সংবাদ শিরোনাম

 

বিশেষ প্রতিবেদক : বাংলাদেশের ১১তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকি এখনও প্রায় দেড় বছর। এতোটা সময় সামনে রেখে দেশের প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি নিজ নিজ ঘর গোছানো শুরু করেছে। দুই দলই চায় সুসংগঠিত দল নিয়ে ভোটের লড়াইয়ে মাঠে নামতে।

নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে দুই রাজনৈতিক দলের অবস্থান পরস্পরবিরোধী। একদিকে আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনেই নির্বাচন হবে। অন্যদিকে বিএনপি নেতারা বলছেন, দলীয় সরকারের অধীনে দলটি নির্বাচনে যাবে না। কোন পদ্ধতির সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে সে বিতর্ক জিইয়ে রেখেই দুই দল ভোট যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে পরপর দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার। আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে ক্ষমতার ধারাবাহিকতার ওপর জোর দিচ্ছে। ২০১৯ সালে বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হবে। এর আগে ২০১৮ সালের শেষদিকে নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারণী মহল থেকে তৃণমূলসহ সহযোগী সংগঠনগুলোকে নির্বাচনী প্রস্তুতির জন্য ইতোমধ্যেই দেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে জোরেশোরেই চলছে নির্বাচনী প্রস্তুতি। নির্বাচন সামনে রেখেই আগামী দুই মাসে বিভিন্ন জেলায় প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার অন্তত ছয়টি জনসভার কর্মসূচি নির্ধারণ করেছে আওয়ামী লীগ। এসব জনসভায় শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি থেকে বক্তব্য দেবেন।

মঙ্গলবার (১৪ মার্চ) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লক্ষ্মীপুর জেলায় জনসভায় যোগ দিচ্ছেন। এরপর চলতি মাসের ২১ তারিখ মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী খুলনা বিভাগের মাগুরায় জনসভা করবেন। ২৮ মার্চ মঙ্গলবার আওয়ামী লীগ সভাপতি জনসভা করবেন ফরিদপুরে। এপ্রিলের ১৫ তারিখ শনিবার দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে জনসভা করবেন আওয়ামী লীগ প্রধান। এপ্রিলের ২৩ তারিখ রবিবার তিনি বরিশাল বিভাগের বরগুনাতে জনসভা করবেন। সর্বশেষ ২৯ এপ্রিল শনিবার চুয়াডাঙ্গায় শেখ হাসিনা জনসভার জন্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

অপরদিকে যে পদ্ধতির নির্বাচনই অনুষ্ঠিত হোক না কেন মাঠের প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে বিএনপি। সে লক্ষ্যে দলের পুনর্গঠন শুরু করেছে দলটি। যদিও ইতোমধ্যে তা নিয়ে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হচ্ছে। কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দলের নেতাকর্মীরা অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ছে। অভিযোগ উঠছে পকেট কমিটি গঠন করা হচ্ছে। বিএনপি ৭৫ সাংগঠনিক জেলার মধ্যে এ পর্যন্ত প্রায় ৩৫টি জেলা কমিটি ঘোষণা করেছে। কমিটি ঘোষণার পর অধিকাংশ এলাকায় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। পক্ষ-বিপক্ষের মধ্যে ঘটছে সংঘর্ষের ঘটনা।

নির্বাচনকে মাথায় রেখে সবকিছু কর্ণপাত না করেই আগামী এক মাসের মধ্যে আরও ৩০ জেলা কমিটি পুনর্গঠন করার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসনের সরাসরি হস্তক্ষেপে তৃণমূল পুনর্গঠনের কাজ এগিয়ে চলছে।

১১তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কর্নেল (অব.) ফারুক খান বলেন, ‘আগে টার্মটা বুঝতে হবে। দলীয় সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন হচ্ছে না। বিগত ২০১৪ সালের নির্বাচনের মতোই সংবিধান অনুযায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে।’

অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শুধু বিএনপি নয়, বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ সুন্দর একটা নির্বাচন চায়। আমরা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। হ্যাঁ, বিগত দিনে নির্বাচন কমিশন হয়তো পুরোপুরি প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। আমরা আশাবাদী অতীতের নির্বাচন কমিশনের চেয়ে এবারের নির্বাচন কমিশন শক্তিশালী হয়েছে। কারণ সকলের মতামতের ভিত্তিতেই রাষ্ট্রপতি একটি সুন্দর নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন। এই কমিশনে বিএনপির তালিকা থেকেও একজনকে রাখা হয়েছে। সুতরাং এখানে আওয়ামী লীগ কোনো হস্তক্ষেপ করেনি।’

আগামী নির্বাচনী প্রস্তুতি সম্পর্কে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘নির্বাচনের জন্য সব সময় প্রস্তুত থাকতে হয়। গণতন্ত্রের জন্য যে কোনো সময় নির্বাচন হতে পারে। আমাদের নেত্রী (শেখ হাসিনা) আওয়ামী লীগের সম্মেলনে স্পষ্টভাবে আগামী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে বলে দিয়েছেন। আমরা নির্বাচন সামনে রেখে সাংগঠনিক প্রস্তুতি ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছি।’

২০১১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল হওয়ার পর থেকেই নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছে বিএনপি। এ দাবি পূরণ না হওয়ায় ২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচন বর্জন করে দলটি। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে কিছু নমনীয় হয়ে সহায়ক সরকারের কথা বলছে বিএনপি। কূটনৈতিক মহলও আগামী নির্বাচন যাতে সব দলের অংশগ্রহণে হয়, সে ব্যাপারে তাদের আগ্রহের কথা জানিয়েছে। ইতোমধ্যে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সম্প্রতি বিএনপির চেয়ারপারসনের সঙ্গে ব্রিটিশ মন্ত্রী অলোক শর্মার সঙ্গে বৈঠকেও নির্বাচনের বিষয়টি এসেছে। এর আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নও উভয় দলের কাছে একই বার্তা দিয়েছে।

বিএনপির এক মধ্যম সারির নেতা বলেন, ‘২০১৪ সালের নির্বাচনেও আমরা প্রস্তুত ছিলাম, এবার আমরা প্রস্তুত আছি। নির্দলীয় নিরপেক্ষ নির্বাচন আদায়ের লক্ষ্যে বিএনপি যা যা করার তাই করবে। এর মধ্যে দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে কাজ শুরু হয়ে গেছে। এখনই বলার মতো সময় হয়ে ওঠেনি।’

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘বিএনপি অবশ্যই নির্বাচনে অংশ নেবে, সেভাবেই সংগঠন গোছাচ্ছে। তবে নির্বাচনে সরকারকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে। সবাইকে নির্বাচনে সমান সুযোগ দিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি গণতান্ত্রিক একটি রাজনৈতিক দল। কয়েকবার সরকার গঠন করেছে, বিরোধীদলে ছিল। আমরা সবসময় গণতন্ত্রের জন্য, জনগণের পক্ষে থাকব। আমরা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে চাই। এই জন্য একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রয়োজন। যাতে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন থাকবে। আমরা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি, সংগঠনগুলো গোছানো হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা নির্বাচনকে সামনে রেখে যেসব জেলা, উপজেলায় আমাদের কমিটি নেই, সম্মেলন হয়নি সেখানে কমিটি গঠন করা হচ্ছে। আমরা ব্যস্ত আছি।’

এর আগে ২৬ ফেব্রুয়ারি এক আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, ‘বিএনপি শান্তিপূর্ণভাবে আলাপ-আলোচনা, সমঝোতার মাধ্যমে রাজনৈতিক সংকট নিরসন করতে চায়। তা সম্ভব না হলে আন্দোলন ছাড়া কোনো বিকল্প থাকবে না। ভবিষ্যতে একদলীয় কোনো নির্বাচন বাংলাদেশের মাটিতে আর হবে না। সে ধরনের পরিকল্পনা কারও থাকলে তারা বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন আছেন। গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য বিএনপির আন্দোলনও চলবে, নির্বাচনের প্রস্তুতিও চলবে।’

গত বছর অক্টোবর মাসে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দু’দিনব্যাপী দলের ২০তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। মূলত দলীয় সম্মেলনের পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বগুড়ার শান্তাহার উপজেলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভার মধ্য দিয়েই মূলত এ আনুষ্ঠানিকতা শুরু করে দলটি। এরপর থেকেই সরকারের মন্ত্রী, এমপি ও নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন-প্রত্যাশী নেতারা যার যার নির্বাচনী এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন। অনেকে সপ্তাহের বেশিরভাগ সময়ই নিজ নিজ এলাকায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। এমনকি দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের পাশে পেতে তারা গ্রাম ও ওয়ার্ডেও দিনরাত ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা লক্ষ্মীপুরসহ বিভিন্ন জেলায় জনসভা করবেন। আগামী ১৪ মার্চ মঙ্গলবার তিনি লক্ষ্মীপুর জেলায় জনসভায় ভাষণ দেবেন। তিনি দীর্ঘ ১৯ বছর পর লক্ষ্মীপুরে আসছেন। তার আগমনকে কেন্দ্র করে জেলার সর্বত্র উৎসবের জোয়ার বইছে। মানুষ আনন্দে উদ্বেলিত।’

শামীম আরও বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর এ জনসভাকে আপনারা নির্বাচনী প্রচার হিসেবে দেখতে পারেন। কিন্তু আমি তা মনে করি না। আমি মনে করি, প্রধানমন্ত্রীর জনসভাগুলো রাজনৈতিক জনসভা। কারণ নির্বাচনের এখনো অনেক সময় বাকি আছে। এ ছাড়া, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের সবসময় নির্বাচনী প্রস্তুতি থাকে।’

আওয়ামী লীগ
নির্বাচনকে সমানে রেখে দলীয় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কঠোর অবস্থানে আওয়ামী লীগ। দলকে সুসংগঠিত করে আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে চায় দলটি। এমন ঘোষণা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে কাউকে ছাড়া দেওয়া হচ্ছে না। এরই অংশ হিসেবে রবিবার (১২ মার্চ) শৃঙ্খলাবিরোধী ও সংগঠনের স্বার্থপরিপন্থী কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করার অভিযোগে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে তিনজনকে সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে দলের লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ।

আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ স্বাক্ষরিত এক বার্তায় সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের উপ-দফতর সম্পাদক আখতারুজ্জামান চৌধুরী জগলু, সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মুক্তাদির আহমদ ও কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য মোহাম্মদ সোহেলকে দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। এছাড়াও সংগঠন থেকে কেন চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করা হবে না এ বিষয়ে লিখিত জবাব আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমণ্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে প্রেরণ করার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘আমাদের অক্টোবর পর্যন্ত সাংগঠনিক প্রস্তুতি নিতে হবে। আমরা একটা স্মার্ট ও আধুনিক আওয়ামী লীগ নিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে চাই। এটা আমাদের অঙ্গীকার। আমরা আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বীকে হাল্কাভাবে দেখতে চাই না। এটা মাথায় রেখেই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে চাই।’

বিএনপি
দলের পুনর্গঠন করতে গিয়ে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হচ্ছে বিএনপিকে। কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দলের নেতাকর্মীরা অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ছে। অভিযোগ উঠছে- পকেট কমিটি গঠন করা হচ্ছে। বিএনপি ৭৫ সাংগঠনিক জেলার মধ্যে এ পর্যন্ত প্রায় ৩৫টি জেলা কমিটি ঘোষণা করেছে। কমিটি ঘোষণার পর অধিকাংশ এলাকায় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। পক্ষ-বিপক্ষের মধ্যে ঘটছে সংঘর্ষের ঘটনা।

নির্বাচনকে মাথায় রেখে সবকিছু কর্ণপাত না করেই আগামী এক মাসের মধ্যে আরও ৩০ জেলা কমিটি পুনর্গঠন করার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসনের সরাসরি হস্তক্ষেপে তৃণমূল পুনর্গঠনের কাজ এগিয়ে চলছে।

বুধবার (৮ মার্চ) সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির আংশিক কমিটি কেন্দ্র থেকে ঘোষণা করা হয়। এই নিয়ে দলের নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে। এর আগে জয়পুরহাটে কমিটি নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধরা। দিনাজপুরে প্রায় ৬ মাস আগে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। এছাড়া আহ্বায়ক কমিটির মধ্যে সমন্বয়ের অভাব থাকায় বাগবিতণ্ডা নিরসনে এবং কমিটিতে সদস্য বাড়ানোতেই বেশি সময় পার হওয়ায় সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব হচ্ছে বলে জানায় নেতাকর্মীরা। এর ফলে কমিটি নিয়ে দলের মধ্যে একদিকে যেমন দেখা দিয়েছে দ্বিধাবিভক্তি, পাশাপাশি তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে বাড়ছে ক্ষোভ।

সাত বছর পর রাজশাহী জেলা ও মহানগর বিএনপির কমিটি নিয়ে সেখানেও নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বেড়েছে। নতুন কমিটির বিরুদ্ধে মহানগর দলীয় কার্যালয়ে তালা, কেন্দ্রীয় নেতার ব্যক্তিগত কার্যালয়ে ভাঙচুর চেষ্টা, জনপ্রতিনিধিদের বিবৃতির পর রাজশাহী বিএনপি রক্ষা কমিটি গঠন করে দলের একাংশের নেতাকর্মীরা।

দল পুনর্গঠননের সঙ্গে জড়িত বিএনপি সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ‘দেড় বছর সময় দেওয়া হয়েছে। সম্মেলন করে কমিটি গঠন করার জন্য। কিন্তু তৃণমূলের নেতারা তাতে ব্যর্থ হয়েছেন। তাই আমরা কেন্দ্র থেকে কমিটি করে দিচ্ছি। এ বিষয়ে দলের চেয়ারপারসন দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। তার নির্দেশনার বাইরে কিছুই হচ্ছে না। ত্যাগী নেতাকর্মীদের কমিটিতে স্থান দেওয়া হচ্ছে।’

পকেট কমিটি গঠনের অভিযোগ সত্য নয়- এমনটা দাবি করে তিনি বলেন, ‘অনেকেই বিগত দিনের আন্দোলনে সক্রিয় ছিল, কেউ আবার সরকারের নির্যাতন, নিপীড়ন, মামলার কারণে মাঠে থাকতে পারেনি। দীর্ঘদিন কমিটি পুনর্গঠন না করায় জট রয়েছে। সবকিছু বিচার-বিশ্লেষণ করেই কমিটি দেওয়া হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এর মধ্যে আমরা ৩৫টি জেলা কমিটি গঠন করেছি। আরও ৩০টি জেলা কমিটির কাজ শুরু করে দিয়েছি। আশা করি আগামী এই মাসের মধ্যে অথবা আগামী মাসের মাঝামাঝিতে কাজ শেষ হয়ে যাবে।’

নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বিএনপি এই দল গোছাচ্ছে বলে মনে করছেন দলীয় নেতাকর্মী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম