সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি ছাড়া অন্য কোনো চুক্তি মানা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব বিরোধী চুক্তি হলে জনগণ মেনে নেবে না।’

সোমবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলীয় যৌথ সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল এই হুঁশিয়ারি দেন।

আগামী মাসে ভারত সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বর্তমান সরকারের আমলে প্রথম দ্বিপাক্ষিক এই সফরের আগে আগে এ নিয়ে উত্তাপ ছড়িয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। বিদেশি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে বিএনপি নেতারা দাবি করছেন, ভারতের সঙ্গে নিরাপত্তা নিয়ে চুক্তি করতে যাচ্ছে সরকার। আর এই চুক্তি বাংলাদেশের পক্ষে নয় বলেও দাবি তাদের।

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ২৫ বছর মেয়াদী  নিরাপত্তা চুক্তি হয় ১৯৭২ সালে। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর থেকে এই চুক্তিকে গোলামি চুক্তি বলে রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগকে আক্রমণ করে আসছিল বিএনপি। তবে তারা ক্ষমতায় থাকতে চুক্তি বাতিল করেনি। আর ১৯৯৭ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এই চুক্তির মেয়াদ শেষে তা আর নবায়ন করা হয়নি।

প্রধানমন্ত্রীর সফরে কোনো নিরাপত্তা চুক্তি হচ্ছে-এই বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য দেয়া হয়নি। গত শনিবার দেয়া এক বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপির সমালোচনাকে বরাবরের মতো ভারতবিরোধী বক্তব্য আখ্যা দেন। তিনি বলেন, বিএনপি ভারতের কাছ থেকে কিছু আদায় করতে পারেনি কখনও। আর ক্ষমতায় গিয়ে ভারত তোষণ আর ক্ষমতার বাইরে থাকলে ভারতবিরোধী বক্তব্য দেয়।

পরদিন রাজধানীতে এক আলোচনায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ কারও সঙ্গে দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো চুক্তি করবে না।

তারও পরদিন সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আগামী মাসের ৮ তারিখে ভারতে যাবেন। আমরা আশা করছি তিনি (প্রধানমন্ত্রী) তিস্তা পানি চুক্তি করবেন।’

ভারতের বিষয় বিএনপিকে জড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে দায়িত্বজ্ঞানহীন দাবি করে ফখরুল বলেন,‘ভারতকে গ্যাস দেয়ার মুচলেকা দিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য হতবাক করেছে। প্রধানমন্ত্রীকে দায়িত্বশীল বক্তব্য রাখা উচিত। তার এই মিথ্যাচারে জাতি বিভক্ত হয়।’

ফখরুল বলেন, ‘বিএনপি দেশের জন্য সব করেছে কিন্তু কখনো দেশের স্বার্থ বিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।’

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে যৌথসভায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, খায়রুল কবির খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল,সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, এমরান সালেহ প্রিন্স, বিলকিস জাহান শিরিন, প্রচার সম্পাদক শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীসহ দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম