সংবাদ শিরোনাম

 

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে চলছে ‘জাতীয় এসএমই মেলা-২০১৭’। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের আয়োজনে পঞ্চমবারের মতো আয়োজিত এই মেলা শেষ সময়ে এসে জমে উঠেছে।

রোববার দুপুরে মেলা প্রাঙ্গণে দেখা গেছে, ছোট-বড়, নারী-পুরুষসহ সব বয়সি ও শ্রেণির মানুষের উপস্থিতি। বিক্রেতারা বলছেন, গতকাল শনিবার থেকে মেলায় লোক সমাগম বেড়েছে।

তারা বলছেন, শনিবার ছুটির দিনে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ভিড়ে মুখরিত ছিল মেলা। তাই ক্রেতা-বিক্রেতাদের আগ্রহের পরিপ্রেক্ষিতে একদিন বাড়ানোও হয়েছে মেলার সময়।

রোববার সকাল থেকে লোকজন কম দেখা গেলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় বাড়তে দেখা গেছে। এসএমই মেলার মূল আকর্ষণই হচ্ছে কুটিরশিল্প ও অর্গানিক দ্রব্য। তাই সৌখিন, রুচিশীলদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে মেলা প্রাঙ্গণ।

মেলায় গৃহস্থালী পণ্য সামগ্রী বিশেষ করে পাটজাত দ্রব্য বেশি প্রদর্শিত হয়েছে। এ ছাড়া ছেলেদের শার্ট, কোট, মেয়েদের কামিজ, ফতুয়াসহ নানা ধরনের পোশাক, শো-পিসসহ ঘর সাজানোর পণ্যও পাওয়া যাচ্ছে।

খাদ্য সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ফুলের মধু, আচার, ঘি, বিলুপ্ত প্রায় হরেক রকম ধানের চাল, খই, মুড়ি প্রভৃতি।

মেলায় অর্গানিক চাল বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৫০ টাকা থেকে ১৫০ টাকায়। ঘি ৬০০ থেকে সাড়ে ৮০০ টাকায়, মধু ৮০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায়। শার্ট ৫০০ থেকে দেড় হাজার টাকা, কামিজ ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকায়, শো-পিস ৫০ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ব্যাগ ১০০ থেকে ২ হাজার টাকা, জুতা ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা, সেন্ডেল ৩০০ থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া মেলায় পাটের ফেব্রিক্স, থান কাপড়, প্যাকেজিংয়ের মেশিন, ভোল্টেজ স্টেবুলাইজারসহ আনুষঙ্গিক পণ্যও পাওয়া যাচ্ছে।

এবারের মেলায় সারা দেশ থেকে ২০০টি এসএমই প্রতিষ্ঠান ২১৬টি স্টলে তাদের উৎপাদিত পণ্য প্রদর্শন করছে। মেলায় দেশে উৎপাদিত পাটজাত পণ্য, খাদ্য ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, চামড়াজাত সামগ্রী, ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী, আইটি পণ্য, প্লাস্টিক, সিনথেটিক, হস্তশিল্প, ডিজাইন ও ফ্যাশনওয়্যারসহ অন্যান্য ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের স্বদেশি পণ্য প্রদর্শিত ও বিক্রি হচ্ছে।

এবারের মেলায় ক্রেতা-বিক্রেতা ‘মিটিং বুথ’র ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া রক্তদান কর্মসূচি, মিডিয়া সেন্টার ও তথ্য কেন্দ্রের স্টলও রয়েছে।

রাজশাহীর উদ্যোক্তা উরসি মাহফিলা জানান, প্রথম দিকের চেয়ে গত দুই দিনে দর্শনার্থী-ক্রেতার সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। বেচা-বিক্রিও বেশ জমে উঠেছে। দুপুরের পর থেকে ক্রেতা-দর্শনার্থী আরো বাড়বে বলে আশা করা যায়, পাশাপাশি বিক্রিও ভালো হবে।

এদিকে মেলার আয়োজকেরা জানান, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্যের প্রচার, প্রসার, বিক্রয় এবং স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাজার সম্প্রসারণ, এসএমই উদ্যোক্তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়ন, যোগাযোগ ও সেতুবন্ধন তৈরিতে সহায়তা, এসএমই উদ্যোক্তা ও ভোক্তাদের মাঝে পারস্পরিক সংযোগ স্থাপন এবং পণ্য উৎপাদন ও সেবা সৃষ্টির ক্ষেত্রে ভোক্তাসহ বিভিন্ন মহলের সৃজনশীল মতামত ও পরামর্শ গ্রহণ করতেই এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

এবারের মেলায় প্রথমবারের মতো ব্যবসা বহুমুখীকরণ নারী উদ্যোক্তাদের প্রস্তুতি, নতুন ভ্যাট আইনে এসএমইবান্ধব ব্যবস্থা এবং নন-ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস টু এসএমই কাস্টমার ফর সাসটেইনেবল এসএমই ফাইন্যান্সিং শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই মেলা আগামীকাল সোমবার শেষ হবে।

প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এ মেলা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকছে।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম