্তাব সংবিধান বহির্ভূত এবং বিএনপির পাতানো নতুন চাল; এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।

রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শনিবার (১১ মার্চ) জাসদ আয়োজিত বিশাল সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘বিএনপির এই ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না। বিএনপির নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের দাবি দেশকে সংবিধানের বাইরে ঠেলে দেওয়ার পাতা ফাঁদ। কোনো অজুহাতেই জঙ্গিসঙ্গির সঙ্গে আপোস করা যাবে না। এদের সঙ্গে মিটমাটের কোনো সুযোগ নেই। এরা স্বাধীনতা ও মানবতাবিরোধী শক্তি। বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া জঙ্গির প্রধান সঙ্গী।’

হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে জামায়াত থেকে আলাদা করা যাবে না। এরা আগাগোড়া সন্ত্রাসী দল। এদের ছাড় দিলে অনিবার্য বিপদ আসবে। এরা বিপদে পড়লে গণতন্ত্রের ছাতা তোলে। আর সুযোগ পেছে ছোবল মারে। জনগণ বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত বা অসাংবিধানিক কোনো সরকার চায় না। তারা চায় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির সরকার।

তিনি বলেন, হামলাকারীরা মহাজোটে ঘাপটি মেরে থাকা বিএনপি-জামায়াতের দালাল। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপরাধীদের গ্রেফতার ও ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি।

দিনভর বৃষ্টিসহ দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া উপেক্ষা করে জাসদের নেতা-কর্মী-সমর্থক ও শুভান্যুধ্যায়ীরা নানারঙের ব্যানার-ফেস্টুন-পতাকা-প্লেকার্ড নিয়ে দুপুরের আগেই সমবেত হন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। পুরো সমাবেশ ঘিরে ছিলো ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যেই রাজধানী ঢাকা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী জেলা নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, সাভার, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ থেকে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী যোগ দেন সমাবেশে। এছাড়াও চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, ফেনী, সিলেট, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, বগুড়া, দিনাজপুর, রংপুর, ভোলা, পটুয়ালী, বরগুনা, রাজবাড়ী, রাজশাহী, ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরাসহ প্রায় সবক’টি বিভাগ এবং জেলা ও উপজেলার নেতাকর্মীরা যোগ দেন সমাবেশে।

এসময় নেতা-কর্মীদের মাথায় লাল টুপি, কারো শরীরে লাল গেঞ্জি, কারো হাতে জাসদের নির্বাচনী প্রতীক মশাল শোভা পায়। অনেকে বাদ্যযন্ত্রের সুরের তালে তালে প্রবেশ করেন সমাবেশস্থলে। দুপুর গড়িয়ে বেলা বাড়তেই জনসমুদ্রে পরিণত হয় জাসদের এই সমাবেশ। বেলা সাড়ে ৩টায় জাতীয় সঙ্গীতের মধ্যদিয়ে সমাবেশ শুরু হয়। শুরুতেই সিরাজুল আলম খান, এমএ জলিল, আসম আব্দুর রব, কর্ণেল আবু তাহের, নূরে আলম জিকু, কাজী আরেফ আহমেদ, বিধানকৃষ্ণ সেন, শাহজাহান সিরাজ, ডা. আখলাকুর রহমান, মার্শাল মনি, সৈয়দ জাফর সাজ্জাদসহ দলের প্রতিষ্ঠাতা শীর্ষ নেতাদের স্মরণ করা হয়।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে জাসদকে বাদ দিয়ে ইতিহাস লেখা হয়নি। জাসদকে বাদ দিয়ে যারা রাজনীতি করতে চেয়েছেন তারা সফল হয়নি।

তিনি বলেন, দেশ ও জাতির প্রয়োজনে জাসদ মহাজোটের সঙ্গে ঐক্য করেছে। মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। জাসদ মাঝামাঝি অবস্থানে চলে না। যে কোনো বিষয়ে সরাসরি অবস্থান নেয়। সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের প্রশ্নে জাসদ এক চুলও ছাড় নেবে না।

তিনি আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার নির্বাচনী এজেন্ডা নেই। বিগত নির্বাচনের আগে ৯৩ দিন আগুনসন্ত্রাস করেছে। মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে। এখন নির্বাচন বাতিলের নতুন চক্রান্ত করছে।

জাসদ সভাপতি বলেন, জঙ্গি আর খালেদা, নয় কখনো আলাদা। জঙ্গি দমনের যুদ্ধের চশমা দিয়ে দেশের চলমান রাজনীতি ও ভবিষ্যত রাজনীতির গতিপ্রকৃতি দেখতে হবে। এই যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী যথাসময়ে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান যেমন অপরিহার্য ঠিক তেমনই জঙ্গিবাদের সম্পূর্ণ পরাজিত করা এবং জঙ্গির সঙ্গীকেও গণতান্ত্রিক রাজনীতির মাঠ থেকে বর্জন ও বিদায় করাও অপরিহার্য। তাহলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে, নির্বাচনে ‘মুক্তিযোদ্ধা আর রাজাকারদের মধ্যে মিউজিকাল চেয়ার খেলা’ও চিরদিনের জন্য বন্ধ হবে। বাংলাদেশের রাজনীতির মাঠে শুধু মুক্তিযোদ্ধারাই খেলবে।

জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য দেন জাসদ সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার এমপি, কার্যকরী সভাপতি অ্যাডভোকেট রবিউল ইসলাম, সহ-সভাপতি মীর হোসাইন আখতার, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আনোয়ার হোসেন, সহ-সভাপতি ইকবাল হোসেন খান, আব্দুল হাই তালুকদার, অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান শওকত, অ্যাডভোকেট শাহ জিকরুল আহমেদ, কাজী রিয়াজ, আফরোজা হক রীনা প্রমুখ।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম