সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : স্থায়ী বেতন কমিশন গঠনের পরিবর্তে মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় নিয়ে সরকারি চাকুরেদের বেতন-ভাতা নির্ধারণের উপায় খুঁজতে একটি কমিটি গঠন করেছে সরকার।

সচিবালয়ে রবিবার (১২ মার্চ) অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে এ সংক্রান্ত এক সভায় এ কমিটি গঠন করা হয়।

সভা শেষে অর্থমন্ত্রী নিজ দফতরে সাংবাদিকদের কমিটি গঠনের কথা জানান।

কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী সরকারি চাকুরেদের বেতন-ভাতা নির্ধারণে অর্থ মন্ত্রণালয়ে একটি সেল গঠন করা হবে বলেও জানান মুহিত। জানা গেছে, এ সেলের নেতৃত্বে থাকবেন একজন অতিরিক্ত সচিব।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘গত বেতন কমিশনে আমরা বলেছি, আর ভবিষ্যতে বেতন কমিশন হবে না। সো উই অলসো প্রমিজ, একটা অল্টারনেটিভ সিস্টেম করতে হবে যাতে অটোম্যাটিক্যালি ইনফ্লেশন ফ্যাক্টর ইজ টেকেন কেয়ার। সেটা নিয়ে আলোচনায় আজকে বসলাম। অ্যান্ড ইট ওয়াজ এ প্রিলিমিনারি ডিসকাশন।’

তিনি বলেন, ‘এই ডিসকাশনের বেসিসে আজকে আমরা ছোট্ট একটা কমিটি করেছি। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিবের (সমন্বয় ও সংস্কার) নেতৃত্বে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি তিন মাসের মধ্যে একটি রিপোর্ট দেবে। রিপোর্ট দেওয়ার পর আমরা আরও চিন্তা করব।’

সভায় উপস্থিত একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ৯ সদস্যের এ কমিটিতে অর্থ মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা বিভাগ ও পরিসংখ্যান বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, মহাহিসাব নিরীক্ষকের কার্যালয়ের প্রতিনিধি থাকবেন।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, ৫ পাঁচ বছর পর পর বেতন কমিশন বা স্থায়ী বেতন কমিশন গঠন না করে মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা দেওয়ার কৌশল নির্ধারণ করে প্রতিবেদন দেবে এই কমিটি।

আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ‘আমাদের ভিউ হচ্ছে আর কোন বেতন কমিশন চাই না। গত বেতন কমিশনের মেইন কারণ ছিল আমাদের বেতন স্কেল অন্যান্য দেশের স্কেল থেকে ভিন্ন ছিল। আমাদের সিসটেম থেকে ভাল সিসটেম উন্নয়নশীল দেশগুলোর সর্বত্রই আছে।’

তিনি বলেন, ‘গতবার আমরা যেটা করলাম, অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর যে অবস্থান সেখানে আমরা নিয়ে আসলাম। তার ফলে এখন আমরা একটা অবস্থানে আছি। তাই আমাদের এমন একটা কমিশন করা দরকার, গ্রাজুয়্যালি ইনক্রিজ হবে, এক বছর হবে, এক বছর হবে না, ডিপেন্ডিং অন সিসুয়েশন।’

‘এটা নিয়ে আজ আলোচনা হল, হাই ডু উই ইনস্টিটিউটেড। কমবেশি সবাই রাজি হল একটা সেল সুড বি ফর্ম, যেখানে জনপ্রশাসনের পার্টিসিপেশন থাকবে।’

বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মুহিত বলেন, ‘আমরা আলোচনা করেছি স্থায়ী পে-কমিশনের আর প্রয়োজন নেই। আমাদের হিসাবে এ সেল ইজ গুড এনাফ। অ্যান্ড ইট মে হ্যাভ টু অ্যান্ড থ্রি আদার মিনিস্ট্রিস অ্যাডভাইসেস। আজকেই ফাইন্যান্স সেক্রেটারি বলল, আমি তো একা পারব না, আমার জনপ্রশাসনের দরকার আছে, বাণিজ্যের দরকার আছে।’

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘নিউ সিস্টেম সুড বি প্লেসড বিফর উই লিভ। ভবিষ্যতের সরকারের জন্য আমাদের কিছু রেখে যেতে হবে। তারা বলবে ওটা শেষ করে গেল অন্য উপায় তো বাতলালো না। সো দ্যাট মিনস উই হ্যাভ ফাইনালাইজড ইট নেক্সড ইয়ার।’

মূল্যস্ফীতি এখন অনেক কম। বেতন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এটা কিভাবে বিবেচনায় নেওয়া হবে। মূল্যস্ফীতি অনুযায়ী বেতন তো নাও বাড়তে পারে- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘হ্যাঁ, সামনে নাও বাড়তে পারে।’

‘আমাদের বর্তমানে যে সিসটেম সেখানে ইনক্রিমেন্ট হয় ৫ শতাংশ হারে। আলোচনা হয়েছে, কিন্তু সিদ্ধান্ত হয়নি- যদি ইনফ্লেশন ৪ শতাংশ হয় তার মানে কি বেতন বাড়বে না? যখন ৬ শতাংশ হবে, তখন কি বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি দেখতে হবে?’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এ সব কিছুই ওই ছোট কমিটি দেখবে। তাদের তিন মাস সময় দেওয়া হয়েছে। আমাদের টার্গেটা হল যে উই মাস্ট হ্যাভ সামথিং বাই টু থাউজেন্ট এইটিন (২০১৮)। বিফর উই লিভ দ্য গভর্নমেন্ট।’

অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক, অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুনসহ কয়েকজন সচিব উপস্থিত ছিলেন।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম