সংবাদ শিরোনাম

 

বিজ্ঞান প্রযুক্তি ডেস্ক : হাইপারলুপের মাধ্যমে ঘণ্টায় ৫০০ কি.মি. গতির যে ধারণা দিয়েছিলেন স্পেসএক্স এবং টেসলা’র প্রতিষ্ঠাতা এলন মাস্ক, তা বাস্তবে দেখা যেতে পারে। যদিও এই ধারণার সঙ্গে অনেকেই দ্বিমত পোষণ করেছিলেন বা এখনও করছেন।

কিন্তু এলন মাস্ক দুবাই ও ভারতের সঙ্গে চুক্তির পর এই গতির যানের সঙ্গে পরিচয় হওয়াটাকে সময়ের ব্যাপারই ধরা হচ্ছে। যদিও একে যান বলা হচ্ছে, কিন্তু বলা উচিত পরিপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা। কেননা এটা শুধু মানুষ পরিবহনের জন্য ক্যাপস্যুল আকৃতির যানই তৈরি করবে না, একই সঙ্গে এই ক্যাপস্যুল চলাচলের জন্যে টিউবও তৈরি করবে। যা দেবে ঘণ্টায় ৫০০ কি.মি. গতি। এবং এর গতি ভবিষ্যতে হতে পারে ঘণ্টায় ৮০০ কি.মি.!

প্রথমে অনেকেই একে অসম্ভব ভাবলেও এখন সত্যি সত্যিই এর প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি হাইপারলুপের পরীক্ষামূলক চলাচলের জন্যে লাসভেগাসের কাছের একটি মরুভূমিকে ব্যবহার করা হচ্ছে। সেখানে ৫০০ মিটার দৈর্ঘ্য লাইন করা হচ্ছে। আর টিউবগুলোর ব্যস হচ্ছে ৩.৩ মিটার।

দুবাইয়ের রেল কনভেনশনে হাইপারলুপ নিয়ে যে ঘোষণা দেয়া হয়, সেখানে বলা হয় দুবাইর সঙ্গে যে শহরের যাতায়াত যুক্ত করা হবে তার দূরত্ব ১০০ কি.মি. আর তা মাত্র ১২ মিনিটে অতিক্রম করা হবে। সে হিসেবে চিন্তা করলে দুবাই হতে যাচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে গতিময় শহর। কেননা আসছে জুনেই দুবাইতে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে প্যাসেঞ্জার ড্রোন। একই সঙ্গে যদি হাইপারলুপও চালু করা যায়, তবে দুবাই-ই হবে বিশ্বের সবচেয়ে গতিশীল শহর।

তবে হাইপারলুপ ধারণা আসলেই কতটা বাস্তবিক তা বোঝা যাবে লাসভেগাসের কাছের নেভাডা মরুভূমির এই পরীক্ষা জোনে। এখানে ২৪০ জন কর্মী দিনরাত পরিশ্রম করছে হাইপারলুপকে বাস্তবে দেখতে। তাদের প্রতিষ্ঠানের স্বপ্নের প্রজেক্টকে বাস্তবায়ন করতে তারা বিরতিহীন কাজ করে যাচ্ছে।

হাইপারলুপ ওয়ানের প্রধান নির্বাহী রব লয়েড বলেন, ‘যদিও প্রযুক্তি আমাদের জীবনের অনেক ধারণা বদলে দিয়েছে। কিন্তু রাইট ভ্রাতৃদ্বয়ের (প্লেনের আবিস্কারক) পরে যোগাযোগ ব্যবস্থায় আর তেমন কোনো বিপ্লব দেখা যায়নি।’

এখন দেখার বিষয় হচ্ছে এলন মাস্ক কি এ যুগের রাইট হবেন নাকি তার ধারণা শুধু একটি ধারণাতেই সীমাবদ্ধ থাকে। কেননা অনেকের মতে এটা অসম্ভব একটা চিন্তা। কেউ বলছেন, এতে সন্ত্রাসী হামলা হলে তা হবে ভয়াবহ। কেউ এর সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

প্রকৃত কথা হচ্ছে, সকল প্রযুক্তিই কিন্তু প্রথম প্রথম সবার কাছে সমাদর পায় না। তাছাড়া প্লেনে কিন্তু প্রথম রাইট ভ্রাতৃদ্বয়ই চড়েছিলেন। এরকম ভাবে সকল প্রযুক্তিকেই তার নিরাপত্তার প্রমাণ দিয়েই সমাদৃত হতে হয়। জয় করতে হয় সময় এবং আস্থা। তবে হাইপারলুপ সফল হলে যোগাযোগের ধারণা সত্যি বদলে যাবে। তখন আর বহু খরুচে প্লেনের দিকে তাকাতে হবেনা। মাটিতে পা রেখেই পাওয়া যাবে প্লেনের গতি। সবকিছু নির্ভর করছে উত্তর আমেরিকার নেভাডা মরুভূমির এই পরীক্ষা নিরীক্ষার ওপর।


মতামত জানান :

 
 
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম