সংবাদ শিরোনাম

 

স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম : ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় হতদরিদ্রদ্রের জন্য খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর বরাদ্দকৃত খাদ্য অধিদপ্তরের সিল সম্বলিত ১০টাকা কেজির প্রায় ১৫ টন চালসহ কালোবাজারী সোহেলকে আটক করা হয়েছে। এ সময় তার কাছ থেকে চাল বিক্রির নগদ ৩৫হাজার ৫০০টাকা ও প্রায় শতাধিক খালিবস্তা উদ্ধার করেছে পুলিশ।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে আর্মড ব্যাটালিয়ন পুলিশ (এপিবিএন) -০২ মুক্তাগাছা এবং ফুলবাড়িয়া থানা পুলিশ যৌথ অভিযান পরিচালনা করে জেলার ফুলবাড়ীয়া পৌর সদরের সরকারী খাদ্য গুদাম সংলগ্ন চান্দের বাজারে পৃথক দুটি গুদাম থেকে এ সরকারি চাল আটক করা হয়। তবে কালোবাজারী চক্রের মূলহোতা সাবেক মেম্বার আলতাব হোসেন ও গ্রেফতারকৃত সোহেলের অপর সহযোগী রাজ্জাক কৌশলে পালিয়ে যায় বলে এলাকাবাসী জানান।
এপিবিএন এর সহকারী পুলিশ সুপার রওশন মোস্তফা জানান, হতদরিদ্রদের জন্য খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর চাল চিহিৃত কালোবাজারী আলতাব হোসেন, তার ছেলে সোহেল অপর সহযোগী রাজ্জাক নামীয়রা দীর্ঘ দিন ধরে খাদ্যপণ্যসহ বিভিন্ন দ্রব্যাদি কালোবাজারে ক্রয় বিক্রয় করে আসছে। চক্রটি আজ মঙ্গলবার ফুলবাড়ীয়া খাদ্য গুদাম সংলগ্ন এবং চান্দের বাজারে তাদের পৃথক একাধিক গুদামে মজুদ রেখে বেআইনীভাবে ক্রয় বিক্রয় করার খবর পেয়ে দুপুরে ফুলবাড়িয়া থানা পুলিশ ও এপিবিএন যৌথভাবে অভিযান চালায়। এ সময় চান্দের বাজারের গুদাম থেকে কালোবাজারী আলতাব মেম্বারের ছেলে সোহেলকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে এ গুদাম থেকে বিক্রয়ের জন্য নহে খাদ্য অধিদপ্তরের সীলমোহরকৃত ৩২৪ বস্তা চাল, যার ওজন ১৫ মেঃ টন ১শত কেজি, চাল বিক্রির নগদ সাড়ে পয়ত্রিশ হাজার টাকা ও খাদ্য অধিদপ্তরের সীলমোহলকৃত শতাধিক খালি বস্তা উদ্ধার করা হয়।
খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লীরা তরফদার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, এত বিপুল পরিমাণ চাল এবং খালি বস্তা মজুদ বিষ্ময়কর। আটককৃত চাল, খালিবস্তা ও উদ্ধারকৃত টাকা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করতে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান।

এলাকাবাসীসহ প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তার মতে, খাদ্য কালোবাজারী আলতাব হোসেন, তার ছেলে এবং রাজ্জাক নামীয়রা উপজেলার একাধিক হতদরিদ্রদের জন্য খাদ্য কর্মসূচীর ডিলারশীপের বিপরীতে কালোবাজারীর ব্যবসা করে আসছেন। সুত্রটির মতে, ডিলারদের লাইসেন্সে আলতাব ও রাজ্জাকসহ চক্রটি পুজি খাটিয়ে চাল উত্তোলন করে ভুয়া বিক্রয় তালিকা তৈরী করে সিংহভাগ চাল কালোবাজারে বিক্রি করছে। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের সহযোগীতায় এবং মোটা অংকের মাসোয়ারার বিনিময়ে আলতাব মেম্বার খাদ্য ব্যবসার কোন লাইসেন্স না নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে এক চেটিয়া বেআইনী ব্যবসা করে আসছেন। উল্লেখ্য এ বড়মাপের কালোবাজারীর হোতা আলতাব মেম্বার এর আগেও খাদ্য কালোবাজারীর ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছিল। এ ব্যাপারে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সাইদুর রহমান জানান, তিনি খাদ্য ব্যবসা করলেও তার কোন লাইসেন্স নেই। ফুলবাড়ীয়া থানায় কালো বাজারে খাদ্য ক্রয়বিক্রয়ের অপরাধ জনিত আইনে ্উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বাদী হয়ে মামলা করেন।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম