সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : সরকার জোর করে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য জঙ্গিবাদকেসামনে নিয়ে এসে পৃষ্ঠপোষকতা করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রহুল কবির রিজভী।

রবিবার (১৯ মার্চ) সকালে নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘জঙ্গিবাদ নিয়ে আইজিপি বক্তব্যের সাথে র‌্যাবের ডিজি কোনো মিল নাই্। জঙ্গিবাদ দমনের ক্ষেত্রে সমন্বয়হীনতা্র একটা বিষয় চলছে। একটা ঘটনা ঘটনার সাথে সাথে অন্য দলের ওপর তারা দোষ চাপিয়ে দিচ্ছে। তাতে স্পষ্ট মনে হয় যে, এই ঘটনাগুলোর সাথে, এই উগ্রবাদেরই সাথে সরকারেরই একটা সম্পর্ক আছে। বরং তাদেরই যে গোপন এজেন্ডা, সেটিকে তারা বাস্তবায়ন করার জন্য জোর করে ক্ষমতায় থাকতে চায়, নির্বাচন চায় না, ভোটাদের ভোট কেন্দ্রে যেতে দিতে চায় না। আসতে দিলে তারা হেরে যাবে। এই আশঙ্কা থেকে উগ্রবাদ-জঙ্গিবাদের সাইনবোর্ডকে সামনে নিয়ে এসেছে এবং এটাকে পৃষ্টপোষকতা করছে। এটা স্বাভাবিকভাবে মানুষের মনে এই প্রশ্নটা আসছে, যাচ্ছে। সর্বত্র আলোচনা হচ্ছে।’

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে এবং রাজধানীর আশকোনা ও খিলগাঁওয়ে আত্মঘাতি জঙ্গিদের কর্মকান্ডের ঘটনায় ‍গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সরকারের সমন্বয়হীনতায় নিন্দা জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীকে ভুল তথ্য দিয়ে একটি মহল বিভাগ বিভাগের সাথে প্রশাসন বা নির্বাহী বিভাগের দূরত্ব তৈরি করছে বলে প্রধান বিচারপতি যে অভিযোগ করেছেন তাকে ‘যৌক্তিক’ অভিহিত করে রিজভী বলেন, ‘আমি প্রধান বিচারপতির এই বক্তব্যের সাথে দ্বিমত পোষণ করতে পারছি না। আমার মনে হয়, এদেশের মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে, আজকে রাষ্ট্র শক্তি যেভাবে ভয়ানক হয়ে উঠেছে, এখানে শেষ আশ্রয়স্থল আদালত।’

তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন সংবিধান যে দায়িত্বটি দিয়েছে বিচার বিভাগকে, তার যে স্বাধীনতা, সেই স্বাধীনতায় যদি হস্তক্ষেপ হতে থাকে, তাহলে মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল সেটি বিপন্ন হবে, মানুষ হতাশাগ্রস্থ হবে। গণতন্ত্র থাকলে আইনের শাসন নিশ্চত হবে এটিই প্রধান বিচারপতির বক্তব্যে প্রতিধ্বনিত হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রধান বিচারপতির অভিযোগের বিষয়টি এখন সর্বমহলে আলোচিত হচ্ছে। দেশের প্রধান বিচারপতি যখন এই ধরণের অভিযোগ উত্থাপন করেন, তখন তা জনমনে যৌক্তিক ভিত্তি পায়। কী পরিমান ভুক্তভোগী হলে স্বয়ং প্রধান বিচারপতিও ক্ষুব্ধ হয়ে নির্বাহী হস্তক্ষেপের বিষয়ে অভিযোগ তুলেন।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘বিচার বিভাগ রাষ্ট্রের একটি স্বাধীন অঙ্গ। সেখানে নির্বাহী বিভাগেরঅবিরত হস্তক্ষেপ চলতে থাকলে রাষ্ট্র ক্ষমতার ‘চেক এন্ড ব্যালেন্স’ নষ্ট হয়ে যায়। ক্ষমতাধর ব্যক্তির অমানবিক আচরণে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির আদালতে শরনাপন্ন হওয়ার শেষ আশ্রয়টুকু থাকে না নির্বাহী বিভাগের হিংস্রায়ী হয়ে দানবীয় রূপলাভ করে।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘বর্তমান বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের নেতা-মন্ত্রীদের কথা-বার্তা, উগ্রতা, অহমিকা ও দম্ভের প্রকাশ ঘটে সবসময়। তারা রাষ্ট্রের অন্যকোনো স্বাধীন অঙ্গের অস্তিত্ব স্বীকার করে না। একদলীয় শাসনব্যবস্থা আনুষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছে বলেই আজকে বিচার বিভাগের ওপর সরকারের হস্তক্ষেপ সবর্ত্র দৃশ্যমান।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাহী বিভাগের হস্তক্ষেপ নিয়ে প্রধান বিচারপতির পর্যএবকষণ আমলে নেবেন কিনা জানি না, তবে যদি প্রধানমন্ত্রী বিভ্রান্তকারীদের ভুল তথ্যে প্রভাব থেকে বেরিয়ে গণতন্ত্রের পথে হাটতেন, গণ-ইচ্ছাকে সন্মান দিতেন, তাহলে রাষ্ট্রের অঙ্গগুলো, রাষ্ট্রের সংবিধান প্রদত্ত ক্ষমতা বলে স্বাধীন সত্ত্বা নিয়ে কাজ করতে পারতো।’

প্রতিরক্ষা চুক্তি প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ‘ভারতের সাথে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে দেশে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গোপনীয়তা বলে আর কিছুই থাকবে না। শক্তিশালী দেশে হিসেবে ভারত নিয়ন্ত্রকের ভুমিকায় অবতীর্ণ হবে। তাতে আমাদের স্বাধীনতা বিপন্ন হবে বিপন্ন, সাবর্ভৌমত্ব হবে আরো দূর্বল। আমরা বলতে চাই, ভারতের সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তি দেশের জনগন কখনোই মানবে না।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আতাউর রহমান ঢালী, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, আবদুস সালাম আজাদ, তাই্ফুল ইসলাম টিপু, আবু নাসের মো. রহমাতুল্লাহ প্রমুখ।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম